প্রথম পাতা শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউট-এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

ভালোবাসা পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটতে পারে -----দানবীর ড. রাগীব আলী

স্টাফ রিপোর্টারঃ প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০২-২০১৮ ইং ০৩:৪৭:৩৮ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো সিলেটের শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউট। গতকাল মঙ্গলবার এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা এখন আর সমাজের জন্য বোঝা নয়, সঠিক পরিচর্যা ও ভালোবাসা পেলে তাদের সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটতে পারে। নিজে, পরিবার ও সমাজ উন্নয়নের পাশাপাশি তারা সমাজের মূল ধারায় ফিরে আসতে পারে। এক্ষেত্রে শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের হল রুমে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শামীমা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ আবেদ হোসেন, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদক আব্দুল হাই, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লুৎফর রহমান, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের পরিচালক প্রফেসর ডাঃ মোঃ তারেক আজাদ, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর নির্বাহী সম্পাদক বিশিষ্ট গবেষক আবদুল হামিদ মানিক, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মোঃ কাপ্তান হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন-সিনিয়র শিক্ষক হ্যাপি রানী দাস, বক্তব্য রাখেন  লুৎফুন নাহার লুৎফা, রওশন আরা বেগম। অনুষ্ঠান যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন ইনস্টিটিউটের ফিজিওথেরাপিস্ট সুমন আহমদ, শিক্ষক হেলেনা আক্তার ও সুলতানা আক্তার। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মোঃ জিয়া উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে দেশের প্রথম সারির মেডিকেল কলেজ জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলী আরো বলেন,  বিশেষ শিশুরা আমাদের জন্য আল্লাহ পাকের নিদর্শন। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের বুঝাতে চেয়েছেন-চাইলে আমি তোমাকেও অনুরূপভাবে সৃষ্টি করতে পারতাম। সুতরাং তোমরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।
ড. রাগীব আলী বলেন, পৃথিবীতে বিশেষ শিশু হয়ে জন্ম নিয়ে পুরো পৃথিবীতে নিজেকে তুলে ধরার মতো বিজ্ঞানী ও দার্শনিক  রয়েছেন, যারা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন। আমাদের অভিভাবকদেরও একটু মানসিকতার পরিবর্তন হলে, বিশেষ শিশুটাকে বিকাশের জন্য সুযোগ করে দিলে-আপনার শিশুও সমাজের মূল ধারায় ফিরে আসবে। তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দানবীর রাগীব আলী বলেন, আর অবহেলা নয়, বিশেষ শিশুদের বিকাশে শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন পাশে রয়েছে। এই ইনস্টিটিউটের  উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন সব করা হবে। দানবীর রাগীব আলী অভিভাবকদের নিয়মিত শিশুদের স্কুলে নিয়ে আসার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিশেষ শিশুকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার দিন এখন আর নেই। একটু সচেতন হলে সেই বিশেষ শিশুটি আপনার কাজে লাগবে। বাংলাদেশে এখনো বিশেষ শিশুদের পরিচর্যা বা তাদের বিকাশের লক্ষ্যে ঢালাওভাবে স্কুল গড়ে উঠেনি। তবে সমাজ হিতৈষী দানবীর ড. রাগীব আলী সিলেটে বিশেষ শিশুদের  জন্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী  ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ আবেদ হোসেন বলেন, সমাজের অবহেলিতদের জন্য কিছু করার মানসিকতা নিয়ে দানবীর ড. রাগীব আলী তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন। এর অংশ হিসেবে দানবীর ড. রাগীব আলী বিশেষ শিশুদের জন্য ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে এখন আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা অবহেলার পাত্র নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে তাদের সমাজের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। এখন তাদের বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রকে আরো প্রসারিত করতে হবে। নিজের এবং সমাজের উন্নয়নে তাদের কাজে লাগাতে হবে।
রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, অটিজম কি আমাদের বুঝতে হবে। উন্নত দেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে কখনো বোঝা মনে করে না। তারা বিভিন্ন কলা কৌশলে তাদেরকে সমাজের মূল ধারায় নিয়ে আসে। আমাদের দেশেও সবাই সচেতনভাবে এগিয়ে আসলে শিশুদের সুপ্ত মেধার বিকাশে কাজ করা যাবে। আব্দুল হাই বলেন, শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউট একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকরা গুরুত্ব দিলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু সহজেই সাধারণ স্কুলে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে।
রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লুৎফর রহমান শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, অনেক সময় অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিয়ে ক্লাসে অনিয়মিত থাকেন, যা একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন শিশুর প্রতি অবজ্ঞার সামিল। একটু সুযোগ দিলেই এসব শিশু আর পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে থাকবে না। নিজেরাই একদিন বিকশিত হবে নিজ নিজ গুণে। লুৎফর রহমান শিক্ষক ও অভিভাবককে আরো আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান।  
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের পরিচালক প্রফেসর ডাঃ মোঃ তারেক আজাদ বলেন, শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের আবেগ অনুভূতির সাথে তারও আবেগ জড়িয়ে আছে। প্রতি মাসে এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি শিক্ষক-অভিভাবকদের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়া দরকার। ফলে একদিন তাদের মূল ধারায় ফিরে আসতে খুব একটা সময় লাগবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দৈনিক সিলেটের ডাক-এর নির্বাহী সম্পাদক, বিশিষ্ট গবেষক আবদুল হামিদ মানিক বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা আমাদের সমাজ থেকে বিচ্যুত নয়, তারা কারো না কারো ভাই অথবা স্বজন। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমরা কেউ কারো সমান নয়। সবার জ্ঞান সমান্তরাল হয় না। একইভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরও  সীমাবদ্ধতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের এই সীমাবদ্ধতা দূর করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বিশেষ ইনস্টিটিউট এর প্রয়োজন। গবেষক মানিক বলেন, সেই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই দানবীর ড. রাগীব আলী শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেন- যা আজ ৪ বছর পূর্ণ করেছে।  তিনি আরো বলেন, সবাই জানে সমাজকল্যাণে বিভিন্ন পর্যায়ে দানবীর রাগীব আলীর অবদান প্রসারিত। আমার বিশ্বাস এই ইনস্টিটিউট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন উন্নত বিশ্বে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, এই বিশেষ শিশুদের আমাদের দেশে যেভাবে চিহ্নিত করা হয়, সেখানে হয় না। তারা ঐ শিশুকে যথাযথ যতœসহকারে তাদের মেধার বিকাশে কাজ করে, এর সুফলও পায় তারা। বাসন আরো বলেন, দানবীর রাগীব আলী একজন ¯েœহশীল পিতা, অভিভাবক। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউট নামক বিশেষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। নজরুল ইসলাম বাসন, দানবীর রাগীব আলীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শামীমা নাসরিন তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। পরে ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ফেঞ্চুগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ
  • মোমেন-মুক্তাদীরের মিশন শুরু
  • সিলেট প্রতীক পেয়ে ভোটের লড়াইয়ে প্রার্থীরা
  • কাল প্রচারণা শুরু করবেন শেখ হাসিনা
  • খালেদার প্রার্থিতা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ
  • বিজয়ের মাস :
  • প্রার্থিতা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট
  • মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ভোট দিয়ে তরুণরা ইতিহাসের অংশীদার হবেন
  • ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন সিলেট বিভাগের ৩৮ প্রার্থী
  • সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মেয়াদ বাড়লো
  • সিলেট বিভাগের ১২ আসনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করবে জাপা ও খেলাফত মজলিস
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ
  • সিলেট বিভাগে চূড়ান্ত ভোট যুদ্ধে ১১৪ প্রার্থী
  • খালেদা জিয়া মামলা নিয়ে কানামাছি খেলেছেন: কাদের
  • সন্তানদের বেগম রোকেয়ার আদর্শে গড়ে তুলতে হবে
  • নৌকার প্রার্থী ২৭২, আওয়ামী লীগের ২৫৮
  • ধানের শীষের প্রার্থী ২৯৮ আসনে, বিএনপির ২৪২
  • টেকনোক্র্যাট ৪ মন্ত্রীকে অব্যাহতি
  • বিজয়ের মাস
  • ড. কামালের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখছে এনবিআর
  • Developed by: Sparkle IT