উপ সম্পাদকীয়

মালয়েশিয়া ভ্রমণ

মুহাম্মদ ছয়েফ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০২-২০১৮ ইং ০৩:০৭:২১ | সংবাদটি ১৫৪ বার পঠিত

১লা ডিসেম্বর ২০০৮ খ্রি.। হেমন্তের বিকেল। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উদ্যেশে আমরা দু’বন্ধু যাত্রা শুরু করি। বাস ভর্তি যাত্রী নিয়ে এসি বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। সঙ্গীয় বন্ধুর সাথে যাত্রা পথে গল্প শুরু করি। প্রায় চার ঘণ্টার যাত্রাপথে আমরা মজা করে গল্প করলাম। সিলেট হতে ঢাকা চমৎকার পিচ ঢালা রাস্তা। দু’পাশে ফসলের মাঠ। ধানের গাছ তখনও পরিপক্ষ হয়নি। চাষীগণ কাস্তে হাতে ধান ক্ষেতে নামেননি। ধান গাছের পুষ্পমঞ্জরী বাতাসে তাজা গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাস ভর্তি যাত্রী। কেউ টিভির পর্দায় নাটক দেখছে, কেউ ঝিমাচ্ছে, কেউ মুঠো ফোনে কথা বলছে আবার কেহ কানের সাথে সংযোগ দিয়ে কিছু একটা শুনছেন। কিন্তু রাস্তার দু’পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার সৌভাগ্য আছে ক’জনার। তা নিজে অর্জন করে নিতে হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হয় অন্তর্চক্ষু দ্বারা। বাংলা মাতার অপরূপ রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি সাহিত্যিকগণ বিখ্যাত কাব্য-উপন্যাস রচনা করেছেন।
এক সময় বাসটি যানজটের নগরী নামে খ্যাত ঢাকায় প্রবেশ করল। তীব্র যানজটের দরুণ বাসটি এই এগুচ্ছে তো ঐ থামছে। চার দিক থেকে গাড়ির ভিপুর শব্দে কর্ণ পর্দা ভেত করে ভিতরে ঢুকছে। এভাবে অনেক সময় পর অবশেষে আমরা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উপস্থিত হই। বিমান বন্দরে ঢুকে বহির্গমন সংক্রান্ত কার্য সম্পাদন করে আমরা ওয়েটিং রোমে বসলাম।
আমাদের এ যাত্রার মূল কারণ মালয়েশিয়া গমন করা। ইহা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। এ মুসলিম রাষ্ট্রের আয়তন ৩,২৯,৭৫১ বর্গ কিলোমিটার। লোক সংখ্যা ২.৫১ কোটি। অধিবাসীকে মালয়ী বলে। ভাষা মালয়। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭৬ জন লোক বাস করে। জনসংখ্যার ঘনত্ব কম। ইহা গ্রীষ্ম প্রধান দেশ। সারা বছরে ২টি ঋতু। শীত ও গ্রীষ্ম। তবে গ্রীষ্মকাল প্রধান। ফল-মূল, শাক-সবজি প্রায় সারা বছর জন্মে। এখানকার প্রকৃতি বাংলাদেশের সাথে অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাঠ-ঘাট সবুজ প্রান্তর, গাছ-গাছালী, ফল-ফলাদী বিদ্যমান। মাঠে ঘন সবুজ ঘাস। গরু চরে।
রাত ১টা ৪০ মিনিটের সময় আমরা মালয়েশিয়াগামী এয়ারবাসে আরোহন করি। টানা ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর মালয়েশিয়ার আকাশে এয়ারবাসটি  এসে পৌঁছিল। তখন রাতের শেষভাগ। মালয়েশিয়ার মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বিমানের জানালা দিয়ে তাকালাম। ভোরের আভা চোখে পড়ল। ভূমিতে সারি সারি পাইনঘাট দাড়িয়ে আছে বলে মনে হলো। কোথাও টিলা, কোথাও উঁচু ভূমি, কোথাও বনভূমি আবার কোথাও সরু রাস্তা চোখে পড়ল। প্রথম দর্শনে মালয়েশিয়ার ভূমি বাংলাদেশের মতো মনে হলো। প্রভাতের ক্ষীন আলোয় আমাদেরকে বহনকারী উড়োজাহাজটি এক সময় মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পা রাখল। যাত্রীগণ ধীরে ধীরে নেমে পড়েন। বিমান বন্দরের ভিতরের কার্যাদি সম্পাদনক্রমে আমরা দু’বন্ধু বেরিয়ে পড়ি। বাইরে দাঁড়িয়ে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করি। সুদূর বাংলাদেশ থেকে এসে মালয়েশিয়ার মাটিতে পা রেখে অনেক আনন্দ উপভোগ করি। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য। চর্তুদিকে সবুজ প্রান্তর। ঘন সবুজে ঘেরা মাঠ। সারি সারি তরু মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। মৃদু মন্দ বায়ু তরু শাখে দোলা দিচ্ছে। মাঝে মাঝে পীচ  ঢাকা চমৎকার রাস্তা আঁকা বাকা হয়ে দূর দূরান্তে হারিয়ে গেছে।
একজন টেক্সী চালকের সাথে কথা হলো। কুয়ালালামপুর শহরে যাব। বিমান বন্দর থেকে প্রায় ১ ঘণ্টার পথ। টেক্সি চালক ভালো ইংরেজি জানে। পথিমধ্যে তার সাথে আলাপ করে এখানকার থাকা খাওয়া ও চলাফেরার প্রাথমিক ধারনা পেলাম। ঘণ্টায় এক’শ কুড়ি কিলোমিটার গতিতে টেক্সি চলল। প্রশস্ত রাস্তা, দু’দিকে গাঢ় সবুজ মাঠ, ঘাট, টিলা, প্রান্তর ইত্যাদি। পাইন জাতীয় বৃক্ষ অনেক উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যান চলাচল রাস্তায় কম চোখে পড়ল। মাঝে মধ্যে হালকা ও ভারী যান দেখা গেল। রাস্তার পাশদিয়ে লোকজনের চলাচল নেই বললেই চলে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর আমরা কুয়ালামপুর শহরে পৌঁছি। শহরে লোকজন ও যানবাহন চলাচল কম দেখে অবাক হলাম। যানজটের দেখা পেলাম না। অবাধে গাড়ি চলেছে। প্রথম দর্শনে মালয়েশিয়ার প্রাক্তন রাজধানী কুয়ালালামপুরকে মেঘা সিটি বলে মনে হলো না। শহরে লোক সংখ্যা কম, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটক এখানে আসে। তবুও লোকসংখ্যা ঢাকার চেয়ে অনেক অনেক কম। পর্যটকদের আগমনে শহর মুখরিত হয়ে ওঠে। তাই ইহাকে পর্যটকদের নগরী বললে ভুল হবে না।
এখানকার স্থানীয় সময় বেলা ১১ টার সময় আমরা পেট্রনাস টুইন টাওয়ারের কাছে নামি। দিনের বেলায় অফিসের সময়ে লোকজন যার যার কাজে নিয়োজিত থাকে বলে এ সময় যান চলাচল ও লোকের আনা গোনা কম বলে জানা গেল। বিকাল ৫ টার পর হতে গভীর রাত পর্যন্ত যান চলাচল ও লোকের আনা গোনা খানিক বৃদ্ধি পেতে দেখা গেল। শহরের টেক্সি চালক, দোকানী, হোটেল বয় ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার লোক ভালো ইংরেজি বলতে পারে। ‘ককোনাথ গেস্ট হাউজ’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে আমরা ওঠলাম। হোটেলের মালিক মালয়ী এবং ম্যানেজার ভারতীয়। তাদের কাছ থেকে এখানকার দর্শনীয় বিভিন্ন স্থানের ধারণা পেলাম। আমরা কোয়ালালামপুর শহরের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করলাম। জিনিষপত্রের দাম চওড়া। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পেশায় স্বদেশীদের সাক্ষাৎ পেলাম।
মনো রেল এখানকার এক আকর্ষণীয় যানবাহন। দেখতে নতি দীর্ঘ রেল গাড়ির মতো, তবে এর চলার পথ ভূমি হতে প্রায় ৫০ ফুট উপর। অনেকটা রেল লাইনের মতো ৫০ ফুট উপর দিয়ে মনো রেল এর রাস্তা নির্মিত। রাস্তাটি কোথাও সোজা, কোথাও আংশিক বাঁকা হয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। ইহা চড়তে হলে সিঁড়ি দিয়ে একটি লম্বা মঞ্চের উপর ওঠতে হয়। রেল এসে মঞ্চের কাছে থাকে। যাত্রীগণ যার যার মতো করে ওঠে। গতি পথে নির্ধারিত স্থানে থামে। যাত্রী ওঠানামা করে। নিচের রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাতায়াতে কোনো অসুবিধা হয় না। ফলে যানজট নিরসনে মনো রেলের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তাছাড়া শহরের বিভিন্ন রাস্তার ওপর দিয়ে নির্মিত অভার ব্রীজগুলো যানজট নিরসনে সহায়তা করে।
[চলবে]

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • অরিত্রী : অস্তমিত এক সূর্যের নাম
  • স্বপ্নহীন স্বপ্নের তরী
  • মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান
  • নয়া রাষ্ট্রদূত কী বার্তা নিয়ে এসেছেন?
  • ফেসবুক আসক্তি
  • কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভা প্রসঙ্গে
  • শিক্ষার্থীদের শাস্তি এবং অরিত্রী প্রসঙ্গ
  • রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ শিল্প টিকিয়ে রাখা ও উন্নয়ন জরুরি
  • হাফিজ মোবাশ্বির আলী
  • কীর্তিগাথা ক্রিকেটে অদম্য টাইগাররা
  • তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণ হোক
  • দেশী মাছের আকাল ও সংরক্ষণ
  • Developed by: Sparkle IT