মহিলা সমাজ

শিশুর বিকাশে সুন্দর পরিবেশ

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০২-২০১৮ ইং ০১:৫৫:০৮ | সংবাদটি ১৩০ বার পঠিত

রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব মানব সন্তান। ভূমিষ্ট হওয়া মাত্রই সুতীব্র চিৎকারে ঘোষণা করে তার আগমনী সংবাদ। পরিবারে বয়ে যায় আনন্দের হিল্লোল। এই পরিবারের সদস্যদেরই শিশুর জীবনে বিরাট ভূমিকা পালন করতে হয়। তাই শিশুকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হলে উন্নত পরিবেশে তাকে ছেড়ে দিতে হবে। যেথায় পরিস্ফুটন হবে তার নবজীবনের কুঁড়ি। শিশুর বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য গঠনে মাতা-পিতা ও পরিবারের দায়িত্ব অপরিসীম। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময়ে মায়েদের পুষ্টির দিকে পরিবারের সদস্যদের যতœশীল হতে হবে। পুষ্টিকর খাদ্য না পেলে শিশুর সঠিক বৃদ্ধি সম্ভব নয়।
শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে মা-বাবা, পরিবার এবং সামাজিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে। শিশুর প্রথম অর্থপূর্ণ মুচকি হাসি তার সামাজিক পক্রিয়ার প্রথম সোপান। ধীরে ধীরে শিশু জোরে জোরে হাসতে শিখে, অনুকরণ করতে শিখে। রাগ-দুঃখ, ভয়, ভালোবাসা এগুলি প্রকাশ করতে থাকে। শিশুর নেতিবাচক প্রথম ক্ষেত্র হচ্ছে- একটি সুন্দর পরিবার। ভালো মন্দ ন্যায় অন্যায়ের মধ্য দিয়ে শিশুর নৈতিকতার বিকাশ হয়। শিশুর জীবন বিকাশে পরিবার থেকে সে যখন দৈহিক, সামাজিক বৈশিষ্ট্যসমূহ অর্জন করে তা পরবর্তীতে তার ব্যক্তিসত্ত্বার বিকাশের ভিত্তি ভূমি হিসেবে কাজ করে।
শৈশবকালে শিশুর মানসিক বিকাশ ও ভাষার বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। এ সময় পিতা-মাতাকে কথাবার্তায় খুবই সাবধান হতে হবে। তাদের সাথে সুন্দর করে ছোট ছোট বাক্য স্পষ্ট স্বরে শুদ্ধ উচ্চারণে আলাপ করতে হবে। শিশুকে ভয়ভীতি না দেখিয়ে আদর সোহাগের মধ্য দিয়ে যথাযথ আচরণ করতে হবে। তাহলে তাদের সামাজিক বিকাশ সাধিত হবে। পিতা-মাতা তাদের সুন্দর ও সহযোগিতামুলক আচরণ দিয়ে শিশুকে প্রভাবিত করবেন। শিশুর জন্য প্রথম পরিবেশ হলো পরিবার। শিশুদের অনুভূতি ভালোমন্দ পাওয়া না পাওয়া আনন্দ বেদনা খুবই স্পর্শকাতর। এ সময় তাদের ভালোলাগার প্রতি খেয়াল রেখে তাদের সাথে সহানুভূতির মনোভাব রাখতে হবে।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত তাদের প্রতিক্রিয়া ঘটে। তখন পরিবার ও চার পাশের ছোট জগৎ সম্পর্কে তাদের আগ্রহ বাড়ে। এ সময়টাতে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও সহায়ক সংবেদনশীল পরিবেশের খুবই প্রয়োজন। শিশুর বিকাশে পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব অতি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে পূর্ণাঙ্গরূপে গড়ে তুলতে দরকার উন্নত পরিবেশের। শিশু যে পরিবেশে জন্মগ্রহণ করে তখন ঐ পরিবেশের পারিপার্শ্বিকতায় সে থাকে আবদ্ধ। শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলার দায়িত্ব বড়দের।
শিশু পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে একত্রে বসবাস করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সাথে ¯েœহমমতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন ধীরে ধীরে শিশু নিজেকে তাদের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। এভাবে শিশুর সামাজিকতার গোড়াপত্তন হয়। শিশুর সামাজিক বিকাশ প্রধানত বাবা-মার সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। মা-বাবার মধুর সম্পর্ক ছেলে-মেয়েদের বন্ধুভাবাপন্ন করে তোলে। অপরদিকে পরিবারে পিতা-মাতার মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক থাকলে সে পরিবারে ছেলে-মেয়েরা ঝগড়াটে ও কলহপ্রবণ হয়। ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠিত হয় শৈশব ও বাল্যকালের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে। ¯েœহ ভালোবাসা শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে পিতা-মাতার সু-সম্পর্ক এবং ¯েœহ মমতা শিশুর বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য গঠনে মাতা-পিতাকে যতœশীল হতে হবে। বাড়ন্ত শিশুর সবচেয়ে প্রয়োজন পরিমিত সুষম খাদ্য, অঙ্গসঞ্চালন ও বিন্যাস। শিশুর সার্বিক ও মানসিক বিকাশ হতে হবে আনন্দদায়ক ও অর্থপূর্ণ। শিশুকে মমতাপূর্ণ স্বাচ্ছন্দ পরিবেশে বেড়ে ওঠতে সহায়তা করতে হবে। শিশুর কোমল মনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। একমাত্র পরিবেশের প্রভাবই শিশুর বাড়ন্তপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT