সম্পাদকীয় যারা সৎ পথে জীবিকা অর্জন করেন তারা আল্লাহর প্রিয় বন্ধু। - আল হাদিস

ভোজ্য তেলের উৎপাদন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০২-২০১৮ ইং ০২:১১:২৭ | সংবাদটি ১৯১ বার পঠিত

অব্যাহতভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এই তালিকায় আছে সোয়াবিন তেলও। দাম বাড়ানোর অজুহাত হলো যেহেতু এটি আমদানী নির্ভর পণ্য তাই বিদেশে দাম বাড়লে আমাদের দেশেও বাড়াতে হয় দাম। সম্প্রতি সোয়াবিন তেলের বাড়ানো হয়েছে আরেক দফা। অথচ আভ্যন্তরীণভাবে এই পণ্য উৎপাদন করা হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। অতীতে দেশে উৎপাদিত সরিষাই অভ্যন্তরীণ ভোজ্য তেলের চাহিদা পুরোটাই পূরণ করতো। ইদানিং সরিষার উৎপাদন কমে যাচ্ছে; কমে এসেছে সরিষার তেলের উৎপাদনও। বর্তমানে বাংলাদেশে শতকরা ৭০ ভাগ তেলের চাহিদা মেটানো হয় বিদেশ থেকে আমদানী করে। অতীতের তুলনায় সরিষার আবাদি এলাকা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে আমন এবং বোরো ফসলের মাঝখানে একটি স্বল্প মেয়াদী ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ করা হয়। তাছাড়া, দেশে উচ্চ ফলনশীল সরিষার জাতও আবিষ্কৃত হয়েছে। যার ফলন প্রচলিত জাতের সরিষা থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি।
বাঙালির প্রতিটি ঘরেই ভোজ্যতেল অপরিহার্য্য পণ্য। দাম যতোই বাড়–ক কমবেশি ভোজ্য তেল ছাড়া খাবার রান্না হয় না কোনো ঘরেই। আর ভোজ্য তেলের চাহিদা সিংহভাগই পূরণ করছে আমদানীকৃত সয়াবিন তেল। অতীতে সরিষার তেলই ছিলো একমাত্র ভোজ্য তেল। প্রতিটি ঘরেই সরিষার তেলের রান্নার সুগন্ধ কিংবা এই তেলের ঝাঁজ প্রতিটি মানুষকেই আকৃষ্ট করতো; বিমোহিত হতো গোটা পরিবেশই। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাষ হতো সরিষা। কিন্তু এক পর্যায়ে যখন সরিষার তেল বিদেশ থেকে আমদানী শুরু হলো, কমে আসতে থাকলো সরিষার উৎপাদন। সরিষার তেলের স্থানটি দখল করে বসলো আমদানী করা সয়াবিন তেল। আর আমদানী নির্ভর পণ্য বলেই অনেক সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে এর দাম নিয়ন্ত্রণ করার খুব একটা সুযোগ থাকে না। তাছাড়া, অনেক সময় এর ব্যতিক্রমও ঘটে। আমদানীকারকরা বিদেশে দাম না বাড়লেও তারা অভ্যন্তরীণ বাজারে বাড়িয়ে দিচ্ছে দাম।
সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পাম চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাদের মতে পাম চাষের মাধ্যমে আমরা ভোজ্য তেলে স্বনির্ভর হতে পারবো। ইতোমধ্যে বিভিন্নস্থানে পাম চাষ শুরুও হয়ে গেছে। আমাদের দেশে পাম এখন আর নতুন কিছু নয়। পাম তেলও বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। পাম গাছ একটি দীর্ঘজীবী উদ্ভিদ। এই গাছ ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফলন দেয়। পাম গাছ চাষ করে প্রতি বছর হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ দশ টন ভোজ্য তেল পাওয়া যায়। পাহাড়ি, চরাঞ্চল সমতল ও বাড়ির আঙ্গিনায় পাম গাছ লাগানো যায়। তাছাড়া এই তেল সংগ্রহ করা যায় নিজেদের উদ্যোগেও।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, সরিষার চাষ বাড়ানো জরুরি। এটা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। বিশেষ করে প্রচলিত সরিষার চেয়ে অধিক ফলনশীল সরিষা চাষেই এগিয়ে আসা উচিত। প্রয়োজন শুধু এ ব্যাপারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। এক্ষেত্রে অনাবাদি জমি কাজে লাগানো যায়। বাড়ির আশেপাশে পড়ে থাকা জমিতে সরিষা এবং পাম গাছ চাষ করা সম্ভব। সরকারিভাবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এতে উদ্বুদ্ধ হবে সাধারণ কৃষকও। সরিষা কিংবা পাম চাষ বাড়লে ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এর দাম নিয়ে কারসাজিও বন্ধ হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT