শিশু মেলা

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০২-২০১৮ ইং ২৩:৩৪:৫১ | সংবাদটি ১২৬ বার পঠিত


গাঁয়ের ছেলে
অঞ্জন রায় সঞ্জয়
আমি তোমার কাছে রাখাল বন্ধু হতে চাই,
আমি তোমার বন্ধুর কাছে বন্ধু হতে চাইনি
গ্রাম বাংলার প্রকৃতিজ মনের মানুষ আমি
গাঁয়ের কাদা মাটির ছিটেফোঁটা এখনো আমার অঙে মাখা।
নদী নালা খাল বিলের ঘোলা জলেও নাওয়ায় মিলে আত্মতৃপ্তি
সবুজ পাতার চাদরে ঢাকা আমার গাঁয়ের পথ
গাঁয়ের প্রকৃতির গাছ, ফুল, লতা-পাতা আমায় আপন করে ডাকে
বন্ধুর দল মাঠের বনে বসে নাটাই হাতে ঘুরি উড়াই
ধান গাছের ছাউনি দেয়া ঘর।
চারদিক সোনালী আঁশ বিহিন পাটশলার তৈরি বেরা।
চড়ুই পাখি ঘরে বাসা বুনে বাচ্ছা নিয়ে বেড়িয়ে যায়
চৈত্রের দাবদাহ গরমেও ছনের ঘরে সহনীয় বাতাস বয়ে যায়।।

 

প্রিয় ভাষা
মোঃ মনজুর আলম
সাত সকালে লাঙল কাদে
কৃষক মাঠে যায়
মায়ের ভাষায় কথা বলে
মনো প্রাণ জুড়ায়।

গান গায় রাখাল ছেলে
গরু নিয়ে মাঠে
গল্প করে ঘরের বধু
শান বাঁধানো ঘাটে।

সন্ধ্যা হলে থলি হাতে
যায় ে বেটা হাটে
মায়ের ভাষায় কথা বলে
হাটে, ঘাটে, মাঠে।

বাংলা মোদের প্রিয় ভাষা
অফিস পাড়ায় বলি
বাংলা ভাষায় কথা বলে
দিবা রাত্র চলি।

আত্মদান করল যারা
এ ভাষার তরে।
বিশ্ববাসী করবে স্মরণ
যুগ যুগ ধরে।

ভাষার নামে দেশের নাম
যেই দেশেতে হয়
সেই ভাষা হারিয়ে যাবার
নেই-তো কোনো ভয়।

সোনার বাংলাদেশ
এইচ এম আরশ আলী
অনিন্দ্য সুন্দর দেশটা মোদের
রূপের নাইকো শেষ
হাজার দেশের সেরা আমার
সোনার বাংলাদেশ।

আমার দেশের মাঠে ঘাটে
ফুলের সমাবেশ
চির সবুজের সমারোহ
শান্তির পরিবেশ।

ইচ্ছে করে আমার দেশের
সাগর কুলে যেতে
পাখির মত ডানা মেলে
আকাশ পানে উড়তে।

ঈলার মাঝে এত মনোহর
হেরী নাই কোন দেশ
সে যে আমার মাতৃভূমি
রূপের বাংলাদেশ।

রসিক বুড়ো
আশরাফুল আলম
আয় রে বুড়ো
রসিক বুড়ো,
মাথায় বাঁধা
চুলের চূড়ো।

শুনলে কথা
বুড়োর মুখে,
ভরে যে মন
অনেক সুখে।

রসিক বুড়ো,
রসের হাঁড়ি,
ঘুরে বেড়ায়
চাঁদের বাড়ি।

রসিক বুড়ো
সুখের নীড়,
শিশু কিশোর
জমায় ভীড়।

শিশু কিশোর
ঘুমিয়ে গেলে,
রসিক বুড়ো
যায় যে চলে।

সুখ খুঁজি তোর ভাষাতে
হুসাইন আল হাফিজ
বুকটা বেঁধে আশাতে
পরম ভালোবাসাতে
ব্যস্ত ভীষণ নেই অবসর
বাঙলা চাষী চাষাতে।
সবুজ শ্যামল ভূমিতে
দিবস- রাতির চুমিতে
দিনটা কাটে খুব সুখময়
দিনটা কাটে হাসাতে।
লাল-সবুজের চাদরে
জড়িয়ে তোমায় আদরে
রক্ত দিয়ে জায়গা দিলাম
মনের গহীন বাসাতে।
তাই তো কিষাণ মজুরে
বলছে সবাই সজোরে
খুব আদরের মা ওরে তুই
সুখ খুঁজি তোর ভাষাতে।

ওগো নবী
ফখরুল ইসলাম আদিল
ওগো নবী নূরের রবি
তুমি আলোক রেখা
তোমার আগমনে ধরা
পেলো আলোর দেখা।
এই জীবনের স্বপ্ন তুমি
তুমিই আমার আশা
চলতি পথে প্রিয় তুমি
পরম ভালোবাসা।
রোজ হাশরে ভয়াল দিনে
থেকো তুমি পাশে
অধম আমি থাকবো ওগো
তোমায় পাবার আশে।

একটি ছেলে
আবদুর রাকিব
এই শহরের একটি ছেলে
নামটা ভোলানাথ
দুষ্টুমি তার স্বভাব যেন
গঙ্গারামের হাত।
ফিরলে বাড়ি ডাকতো মায়ে
খাবার ঘরে আয়
দুয়েক লোকমা ভাত মুখে দেয়
ভোলা কী আর খায়!
ভাল্লাগে না একা একা
থাকতো না সে ঘরে
পাখির মতো ঘুরতো সদা
তিড়িং-বিড়িং করে।

কলম এবং বই
তামীম হুসাইন
কলম এবং বই
আঁকড়ে সদা রই
ওদের সাথে কাটাই বেলা
মনের কথা কই।
একলা যখন ঘুমের ঘরে
দুয়ার এঁটে রই
ঘুমের ভেতর মাথায় এসে
বই করে হৈ চৈ।
বইয়ের পড়া পড়ো তুমি
বইয়ের পড়া শেখো
যা পড়েছো লিখতে পারো?
কলম বলে লেখো।
কলম এবং বই
আঁকড়ে সদা রই
ওদের সাথে কাটাই পবলা
মনের কথা কই।

চড়–ইয়ের ছানা
আবদুল ওয়াহিদ
একদম ছোটো-মোটো
চড়ুইয়ের ছানা
ফোটে নাই চোখ তার
একেবারে কানা।
ভাঙা এক দরোজার
ঠিক ঐ কোণে
মা’র বুকে শুয়ে শুয়ে
তার কথা শুনে।
ধীরে ধীরে বড় হয়
ফোটে তার আঁখি
ঘুরে-ফিরে বলে ধরা
এতো বড় নাকি?

একদিন আমার
রাকি মুহাম্মাদ
একদিন আমার কাননভরা ফুলকলিরা
দুলছিলো
ভ্রমরেরে ঘুম পাড়িয়ে অনেক কলি
ফুল ছিলো।
মনের বাঁশি বাজতো তখন হরেক রকম
সুর ছিলো
উষার লগন মিষ্টি আলো জীবন দিনে
ভোর ছিলো।
চোখভরা নীল স্বপনগুলো বারে বারে
ফুটছিলো
চলার একটা গতি ছিলো ঠিক নিয়মের
নোট ছিলো।
কিন্তু এখন উদাস হয়ে দেখছি সবই
ভুল ছিলো
অন্য পথে অন্য মতে চলাই আমার
মূল ছিলো।

আর কত?
কাওসার সিদ্দিক
চোখ বুজে সুখ খোঁজে
আর কত থাকবে?
চুপ করে রূপ ধরে
আর কত সইবে?
গাল শুনে তাল বুনে
কত আর রইবে?
মার খেয়ে দ্বার চেয়ে
কত আর বসবে?
এই তোরা ওঠো না
মানযিলে ছুটো না
চোখ খুলে দেখো না
জয় কেঁড়ে আনো না।

ছড়া মানে তুমি
সিরাজুল ইসলাম
লিখি ছড়া তোমায় নিয়ে
ছড়া মানে তুমি,
তুমিহীনা ছড়া আমার
শূন্য মরুভুমি।
মডেল তুমি চলতি পথে
চলি তোমায় দেখে,
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন আমার
যাই তোমাকে লেখে।
মিষ্টি ছড়ার ছন্দে তুমি-
তুমি আলোক রেখা,
কাল হাশরে, ভয়াল দিনে
দিয়ো মোদের দেখা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT