সম্পাদকীয়

তবুও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

হিমেল আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০২-২০১৮ ইং ২৩:৩০:০৯ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। লাখো শহিদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা। এই দেশ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে এই স্বপ্ন সকলের। একসময় ছিল যখন বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি ভূখ- হিসেবে, হতদরিদ্র ও সাক্ষরতাহীন এক রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু আজ সময়ের সাথে-সাথে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সমপ্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের জরিপে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে ৯ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৮তম। গেলো বছর যা ছিল ১৩৭তম। যেখানে ভারতের অবস্থান ১৪৩তম আর পাকিস্তানের ১৪১তম। এছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ২৮তম। আমেরিকান থিংক ট্যাঙ্ক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যৌথভাবে ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে অতিক্রম করে ৫৫ পয়েন্ট অর্জন করেছে। যা বাংলাদেশের জন্য শুভকর সংবাদ। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য লাভ করেছে। যে দেশ একসময় বাংলাদেশকে শাসন, শোষণ করেছে সেই দেশ পাকিস্তান আজ পিছিয়ে পড়েছে। সর্বদিক থেকে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে। ’৭১-এ গণহত্যার মাধ্যমে পাকিস্তান চেয়েছিল বাঙালি জাতির নাম ও চিহ্ন মুছে ফেলতে।
সমপ্রতি দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি তুলনা তুলে ধরা হয়। গত ৪৬ বছরের অগ্রগতিতে বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ এখন পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ ১ হাজার ৫৩৮ ডলার। সেখানে পাকিস্তানের ১ হাজার ৪৭০ ডলার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন লাখো মানুষ। ধ্বংস করা হয়েছিল শিল্প-কারখানা, ব্যাংক প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, রেলপথসহ অনেক অবকাঠামোসমূহ। ’৭১-এ বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় পুরো দেশ তখন ছিল ধ্বংসস্তূপ। স্বাধীনতার এই ৪৬ বছরে দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে গেছে। সমপ্রতি মাছ ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মৎস্য আহরণে বিশ্বে চতুর্থ এবং মাছ চাষে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত খুশির সংবাদ। নদীমাতৃক বাংলাদেশ হওয়ায় এই জাতিকে মাছে-ভাতে বাঙালি বলা হয়। বর্তমানে এই প্রবাদটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে। মৎস্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে ৫৩ শতাংশ বেশি। আর গত অর্থবছরে ৭১ লাখ ৩৫ হাজার টন মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টন উপাদন হয়েছে। দেশের সরকারের এটি বিরাট অর্জন নিঃসন্দেহে বলা যায়। মাছ-মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দেশকে আরো একধাপ উন্নয়নের দিকে অগ্রসর করেছে। সাক্ষরতার দিক দিয়েও প্রতিবছর বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। সরকারি জরিপে দেশে সাক্ষরতার হার প্রায় ৭০%। যা পাকিস্তানের চেয়েও প্রায় ১০% বেশি। সমপ্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে সাক্ষরতার দিক দিয়ে পাকিস্তান পিছিয়ে পড়ছে। গতবছরের তুলনায় এই বছর পাকিস্তানে সাক্ষরতার হার ২% কমে ৫৮%-এ অবনতি হয়েছে। আর বাংলাদেশে ২০১১ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৫০% যেটা ২০১৭ তে উন্নীত হয়ে প্রায় ৭০%-এ এসে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার মহা শক্তিধর রাষ্ট্র চীন। সারাবিশ্বে বর্তমানে চীনের তৈরিকৃত পণ্যাদির প্রচলন বেশি। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়েও এগিয়ে আছে এই দেশটি। আরেক উন্নয়নশীল রাষ্ট্র ভারত; যার প্রধান শক্তি হলো সেদেশের বৃহৎ আয়তন ও জনশক্তি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতকে পিছনে ফেলে চীনের পর নিজের স্থান করে নিয়েছে যা পুরো জাতির জন্য গর্বের ও আনন্দের। বাংলাদেশ বর্তমানে তথ্য ও প্রযুক্তিতেও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। থ্রিজির পর ফোরজি ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করেছি আমরা। স্থাপন করা হয়েছে দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট। শুরু হয়েছে পরম্াণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ। নানান উন্নয়নের সাথে সমস্যা ও সংকটও কম নেই এই দেশে। রাজনৈতিকভাবে এখনো দুর্বল রয়েছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। প্রতিবছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবুও এগুচ্ছে দেশ। সব সমস্যা সব সংকট নিরাসন করে এভাবেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ এই কামনা প্রতিটা নাগরিকের।
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT