সম্পাদকীয়

জমির উর্বরতা হ্রাস

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০২-২০১৮ ইং ২৩:৪০:২৭ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

কীটনাশক ব্যবহারে হ্রাস পাচ্ছে জমির উর্বরতা। দীর্ঘদিন কীটনাশক ব্যবহার করতে গিয়ে দেশের বেশির ভাগ কৃষক এবং কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি বছর এ ধরনের চিকিৎসায় কৃষকদের ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে প্রতি হেক্টর জমিতে কীটনাশকের পেছনে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে গড়ে ৫০ হাজার টাকার বেশি। যা মোট উৎপাদনের ৪০ শতাংশ। শুধু মানুষের ক্ষতি নয়, দিনের পর দিন কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে ফসলি জমিতে ভয়াবহভাবে হ্রাস পাচ্ছে মাটির উর্বরতা। মাটি থেকে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে জিংকসহ অন্যান্য জৈব পদার্থ। দেশের দুই তৃতীয়াংশ ফসলি জমিতে ৭০ শতাংশ জিংক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এই ঘাটতি ৯০ শতাংশ।
কীটনাশক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার জন্য সরকার থেকে বলা হলেও দিন দিন এর ব্যবহার বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কীটনাশক আমদানী হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ১৯৫৪ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রতি বছর যেখানে তিন মেট্রিকটন বিষাক্ত কীটনাশক আমদানী হতো, সেখানে এখন বছরে দু’শ ৩০ গুণ বেশি কীটনাশক সরকারিভাবে আমদানী হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাই পথেও আসছে ভেজাল ও মেয়াদউত্তীর্ণ কীটনাশক। তাছাড়া, বর্তমানে দেশে একশ’ ৪টি কীটনাশক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর পাশাপাশি রাসায়নিক সারও জমির সর্বনাশ করে চলেছে। অতিরিক্ত এবং অপরিকল্পিতভাবে জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করায় জমির উর্বরা শক্তি কমে আসছে। এই সার যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে অনেক সময় অধিক ফলন পাওয়ার পরিবর্তে ফসলের স্বাভাবিক উৎপাদনই বিঘিœত হয়।
ফসলের জমিতে কীটপতঙ্গ দমনের জন্য কীটনাশকের পরিবর্তে দেশীয় নানা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট বেশ কয়েকটি ভয়ঙ্কর পোকা দমনে ‘ফেরোমন ট্র্যাপ’ নামে একটি সহজ, নিরাপদ ও কার্যকরি সমন্বিত পোকা দমন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। যা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। কীটনাশকের চেয়ে দশ ভাগের এক ভাগ এই পদ্ধতিতে ব্যয় হয়।
এছাড়াও, কীটপতঙ্গ দমনে রয়েছে আরও কিছু দেশীয় পদ্ধতি। কীটনাশক উদ্ভাবিত হওয়ার আগে এইসব পদ্ধতিতেই দমন করা হতো ফসলের অনিষ্টকারী পোকামাকড়। অপরদিকে জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈবসার ব্যবহার করলেও লাভবান হওয়া যায়। আসল কথা হলো, জৈবসার প্রয়োগ কিংবা দেশীয় পদ্ধতিতে কীটপতঙ্গ দমন করার পদ্ধতি আমাদের মূল্যবান কৃষি জমির উর্বরাশক্তি রক্ষা করে। এতে পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয় না। সুতরাং এ ব্যাপারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কীটনাশক আমদানী এবং উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। রাসায়নিক সারের ব্যবহারও হ্রাস করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেই আমরা আশা করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT