প্রথম পাতা

যাদের হৃদয়ে পাকিস্তান, তাদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডাক ডেস্ক : প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০২-২০১৮ ইং ০২:৩১:০৪ | সংবাদটি ৪৮ বার পঠিত

 বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাদের হৃদয় থাকে পাকিস্তানে, তারা বাংলাদেশে থেকে সব রকমের আরাম আয়েশ ফল ভোগ করবে আর অন্তরাত্মাটা পড়ে থাকবে ওখানে (পাকিস্তানে)। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
পেয়ারে পাকিস্তানওয়ালাদের থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে চলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের যারা মন্ত্রী বানিয়েছিল, লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত পতাকা এদের হাতে তুলে দিয়েছিল, তাদের ব্যাপারে জাতিকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের ক্ষমা করবেন না। জাতি যেন কোনোদিন তাদের ক্ষমা না করে।
গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বাংলা ভাষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নাকি বাংলা ভাষায় পড়ানো হয় না। এটা কেন? কেন বাংলায় পড়ানো হবে না। আমরা দাওয়াতের কার্ডও এখন বাংলা ভাষায় লিখতে চাই না। মনে হয় এটা যেন ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেছে। এটা কেন হচ্ছে জানি না। বিয়ের কার্ডটাও কেন বাংলা ভাষায় লেখা হবে না। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা, কাজেই আমরা ইংরেজি শেখার বিপক্ষে নই। কিন্তু যে ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি তার চর্চা করব না কেন? কাজেই বলব, দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এতে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। তবে সঙ্গে সঙ্গে মায়ের ভাষাÑ যে ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি তার চর্চাও থাকতে হবে। এ বিষয়ে পরিবার থেকেই উৎসাহিত করতে হবে।’
ইংরেজিতে রায় লেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় ইংরেজিতে লেখা হয়। আমাদের অনেকে আছেন ইংরেজি বোঝেন না। তার উকিল যা বোঝাবেন তাকে তা বুঝতে হচ্ছে। সেই উকিল সাহেব ঠিকমতো বোঝাতে পারছেন নাকি আরও কিছু টাকা খসানোর বা পকেট খালি করার জন্য অন্যভাবে বোঝাচ্ছেন তা কিন্তু তার মক্কেল বুঝতে পারেন না। তবে, এখন নিম্ন আদালতে মোটামুটি বাংলায় রায় লেখা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি সময় দেখেছি মানুষ নিজে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে সাহস পেতেন না। সরকারি চাকরি পেতে মুক্তিযোদ্ধা কথাটি লিখতেও ভয় পেতেন। কারণ, তাহলে চাকরি পাবেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই অবস্থা বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, দীর্ঘ ৯ বছর আমরা সরকারে থাকার কারণে এখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে মানুষ গর্ববোধ করেন। এখন আর মানুষ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে ভয় পায় না। তারা এখন আর ভীত সন্ত্রস্ত হন না।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জেলে বসে ভাষার আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার দিকনির্দেশনা দিতেন। ১৯৪৮ সাল থেকে ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয়। ৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে তা আদায় করে ছাত্রজনতা।
আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণয়ন হয়। ওই শাসনতন্ত্রে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়। ওই সময় ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়।
আমরা যা কিছু পেয়েছি সংগ্রামের মধ্য থেকে পেয়েছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন। সেই সংগ্রামের পথ ধরে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রতিটি অর্জনের পেছনে এদেশের জনগণের ত্যাগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী এখন বাংলাদেশের ওপর দায়িত্ব পড়েছে মাতৃভাষাকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করার আর আমরা এর জন্যই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউশন গঠন করেছি।
তিনি বলেন, “ভাষা শহীদরা রক্তের অক্ষরে মাতৃভাষার মর্যাদা দিয়ে গেছেন। আমরা সেটা শিখব না কেন? আমরা বলব না বা চর্চা করব না কেন?”
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর আগে বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার চর্চা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
বাংলা ভাষা চর্চার ঘাটতি বা গলদ খুঁজে বের করতে ‘ভাষা কমিশন’ গঠনের দাবিও জানান রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন,  পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাবসিডিয়ারি হিসাবে ‘বাংলা’ নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা চর্চা করা হচ্ছে না।
নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো ভাষাই সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করছি না। বাংলা হচ্ছে না, ইংরেজি হচ্ছে না, আরবি হচ্ছে না। অভিভাবকদের সচেতনতা নেই।”
শেখ হাসিনা এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমি জানতাম না.. এই বিষয়ে ইউজিসির সাথে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের আলোচনা করতে হবে; এটা কেন? বাংলা ভাষার প্রতি এই অবহেলা কেন?
শেখ হাসিনা বিকৃত বাংলা উচ্চারণে কথা বলার সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, এখন ইংরেজি টোনে .. ভাষাটাকে বিকৃত করে বলা; ওটাও যেন কেমন একটা চর্চা শুরু হয়ে গেছে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “অন্য ভাষা শেখার বিপক্ষে কিন্তু আমরা না। বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখতে গেলে আমাকে অন্য ভাষা শিখতেই হবে। তবে অন্য ভাষা না শিখলে আমরা উন্নত হতে পারব না; এটা আমি বিশ্বাস করি না।”
জাপানিদের নিজ ভাষা চর্চার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নিজেদের ভাষায় কথা বলেই তারা নিজেদেরকে বিশ্বে সবথেকে উন্নত জাতি হিসাবে গড়ে তুলেছিল। এখনও তারা জাপানি ভাষাই ব্যবহার করে।”
সেই সঙ্গে অন্য ভাষা শিক্ষার উপরও জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “ইংরেজি একটা আন্তর্জাতিক ভাষার মাধ্যম হয়ে গেছে।”
সাইনবোর্ড বাংলা না লেখার কথাও বলেন রফিকুল ইসলাম, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সাইনবোর্ডগুলোও ইংরেজিতে লেখা হয়। অন্য ভাষা দিতে চাইলে দিক। কিন্তু মাতৃভাষাটা তো বড় করে লিখবে। অন্য ভাষাটা ছোট করে লিখবে।”
উচ্চ আদালতের রায় ইংরেজিতে লেখার কথা মনে করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক রফিকুল আরো বলেন, “আর কত শত বছর বাংলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে?”
নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শিক্ষক রফিকুল ইসলামের প্রত্যেকটি কথা টুকে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এগুলো কীভাবে সুরাহা করা যায়; সেই ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে।”
পিতা ও পরিবারের সদস্যদের হত্যাকা-ের পর বিদেশে নির্বাসিত জীবনে বাংলা চর্চায় প্রতিবন্ধকতার কথা বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ৭৫ এর পর দেশে ফিরতে পারি নাই। ছয়টা বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। ছেলে-মেয়েগুলো বিদেশেই লেখাপড়া শিখতে বাধ্য হয়েছে। যেখানে বাংলা শেখার এতটুকু সুযোগ ছিল না।”
ভারতের শিক্ষাগ্রহণের সময় সন্তানদের বাংলা শেখানোর চেষ্টা চালানোর কথাও বলেন তিনি।
“আমি ও রেহানা.. আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি ওই সীমিত অবস্থায় .. ওই হোস্টেলে পড়াশোনা করেছে। প্রতি সপ্তাহে বাংলায় চিঠি লিখতাম। ছুটিতে আসলে বাংলা শেখাতে চেষ্টা করতাম।”
শেখ হাসিনা বলেন, “তারা বিদেশে লেখাপড়া করেও যতটুকু শুদ্ধ করে বাংলাটা বলতে পারে.. আমরা তো দেখি, বাংলাদেশে থেকে একটু ভালো ইউনিভার্সিটিতে পড়লে, তারাও যেন বাংলা বলতেই চায় না, বলতেই পারে না বলতে গেলেও একটু বিকৃত করে বলে। সেখানেই দুঃখ লাগে।”
“আমাদের তো বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হয়েছিল’-মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যারা এখানেই মানুষ হচ্ছে; তাদের মধ্যে এই বিকৃতি থাকবে কেন? মায়ের ভাষার চর্চাটা থাকতে হবে। সেটার জন্য পরিবার থেকে উৎসাহিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরুও বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • বিশ্বনাথে একই পরিবারের ৭ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের
  • নবীগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  • নবীগঞ্জের করগাঁওয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০
  • নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নিহত
  •   ম্যাচ প্রিভিউ ইন্ডিয়াকে হারাতে লড়তে হবে টাইগারদের
  • কানাইঘাট থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতি মামলার ২ আসামী গ্রেফতার
  • শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি
  • বিএনপি নেতৃবৃন্দের নিন্দা
  • হবিগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার করলেন নবাগত পুলিশ সুপার
  • দুই ছাত্র বহিষ্কার এসআইইউ শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে
  • ফলোআপ : বিশ্বনাথে কিশোরী রুমী হত্যাকান্ড ঘাতক শফিকসহ গ্রেফতারকৃত ৪ জনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি
  • কোটা বাতিলের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন
  •   দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ৯ কোটি ছাড়াল
  • দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন সমাপ্ত
  • প্রধানমন্ত্রী লন্ডন যাচ্ছেন আজ
  • বর্তমান সরকারের ১০ বছরে দেশের প্রতিটি সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে
  • আফগানদের কাছে বাংলাদেশের ‘অসহায় আত্মসমর্পণ’
  • ভোলাগঞ্জের রূপ-সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে
  • হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ভাটি এলাকায় ডুবন্ত বাঁধের দৈন্যদশা
  • আজ পবিত্র আশুরা
  • Developed by: Sparkle IT