সম্পাদকীয় আলো ও বাতাসের ওপর পৃথিবীর সবার অধিকার যেমন সমান, তেমনি পৃথিবীর সকল সম্পত্তির ওপর মানুষের অধিকার সমান। -কার্ল মার্কস

সারা দেশে তুলা চাষ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০২-২০১৮ ইং ০০:৪০:০১ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান তুলা আমদানীকারক দেশ। অথচ বাংলাদেশের হওয়া উচিত ছিলো প্রধান তুলা ‘রপ্তানীকারক’ দেশ। কারণ বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বস্ত্র শিল্পে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর কাঁচামাল হিসেবে আমদানীকৃত তুলা ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় পুরোটাই। এই প্রেক্ষাপটে তুলা চাষের বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয় প্রায় দুই বছর আগে। একশ ২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছর। দেশের প্রায় সব জেলায়ই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা। তবে নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে এই প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশি। সরকার আশা প্রকাশ করে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বস্ত্রখাতে আমদানী নির্ভরশীলতা থাকবে না। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ কাজে নারীদের অংশগ্রহণ আর নারীর ক্ষমতায়ন বাড়বে।
প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত নজরে পড়ছে না। তারপরেও আমরা আশাবাদী যে, সরকার যথাযথ তদারকির মাধ্যমে তুলা চাষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের আওতায় ৪৬ জেলার একশ’ ৪৯ উপজেলার এক লাখ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করা হবে। এই জমিতে সাত থেকে দশ লাখ বেল কাঁচা তুলা উৎপাদন করা সম্ভব। শিল্পখাতে রাজস্ব আয়ের ৪০ ভাগ এবং মোট রাজস্ব আয়ের ১৩ ভাগ বস্ত্র শিল্প হতে পাওয়া যায়। এই খাতে ৫০ লাখের বেশি জনবল সম্পৃক্ত। তাদের বেশির ভাগ নারী। অথচ এই খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশে নেই। স্থানীয় বস্ত্রশিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দেশের বস্ত্রকলগুলো কাঁচা তুলার চাহিদা মেটানোর জন্য বছরে প্রায় পাঁচ কোটি বেল তুলা আমদানী করে। বছরে এই পরিমাণ তুলা আমদানী করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। দেশে তুলা চাষ করে এই টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
আমাদের একটা সম্ভাবনাময় শিল্প হচ্ছে বস্ত্রশিল্প। নানা প্রতিকুলতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে এই শিল্প। বিশ্ববাজারে কুঁড়িয়েছে সুনাম। অথচ এই শিল্প পুরোটাই আমদানীকৃত তুলার ওপর টিকে আছে। বর্তমানে দেশে প্রায় এক লাখ বেল তুলা উৎপাদিত হয়। যা চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ পূরণ করছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, তুলার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। দেশের তিনশ’ ৮৩টি সুতা তৈরির কারখানায় বার্ষিক আঁশ তুলার চাহিদা প্রায় ৪১ লাখ বেল। দেশে উৎপাদিত এক লাখ বেল ছাড়া বাকি প্রায় ৪০ লাখ বেল তুলা বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। বিশেষভাবে ভারত, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, আমেরিকা, আফ্রিকাসহ অন্যান্য দেশ থেকে তুলা আমদানী করা হয়। বর্তমানে দেশে তুলা চাষের উপযোগী প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি রয়েছে। যার মধ্যে ৩৫ হাজার হেক্টরে তুলা চাষ হচ্ছে। বাকি জমি রয়েছে অব্যবহৃত।
তুলা উৎপাদিত হয় সারা দেশেই। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করলে দেশে উৎপাদিত তুলা দেশের বস্ত্রকলগুলোর চাহিদা পূরণ করে রপ্তানীও করা সম্ভব। আর এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবানই হবে। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে তামাক চাষ করছে কৃষকরা। বহুজাতিক সিগারেট-বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক লাভের প্রলোভন দিয়ে কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। এই কৃষকদের ফিরিয়ে আনতে হবে সেই পথ থেকে। তাদেরকে তুলা চাষে আগ্রহী করে তোলা জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে তুলা চাষীদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতে হবে। তারা যাতে তুলা চাষে সঠিক মূল্য পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তুলা চাষে কৃষকরা এগিয়ে আসলে শুধু যে তুলার উৎপাদন বাড়বে তা নয়, এতে নতুন নতুন বনায়নও সৃষ্টি হবে। যা হবে আমাদের পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। এতে কমবে বেকারত্বও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT