সম্পাদকীয় সত্যি, ন্যায়বান ও জ্ঞানী নরপতিগণই আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দা এবং অসৎ ও মূর্খ নরপতিগণই নিকৃষ্টতম বান্দা। - আল হাদিস

নগরীর খাল-নালা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০২-২০১৮ ইং ০০:৪৭:১৪ | সংবাদটি ১০১ বার পঠিত

নগরীতে একটি সড়ককে ‘মডেল সড়ক’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সিটি কর্পোরেশন। বন্দর বাজার থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত সড়কটি এখন ‘মডেল সড়ক’। তাছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিচ্ছন্ন অভিযান, হকার উচ্ছেদ অভিযান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ইত্যাদি। অর্থাৎ নগরবাসীর নানা সুবিধার কথা ভেবে নেয়া হয়েছে এইসব উদ্যোগ। তবে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নগরীর খাল-নালা দখল মুক্ত করা। সামনে বর্ষাকাল। চলতি মওসুমে খাল-নালা গুলো সংস্কার ও দখলমুক্ত করা না হলে আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশংকা থেকে যাবে, যা প্রতি বছরই হয়ে থাকে। অর্থাৎ জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর ভোগান্তি একটা নিয়মিত ঘটনা। অথচ এই জলাবদ্ধতা মানবসৃষ্ট। মানুষের অসচেতনতার কারণেই খাল-নালা দখল হচ্ছে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নগরীর বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ছড়া ও বিভিন্ন খালের অংশ বেদখল হয়ে গেছে। ফলে বর্ষায় নগরীর অনেক অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। অথচ অতীতে সিলেট শহরবাসী জানতোই না জলাবদ্ধতা কী? কালের পরিক্রমায় শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোটবড় অনেক ছড়া আর খালই এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। নগরায়নের ফলে নগরীর ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খাল ও ছড়ার মধ্যে অর্ধেকই এখন খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। এইসব খাল-ছড়ার বেশীরভাগ অংশই দখল হয়ে গেছে। সেখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। গড়ে ওঠেছে ঘরবাড়ি, দোকান-পাট, বিপনীভবন। দেয়াল নির্মাণ করে খাল-ছড়ার প্রশস্ততা কমানো হয়েছে। এতে সঙ্কুচিত হয়েছে এগুলো। বন্ধ হয়েছে পানি নিষ্কাশনের পথ। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ভরাট হচ্ছে খাল-নালা-ছড়া। ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত পানি উঠছে রাস্তার ওপর, ঢুকছে দোকানপাট বাসাবাড়িতে।
শুধু খাল-নালা আর ছড়া নয়, নগরীর পুকুর-ডোবা-দিঘীও ভরাট হয়ে উঠছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিমালিকানায় থাকা এসব পুকুর-ডোবা ভরাট হচ্ছে বিভিন্নভাবে। অনেকে নিজের প্রয়োজনে ভরাট করছে নিজের মালিকানাধীন পুকুর-ডোবা। সেখানে নির্মিত হচ্ছে সুরম্য অট্টালিকা। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় বৃষ্টির পানি অনেকটাই নিষ্কাশিত হতো এসব পুকুর-ডোবায়। এখন আর সেই সুযোগ নেই। এখানে স্বাভাবিকভাবেই একটা কথা এসে যেতে পারে যে, যেহেতু পুকুর ডোবাগুলো ব্যক্তি মালিকানায় সেহেতু এগুলো ভরাট করবে মালিকরা, তাতে কার কী যায় আসে? কিন্তু তার পরেও যেখানে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত, সেখানে ব্যক্তিস্বার্থকে উর্ধ্বে তুলে ধরা কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত? নগরীর পুকুর-ডোবা-দিঘী যেগুলো রয়েছে সেগুলো রক্ষা করা এবং ভরাট হয়ে যাওয়ার পথে যেগুলো, সেগুলো উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, খাল-ছড়া দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবার একই কায়দায় এগুলো বেদখল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে খাল নালা। এজন্য শুধু দখলমুক্ত করলেই চলবে না। পরবর্তীতে যাতে পুন:দখল না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে নালা-নর্দমা-খালে অব্যাহতভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। আর এই ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে নগরবাসীকে। উল্লেখ করা যেতে পারে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা হয়েছে ডাস্টবিন। অথচ এর অনেকগুলোই হয় চুরি হয়ে গেছে, না হয় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন পুন:স্থাপন করতে হবে। সর্বোপরি নগরবাসীর মধ্যে ডাস্টবিনে ময়লা আবর্জনা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।    

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT