মহিলা সমাজ

জীবন স্রােত

সৈয়দা মানছুরা হাছান (মিরা) প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০২-২০১৮ ইং ০০:০৩:০৭ | সংবাদটি ১৭৫ বার পঠিত

মানুষের জীবন হচ্ছে বহতা নদীর মতো। নদী যেমন অবিরাম ছুটে চলে তেমনি জীবনও স্বাভাবিক নিয়মে চলতে থাকে। সময় ও স্রােত কখনও বশ মানে না। সময়ের হাত ধরে জীবন চলে যায় তার আপন নিয়মে। সময় মাঝে মাঝে আমাদেরকে এমন সব পরিস্থিতির সম্মুখীন করে, যা কখনও ভাবাই হয় নাই।
সময় পরিক্রমায় দিন-রাত-মাস-বছর-শতাব্দী হয়। আবার সময়ের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে মনীষীগণ সফলতার মাধ্যমে পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকেন। তেমনি সময়কে অপব্যবহার করেও কেউ কেউ জীবনে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। জীবনে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানো অনেক কঠিন ব্যাপার। যে সকল পরিস্থিতির সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারে সেই জীবনে সফলকাম হয়।
আমাদের এই জীবনটা খুবই বিচিত্র। তারচেয়েও বিচিত্র এই জগৎ সংসার। মানুষের জীবন ছোট্ট একটি গন্ডিতে আবদ্ধ। আবার এই জীবনের পরিসর আমাদের অজানা। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা থাকায় কেউ ভাবছে জীবনটা ক্ষণস্থায়ী আবার কেউ ভাবছে জীবনটা চিরস্থায়ী। জীবনকে অতিবাহিত করার মধ্যেও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন-কোন কোন মানুষ নানা ভোগ-বিলাসের মধ্য দিয়ে জীবনকে উপভোগ করছেন, আবার কেউ কেউ অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষার মধ্য দিয়ে জীবনকে অতিবাহিত করছেন।
সময় দিন-রাতের মাধ্যমে আমাদের জীবনের আয়ুকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে বেঁচে থাকার আকুতি। এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মায়াজালে বন্দী হয়ে আমরা জীবনকে অতিবাহিত করছি। একেক মানুষের বাঁচার প্রেরণা একেক রকম। বিখ্যাত দার্শনিক ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ‘ইবনে সিনা’ সারাজীবন জ্ঞান অন্বেষণ করে কাটিয়েছেন। যখন যেকোনো বিষয় না বুঝতেন, মসজিদে গিয়ে নফল নামাজ পড়তেন এবং সিজদায় গিয়ে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে বলতেন “হে আল্লাহ আমার জ্ঞানের দরজা খুলে দাও। জ্ঞান লাভ ছাড়া পৃথিবীতে আমার আর কোন কামনা নেই।” এভাবে তাঁরা জ্ঞানের চর্চা করে গেছেন এবং মানুষকে দিয়ে গেছেন আলোর পথের ঠিকানা। আমরা সবাই জানি, জীবনের পরিসমাপ্তি মৃত্যুতে। তারপরেও ক্ষণস্থায়ী জীবনের মোহে পড়ে আমরা ভুলে যাই পরকালের অনন্ত জীবনের কথা।
বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় বলতে হয়, প্রযুক্তি আমাদেরকে দিয়েছে বেগ এবং কেড়ে নিয়েছে আবেগ। প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছি আমরা। এর ফলে মানুষের মধ্যে কেমন যেন একটা অস্থিরতা কাজ করছে। অতিমাত্রায় কোন কিছুর ব্যবহারই ভাল নয়। আবার এটাও সত্যি যে, এই প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে আমাদেরকে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তবে জীবনে বেগ যেমন দরকার তেমনি আবেগও থাকাটা একান্ত প্রয়োজন।
মানবজীবন কাজের মধ্য দিয়েই মহীয়ান হয়। পৃথিবীতে মানুষের যেমন জন্ম রয়েছে তেমনি রয়েছে মৃত্যু। মানব জীবন এ পৃথিবীতে নশ্বর। মৃত্যুর সাথে সাথেই তা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের কাজ অমর। মৃত্যুর পরেও মানুষের মহৎ কাজ মানুষকে পৃথিবীতে সুমহান করে রাখে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, বিদ্রোহী কবি নজরুল, সেক্সপিয়ার, এরিস্টটল, বিজ্ঞানী নিউটন, চার্লস ডারউইন-এর মতো মহা মানবগণ তাদের কর্মে জগতে মহীয়ান ও গরীয়ান হয়েছেন। আমি ব্যক্তিগত জীবনে মনে করি, “গতিই জীবন মম, যতিই মরণ।” ভাল কাজ করলে মানুষ নন্দিত আর খারাপ কাজে নিন্দিত হয়। ইতিহাস জীবনের কথা বলে, অতীতের কথা বলে। কালের সাক্ষী হলো ইতিহাস। মানুষের জীবন অতীব মূল্যবান। কারণ জীবনের ক্ষুদ্র পরিসরে মানুষকে অনেক কিছু করতে হয়। জীবন স্রােতে ভেসে ভেসে মানুষ একদিন গন্তব্যে এসে উপস্থিত হয়। এই গন্তব্যের যাত্রা হল অনন্তকালের যাত্রা। সেখান থেকে আমরা আর কেউ ফিরতে পারি না।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT