উপ সম্পাদকীয়

শিক্ষকতা পেশা না ব্রত

সোহেল আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০২-২০১৮ ইং ০৩:০৫:৫৯ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত


ব্রহ হলো সাধনা। ব্রতী হতে হয় স্বার্থহীন কাজের মাধ্যমে। শিক্ষকতা হলো স্বার্থহীন এমনইএকটি পেশা। চাওয়া-পাওয়ার সূক্ষ্ম হিসাবে ব্রতী হওয়া যায় না। এ পেশায় যারাই আসবেন মনে রাখতে হবে, এখানে সম্মানি অল্প সম্মান অনেক। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর উপর যে প্রভাব ফেলেন তা সুদূর প্রসারী।  শিক্ষক হলেন দর্পণ আর শিক্ষার্থী তার প্রতিবিম্ব। আমাদের অগ্রজগণ এমনই ব্রততার নজির রেখে সমাজ ও দেশ গঠনে অবদান রেখে গেছেন। যুগের পর যুগ এমনই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও বর্তমানে এক্ষেত্রে সংকট দেখা দিয়েছে। আর এমন সংকট সৃষ্টির মধ্য দিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, শিক্ষকতা পেশা না ব্রত? যদি ব্রত হয় তাহলে শিক্ষক ব্যক্তিকে সাধনার মাধ্যমেই উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার বিষয় হলো, মানুষ হিসেবে যেমন সকলেরই বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, তেমনি শিক্ষক ব্যক্তিটিরও তা রয়েছে। আর আমরা জানি, বেঁচে থাকতে হলে মৌলিক কিছু প্রয়োজনাদীর অপরিহার্যের কথা। মৌলিক প্রয়োজনের অন্যতম হলো অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। একটি পরিবারের একজন মানুষের উপর নির্ভর থাকে আরো বহুজন। পরিবার কর্তার দায়িত্ব যেমন পরিবারের অন্য সদস্যদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করা, তেমনি অধীনস্থদেরও সেসব মৌলিক প্রয়োজনাদি পাবার অধিকার থাকে। এসব দিক বিবেচনায় বেঁচে থাকতে মৌলিক অধিকার অপরিহার্য। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশে শিক্ষকদের যেমন করুণার দৃষ্টিতে দেখা হয়, তেমনি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও সদিচ্ছা দেখানো হয় না।
শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। সামাজিক মান-মর্যাদায় তার স্থানটি থাকার কথা ছিল সবার উপরে। কিন্তু আমাদের দেশে তেমনটি নেই। উক্ত বাস্তবতায় শিক্ষকতার পেশায় যেমন মেধাবীরা আসছেন না, তেমনি যারা এসেছেন তারাও মৌলিক প্রয়োজনাদি যোগানের সংকটে শিক্ষার্থীদের আগামীর সুনাগরিক তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, শিক্ষকতা পেশা না ব্রত? বাস্তবতা হলো, বর্তমানে শিক্ষকরা ব্রততা থেকে বেরিয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে শুরু করেছেন। শিক্ষাবোদ্ধাগণ বলেন, শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেয়ার কারণেই যত সমস্যা দেখা দিয়েছে।  সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কোচিং সেন্টার। মুখস্ত বিদ্যার উপর নির্ভর করে পরীক্ষায় এ-প্লাস পেলেও পারছে না জ্ঞানী হতে। ভালো-মন্দ, শ্রদ্ধা ভক্তির বিষয়টির ও উপস্থিতি নেই। শিক্ষকদের দাবি, পেশা হিসেবে না নিলে পরিবার পরিজনকে নিয়ে বেঁচে থাকা দায়। তাদের উক্ত কথায় শিক্ষার উদ্দেশ্য ও শিক্ষাদানকারীদের বিপরীতমুখী দাঁড় করিয়ে দেয় । তাদের এমন কথায় শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে যেমন দেখা দিয়েছে প্রশ্ন,তেমনি অনেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে ছোট-বড় দুর্নীতির সাথেও জড়িয়ে পড়ছেন। শিক্ষাবোদ্ধাগণ বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন যোগ্য শিক্ষক তৈরি করতে পারছে না, তেমনি শিক্ষকদের কোনভাবে বেঁচে থাকতে মৌলিক প্রয়োজনাদীর ব্যবস্থা দিতেও স্বক্ষম নয়। আমরা জানি, এ দেশে শিক্ষকরাই যত অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হন। দাবি আদায়ের জন্য শীত-গরম উপেক্ষা করে একের পর এক আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়। সরকার একের পর এক মেগা প্রজেক্ট হাতে নিলেও শিক্ষকদের জীবনমানের উন্নয়নে বিপ্লবী কোন পদক্ষেপ দিতে পারছেন না। উন্নত দেশে শিক্ষকদের ভিভিআইপি’র মর্যাদা দেয়া হয়। ইংল্যান্ড, জাপান, কুরিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষকদের মন্ত্রীর সমান মর্যাদা দেয়া হয়। তাদের জন্য সাব ট্রেনে আলাদা সীটের ব্যবস্থা করা হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সুবিধার কোন কমতি থাকে না তাদের। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও শিক্ষকদের বেশ সুবিধাদি প্রদান করা হয়। শিক্ষক মাস শেষে যে সম্মানী পান তা দিয়ে উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন বলেই তার চিন্তা-চেতনায় সর্বক্ষণ উন্নত প্রজন্ম তৈরির বাসনা থাকে। বাস্তবিক অর্থে তারা এ সম্মানটুকু পাবার অধিকার রাখেন। আমাদের দেশে এসব সুবিধার নিশ্চয়তা না থাকায় শিক্ষকরা শিক্ষাদানে আন্তরিক নয় যেমন, তেমনি শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক না হয়ে শিক্ষিত বেকার হয়ে  দেশ ও সমাজের বোঝা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, উত্তম পাঠ দানের নানা আইন করেও কাজ হয় না, যদি না পেটে ভাত থাকে। শিক্ষাবোদ্ধারা বলেন, আর যাই হোক শিক্ষকদের এমন ভঙ্গুর সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সুনাগরিক তৈরি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • দেশীয় চ্যানেল দর্শক হারাচ্ছে কেন?
  • বিশ্ব বরেণ্যদের রম্য উপাখ্যান
  • আশুরা ও কারবালার চেতনা
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী
  • অধ্যাপক ডাক্তার এম.এ রকিব
  • শিশু নির্যাতন ও পাশবিকতা
  • প্রবীণদের প্রতি নবীনদের কর্তব্য
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • Developed by: Sparkle IT