সম্পাদকীয়

পরিবেশ রক্ষায় খালি জমি

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০২-২০১৮ ইং ০১:১১:৪৪ | সংবাদটি ১১৪ বার পঠিত


পরিবেশ রক্ষায় খালি জমির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশে নানা কারণে খালি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে আমাদের পরিবেশে। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ নিয়ে চলছে ব্যাপক মাতামাতি। পৃথিবীর পরিবেশ বিপর্যয়পূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতিদিন বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ চাষাবাদযোগ্য জমি হারাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসন খাতেই বেশি জমি ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের আয়তন ৫৬ হাজার ছয়শ’ ৭৭ বর্গমাইল। অর্থাৎ এক লাখ ৪৭ হাজার পাঁচশ’ ৭০ বর্গকিলোমিটার। আর এতে জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৬ কোটি। যা প্রতি বছর বাড়ছে এক দশমিক তিন শতাংশ হারে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশের আবাসন সমস্যা নিরসনে রয়েছে তিন কোটি ২১ লাখ হাউজহোল্ড। যা ৫৯ হাজার দু’শ ২৯টি গ্রাম বা মৌজায় বিদ্যমান। এই বাড়িঘরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং কমছে খালি জমি।   
আবাসনের জন্য কমছে কৃষি জমি, কমছে খালি জমিও। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিলো সাড়ে সাত কোটি। আর আবাদি জমির পরিমাণ ছিলো ৯৯ লাখ হেক্টর। বর্তমানে ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে আবাদি জমির পরিমাণ ৭০ লাখ হেক্টরের বেশি নয়। অর্থাৎ গত ৪৭ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি এবং আবাদি জমি কমেছে ত্রিশ লাখ হেক্টর। দেশের মোট ভূমির ২০ শতাংশ শহর এলাকাসহ বাড়ি ঘর তথা আবাসভূমি হিসেবে ব্যবহৃত এবং যা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে মাথা পিছু জমির পরিমাণ সাত দশমিক দশ হেক্টর। এই জমির পরিমাণ বছরে গড়ে তিন শতাংশ হারে কমছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত বাড়িঘর, রাস্তা ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, পুকুর খনন ইত্যাদি।
উল্লেখ করা যেতে পারে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৮০ লাখের বেশি মানুষ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের আওতায় বিভিন্ন দেশে কর্মরত। তাদের আহরিত যে রেমিটেন্স বা অর্থ আসে, তার অধিকাংশ ব্যয় হয় নতুন বাড়িঘর নির্মাণে। যেমন কোনো পরিবারের একজন যদি বিদেশ যায় জীবিকা নির্বাহের জন্য, তবে তিনি প্রথমেই নতুন একটি বাড়ি তৈরির কথাই ভাববেন। আর এক্ষেত্রে তিনি পুরনো পৈত্রিক বাড়িটি ছেড়ে নতুন একটি সুরম্য ভবন নির্মাণের জন্য নিজের কৃষি জমিটুকু কিংবা বাড়ির পাশের খালি জমিটুকু বেছে নেবেন। অথচ তিনি পৈত্রিক ভিটায়ই নতুন ভবনটি নির্মাণ করতে পারেন। তাছাড়াও দেখা যায় অনেক বিত্তশালীর গ্রামে এবং শহরে আবাসিক ভবন রয়েছে। যদিও অনেক সময় বিশেষ করে তার গ্রামের বাড়িটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকছে। অথচ এই বাড়ি নির্মাণে বিনষ্ট হয়েছে কৃষিজমি।  
দিনের পর দিন কৃষিজমি কমছে, খালি জমি কমছে। সরকার কৃষিজমিকে অকৃষি খাতে ব্যবহার বন্ধে আইন করছে অনেকদিন ধরে। কিন্তু সেটা শুধু ‘গবেষণা’ পর্যায়েই রয়ে গেছে। অবশ্য কৃষি জমি কমলেও দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর কৃষি গবেষকদের উন্নতজাতের ধানের জাত আবিষ্কারের ফলে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করায় উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। শুধু ধান নয়, শাকসবজি-মৎস্য উৎপাদনেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু জমি কমে যেতে থাকলে, জলাশয়-ডোবা কমে যেতে থাকলে একদিন বিপর্যয় আসবেই; কৃষি উৎপাদন যতোই বাড়–ক। সুতরাং খাদ্যশস্য উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষিজমি এবং খালি জমি সুরক্ষা করতেই হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT