মহিলা সমাজ

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০২-২০১৮ ইং ০১:৫৬:২০ | সংবাদটি ২০৫ বার পঠিত

তোমার মাথায় ঝরে
মুনিরা সিরাজ চৌধুরী রাজু
উঁকি দেব কেমন করে
জানালা যে বন্ধ।
কড়া নাড়লে তোমার সাথে
হবে আমার দ্বন্দ্ব।

মনের ঘরে তালা দিয়ে
ঘুরছ কলন্দর।
জীবন নদে বান ডাকে না
ধূ- ধূ বালুচর।

ঘর ছাড়া হলে তুমি
বলনা কার তরে।
শেষ প্রহরের তারার আলো
তোমার মাথায় ঝরে।

কেউ কেউ চলে
ঝরনা বেগম
বৃষ্টি নামে, শহর ডুবে আঁধারে
তবু চলে পেট ভুখা কিছু মানুষ
রিকসার ঠুং টাং শব্দ থামে না
চলে জলের ধারায় অবিরাম
পথ হয়ে যায়; ছেঁড়া ধারাপাত
তবুও থামে না কেউ কেউ
চলে, চলতে হয়Ñ
পথ বৃষ্টিতে ভিজে গেলেও
পেট বৃষ্টি’র জলে ভিজে না যে?
ভরে না যে? তাই তো চলা
চলতে হয়! শরীরে জ্বর,
পেটে আলসার, পায়ে ক্ষত চিহ্ন
তবুও চলে ওরা
রোদ আসবে তাই ভেবে চলে
এই সব মানুষ কি রোদের
দেখা পায় কখনো?
শুধুই বৃষ্টিতে ভেজে
চোখের জলে সাঁতার কাটে
স্বপ্নের গহীন গাঙে!

অপেক্ষা
নার্গিস মোমেনা
অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন প্রতিটি দিন
নির্বাক দৃষ্টি যতদূর যায়
খুঁজে ফিরে আপনজন, সন্তানদের
অবশেষে একদিন অস্ফুট স্বরে উচ্চারিত হয়
আমার ছেলে আসবে ডিসেম্বরে
প্রচন্ড আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হৃদয়
কিছু বলার ভাষা হারিয়ে যায়
প্রতিক্ষার দিন ধুকে ধুকে শেষে
পরের বছর ঠিক ডিসেম্বরেই
অতৃপ্ত বাসনা বুকে চেপে
নিলেন তিনি চির বিদায়।
তখন দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা
হরতাল অবরোধে পিতার মৃত মুখখানা
শেষবারের মতো একবার সে সন্তান
দেখতে পেল না পিতাকে
বাবার প্রিয়ধন ছিল সে সন্তান
তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে বরণ করল মৃত্যুকে।
ঠিক এভাবেই মায়ের মৃত্যুর পরও কি
কবরে এক মুঠো মাটি দেবার
সুযোগ হবে না ঐ সন্তানের?

প্রেম অমলিন
সাইয়্যিদা সাহ্রা নাশীন রক্সী
তখন বিভাবরি মধ্যাহ্ন চলছে।
ভেসে আসছে বাঁশীর সুর।
কে যেনো বিনিদ্র এ প্রহরে
বাঁশীর সুরে মোহিত অনুভবে।
হৃদয়ের বেলকনিতে স্পর্শ
আজ উতলা মনের আঙ্গিনা।

মানবের ক্ষণস্থায়ী জীবন সংকটময়
কেহ সুখী, কেহ অসুখী?
কেহবা রোগে-শোকে ভারাক্রান্ত।
তবু প্রেমের জগতে হাতছানি দেয়া,
এক মানবের মন ভারাক্রান্ত
যে নাকি বাঁচার অদম্য আগ্রহান্বিত।

প্রেমতো মরে না, মানুষ মরে যায়
পড়ে থাকে শূন্য আলয়, প্রাচুর্য
শাহজাহান গড়ে ছিল, প্রেমের সমাধী তাজমহল।
রয়ে যায় কৃতকর্ম, রেখে যায় স্মৃতি
কেহবা বাস করে স্বর্গীয় সুখে
কেহবা দীন-হীন অসহায়
তবুওতো জীবন থেমে থাকে না
চলতে থাকে প্রেমের এ ভূবনে।

চরিত্রবান
সানজিদা খান শিমু
যদি মহত জীবনের অধিকারী হতে চাও
তবে প্রথমে চরিত্রটা গঠন করে নাও।
চরিত্র হলো জীবনের সবচেয়ে অমূল্যধন
যাতে লুকিযে আছে মানুষের এক সুন্দর মন।

পৃথিবীতে আছেন যারা চরিত্রবান
অনেকের মধ্যে তারাই হবে মূল্যবান।
তাদের ছুতে পারবে না কোনো ভুল-ভ্রান্তি
পরকালে পাবে তারা অনেক শান্তি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT