সম্পাদকীয়

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০২-২০১৮ ইং ০৩:০২:৩৮ | সংবাদটি ৯৮ বার পঠিত


মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবার কলেবর বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর শয্যা পরিধি বাড়ানোসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে, সারাদেশে মাদক দ্রব্য পাচার ও আসক্তিরোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি। জানা গেছে, সারা দেশে মাদকাসক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে মাত্র ৬০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে, যা অপ্রতুল। তাই ঢাকাসহ অন্যান্য যেসব স্থানে নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোর আসন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নিরাময় কেন্দ্রগুলো স্থাপনের এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবলও বাড়ানো হবে। অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পর্যায়ের কার্যালয়ের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করাসহ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।
মাদকের নেশায় ধ্বংস হচ্ছে লাখ লাখ তরুণ-যুবক। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই মাদকাসক্ত তরুণ যুবকদের করুণ কাহিনী চোখে পড়ে। মাদকাসক্ত সন্তানকে পুলিশে দেয়া থেকে শুরু করে আরও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে চলেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ মাদকাসক্ত রোগী রয়েছে। তাছাড়া মাদকদ্রব্যের আমদানী ও বিপণন ঘটছে এদেশে অবলীলায়। আর বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক চোরাচালানের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করার খবর অনেক আগে থেকে প্রচলিত। তাই এখানে বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য সহজলভ্য। আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশেই উৎপাদন হচ্ছে মাদকদ্রব্য। এগুলো বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ হয়ে পাচার হচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশে। বাংলাদেশ ছাড়াও মাদকদ্রব্য পাচারের আরও কয়েকটি ট্রানজিট হচ্ছে এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামী, চেনিন, বলিভিয়া ইত্যাদি।
মাদকদ্রব্য উৎপাদিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এগুলো পাচার হচ্ছে দেশে দেশে। যার ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশ। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য থেকে যায় আমাদের দেশেই। আর এগুলোই ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। যে কারণে এদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হয়ে ওঠেছে। আর তরুণ সমাজের মাদকে অসক্ত হওয়ার এটাও একটা কারণ। এছাড়াও পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্র্য, প্রেমে ব্যর্থ হওয়া, হতাশাসহ আরও অনেক কারণে মানুষ মাদকাসক্ত হচ্ছে। এই মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাছাড়া, মাদকাসক্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যর্থতা। অর্থাৎ একদিকে মাদকদ্রব্য সহজলভ্য অপরদিকে মাদকাসক্তরা সুচিকিৎসা পাচ্ছে না।
মাদক নিয়ন্ত্রণে যেমন জরুরি মাদক আমদানী উৎপাদন বিপণন নিয়ন্ত্রণ করা, তেমনি জরুরি এর চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এর চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা রোগীদের তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে  বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠা নিরাময় কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এগুলো নিজেদের তৈরী নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। এব্যাপারে সরকারের তেমন তদারকি নেই। আশার কথা এই যে, সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্য নীতিমালা আইন পাস করার পাশাপাশি বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনায় বৈধ অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া, বিভিন্ন কেন্দ্রের জনবল বাড়াতেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাদকাসক্তি নিরাময়ে সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারিত করে একে একটি শৃংখলার মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলেই আমরা আশা করছি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT