মহিলা সমাজ

শহীদ মিনারে আমরা

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০২-২০১৮ ইং ০০:০৩:২৪ | সংবাদটি ১৬৫ বার পঠিত

পাড়ার ছেলে টুটুল। তানিমের সবচাইতে প্রিয় বন্ধু। খেলাধুলা বেড়ানো সবকিছুতে দুই বন্ধুর খুব ভাব। তানিমের বাবা আছেন, টুটুলের বাবা নেই। মাঝে মধ্যে টুটুল তানিমকে বলে, তানিম তুই কতো ভাগ্যবান, তোর বাবা আছেন, কিন্তু আমার বাবা নেই। অনেকদিন থেকে তার মনে নানান প্রশ্ন, কিন্তু সে কাউকে কিছুই জিজ্ঞেস করতে পারছে না, কেননা কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলেই তার মায়ের চোখ জলে টলটল হয়ে ওঠে। সব সময় যেনো কেমন উদাস হয়ে থাকেন, তার মা। মায়ের দিকে তাকালে তানিমের মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন তার কিছুই ভালো লাগে না।
তানিম টুটুলকে বলে মা আমাকে কত ¯েœহ করেন তারপরেও আমি আমার বাবার শূন্যতাকে কাটিয়ে উঠতে পারি না। মায়ের বিছানার পাশে দেয়ালে টাঙ্গানো বাবার ছবিটাকে কেমন যেনো ঝাপসা লাগে তার কাছে। তার স্মৃতিতে বাবা শুধু ছায়া।
টুটুল এখন আপন মনে বই পড়ে, স্কুলে যায় খেলাধুলা করে। তানিমকে ছাড়া সে একা কিছুই করতে পারে না। টুটুল বলে, তানিম আমি কবে বড় হবো, পড়ালেখা কবে শেষ হবে, কবে আমার মায়ের চোখের জল মুছে দিতে পারবো? আমার বাবা কেনো থাকবেনা? কি অপরাধ ছিলো আমার বাবার, কেনো আমার বাবাকে শত্রুর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিলো? কেনো তিনি শহীদ হয়েছিলেন? আর শহীদ দিবসই বা কি? এসব নানান প্রশ্নে টুটুলের মন যখন উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেছিলো ঠিক তখনই সে তার মামাকে প্রশ্ন করে জানতে চায় বলতো মামা, শহীদ দিবস কি? টুটুলের মামা সংক্ষিপ্তভাবে টুটুলকে বলেছিলেন আমাদের এই দেশ ছিলো পরাধীন এবং শত্রু কবলিত। তারা আমাদের ভাষার ওপর আঘাত আনে। আমাদের ভাষার সম্মান রক্ষার্থে অর্থাৎ বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তারাই হচ্ছেন ভাষা শহীদ। আর এই শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে গড়ে তোলা হয়েছে শহীদ মিনার, যেখানে আমরা প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ৮ই ফাল্গুন ভোর রাতে খালি পায়ে তাজা ফুল দিয়ে তাদেরকে সম্মান জানাই।
আমাদের এই বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে গিয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তারা শুধু শহীদই নন, তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আর এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের ছেলে তুমি, তুমি আমাদের গৌরব। মামার এই কথাগুলিতে টুটুলের মন ভারী খুশী হলো। সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বাবার গল্প শুনাতে বললো। মায়ের কাছে শোনা বাবার গল্প তার কাছে রূপকথার মতো মনে হলো। সে গর্বে বুক ফুলিয়ে বললো, মা আমার কোন দুঃখ নেই, আমি গর্বিত পিতার সন্তান। যিনি বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে শহীদ হয়েছেন। তুমি দোয়া করো মা, বাবার মতো আমিও যেনো বিপদে সাহস না হারিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি। তুমি চোখ মুছে ফেলো মা, দেখছো না ৮ই ফাল্গুন এর জন্য কত আয়োজন হচ্ছে, এ সময় কাঁদতে নেই মা।
এসো তুমি আমি আমরা সবাই মিলে এক সাথে শহীদ মিনারে যাই। আমাদের বাগানের সব তাজা টকটকে লাল ফুল দিয়ে মালা গেঁথে নিয়ে যাবো।
ভোররাতে শিশিরে ঝরা কুয়াশায় তাজা ফুলের সুবাসে মুখরিত হয়ে ওঠতে প্রতিটি শহীদ মিনার, যে শহীদ মিনারে আমাদের বাবার স্মৃতিকে ধরে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT