সাহিত্য

এমসি কলেজ : ইতিহাস ও জ্ঞান বিকাশের বাতিঘর

মোঃ মোস্তফা মিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৩-২০১৮ ইং ২৩:৪৩:৪৪ | সংবাদটি ৩১৫ বার পঠিত


ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন হতে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা উত্তর আন্দোলন-সংগ্রামে মুরারিচাঁদ কলেজ ইতিহাস এবং জ্ঞান বিকাশের বাতিঘর হিসেবে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। ইতিহাসের বাঁকে ইতিহাসের পথকে এবং জ্ঞান বিকাশের ধারাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অজ্ঞনে পেশা ভিত্তিক মেধা বিকাশে প্রাচীন এই টেকসই বিদ্যাপিঠের অবদান অপরিসীম। এই বিদ্যাপিঠের অনেকগুলো বিভাগের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভাষা সংগ্রামী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ আন্দোলন-সংগ্রামে মুরারিচাঁদ কলেজের বীর শহিদানের এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে বিগত জুন-২০১৭ খ্রিস্টাব্দ উক্ত বিভাগ থেকে একটি প্রকাশনা প্রকাশ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও প্রকাশিত স্মরণীকায় অনেকগুলো স্মরণযোগ্য এবং অনুসরণযোগ্য বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে-যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে মূখ্য ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে লিবার্টি শব্দটি একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আলোচনা করলেই প্রকাশনাটির নাম লিবার্টি নির্বাচন করার বিষয়টি সহজেই অনুধাবন করা সম্ভব হবে।
বৃটিশ শাসিত ভারতের আসাম প্রদেশের প্রথম এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মুরারিচাঁদ কলেজ (এম.সি কলেজ) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯২ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত (প্রতিষ্ঠা-১৯২১) ও বিকশিত হওয়ার পূর্বে এই এম. সি কলেজ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ছিল। গৌরবময় অতীত ও সমৃদ্ধ বর্তমানের এই এম. সি কলেজের বৃহত্তম বিভাগ রাষ্ট্রবিজ্ঞান। গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও বিষয়বৈচিত্র বিভাগটিকে এই আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগীতামূলক মেধা যাচাইয়ে সহায়ক ভূমিকা পালনে বিষয়টির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এম.সি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সূচনা:‘মুরারিচাঁদ কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ১৯৬১ সাল থেকে অনার্স কোর্স চালু আছে’ মর্মে একটা ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল। বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শিবপ্রসাদ সেন স্যার, এম. সি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন স্যার, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রধান মোঃ আব্দুল জব্বার স্যার এবং এম.সি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক মোয়াজ্জম হোসেন স্যার এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁদের তথ্য আলোকে বলা যায়, এম.সি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনার্স হয় ১৯৭১-৭২, ১৯৭৩-৭৪ শিক্ষা বর্ষ থেকে। ২০১৬-১৭ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ৪৪ তম ব্যাচ। তবে এই তথ্যই শেষ তা বলা যাবে না।
১৮৯২ সালে সূচনা থেকেই এম.সি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে মানবিক বিভাগ চালু হয়। তখন এই কোর্সের নাম ছিলো এফ.এ (ঋরৎংঃ অৎঃং) ১৯৬৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স থেকে মানবিক ও বাণিজ্য শ্রেণি বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রফেসর আব্দুল আজিজ স্যার ও অন্যান্য সূত্র থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, ১৯২৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পৌরনীতি পড়ানো শুরু হয়। তখন থেকেই মহামতি সক্রেটিস ও তার শিষ্য প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য এরিস্টটল এম.সি কলেজের পাঠ্যে ছিলেন। দর্শন শাস্ত্রেও তিন মণীষী অপরিহার্য পাঠ্য। প্রফেসর নন্দলাল শর্মা প্রদত্ত তালিকা থেকে জানা যায়, এম.সি কলেজে প্রথম পৌরনীতি পড়ান উমাকান্ত গোস্বামী, যিনি ১৯২৬ থেকে ১৯৩৩ পর্যন্ত এখানে কর্মরত ছিলেন। গ.অ ওহ চড়ষরঃরপং ডিগ্রিধারী প্রথম শিক্ষক ছিলেন অশ্বিনী কুমার বরকাকুতি, যিনি ১৯৪০ সালে এম.সি কলেজে যোগদান করেন। বরকাকুতি মুরারিচাঁদ কলেজের এড়ষফবহ ঔঁনরষবব ঠড়ষঁসব ইড়ড়শ ১১-চধৎঃ-প এর অন্যতম সংকলক ছিলেন।
প্রখ্যাত কথাশিল্পী শাহেদ আলী তাঁর ‘এম.সি কলেজ: কয়েকটি খন্ড স্মৃতি’তে বরকাকুতিকে “আসামের লোক ছিলেন” এবং ইংরেজি উ-এর উচ্চারণ ‘দ’ এর মতো করতেন বলে উল্লেখ করেছেন। এম.সি কলেজের প্রাক্তণ ছাত্র যারা বৃটিশ আমলে এম.সি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তাদের একজন সুশান্ত কুমার চৌধুরী (১৯৩৮) পৌরনীতি পড়াতেন। ১৯১২ থেকে ১৯৪২ পর্যন্ত ডকটরেট ডিগ্রীপ্রাপ্ত যে সব শিক্ষক এম.সি কলেজে ছিলেন তাদের একজন ড. এমরান হোসেন চৌধুরী (১৯৪০) পৌরনীতি পড়াতেন।
মদন মোহন কলেজের সুনামধন্য প্রাক্তণ অধ্যক্ষ প্রয়াত শ্রী কৃষ্ণ কুমার পাল চৌধুরী, যিনি ১৯৪১ সালে এম.সি কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করে একই কলেজে অর্থনীতি অনার্স শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করায় ঐ বিষয়ে আর পড়া হয়নি। তিনি এম.সি কলেজের শতবর্ষ পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত প্রাক্তণ ছাত্র-শিক্ষক পুনর্মিলনী স্মারক ‘স্মৃতির আঙ্গিনায়’ এর ৩২-৩৬ পৃষ্ঠায় ‘আমার কাল ও এম.সি কলেজ’ স্মৃতিকথা শীর্ষক লেখায় তাঁর সময়কার শিক্ষকদের বিষয় ভিত্তিক তালিকায় তিনি কে কে পাল চৌধুরী অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে অভিন্ন বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইংরেজি ও বাংলা বিভাগের পরে তিনি তালিকা দিয়েছেন এভাবেঃ অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান (তখন এক বিষয়ের অন্তর্গত) (১) দিগেন্দ্র চন্দ্র দত্ত (২) দীনেশ চন্দ্র দত্ত (৩) মিসবাহুল রব চৌধুরী (৪) ধর্মানন্দ দাস (৫) সুশান্ত চৌধুরী (৬) অশ্বিনী বড় কাকুতি। (পৃষ্ঠা:৩৩)। তখন হয়তো অনেকে পৌরনীতিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান হিসেবে মনে করতেন। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান দর্শনের যথাক্রমে পৌরনীতি (ঈরারপং) ও যুক্তিবিদ্যা (খড়মরপ) নামকরণ থেকে অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে পৌরনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্য বইয়ের আওতাভূক্ত যে ছিলো এটা নিশ্চিত।
প্রফেসর শিব প্রসাদ সেন স্যারের তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন জনাব ফজলুল করিম। ১৯৬৪ সালে এম.সি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আসেন জনাব মাওলানা আব্দুল মান্নান এবং পরবর্তীতে প্রফেসর মাওলানা আব্দুল মান্নান এম.সি কলেজের উপাধ্যক্ষ (১৯৮২-৮৩) ও অধ্যক্ষ (১৯৮৭-৮৮) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রফেসর মাওলানা আব্দুল মান্নান উপাধ্যক্ষ থাকা কালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্লাস নিতেন। তাঁর ক্লাস ছিলো খুব আকর্ষণীয়। প্রফেসর আব্দুল মতিন চৌধুরী ১৯৫০ এর দশকের মাঝামাঝি প্রথম দফায় এম.সি কলেজের শিক্ষকতা করেছেন। সেই সময় ১৯৫৫-৫৬ সালে তাঁর ছাত্র ছিলেন প্রফেসর মাওলানা আব্দুল মান্নান ও প্রফেসর শামসূল হুদা। ১৯৬৬ তে এম.সি কলেজে দ্বিতীয়বার আসেন জনাব আব্দুল মতিন চৌধুরী। তিনি ১৯৭০-৭৬ সালে এম.সি কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং ১৯৮৩-৮৪ সালে অধ্যক্ষ ছিলেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একাডেমিক এবং ভৌত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত কর্মযজ্ঞের সূচনা করেন সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সৈয়দ ফজলুল্লাহ এবং তিনি হলেন লিবার্টি প্রকাশের উদ্যোক্তা। এরপর প্রফেসর ছয়ফুল কবীর চৌধুরী তা দ্রুত এগিয়ে নেন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় বিভাগকে সম্মৃদ্ধ করতে তিনি সক্ষম হন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর উপদেশ ছিল ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে সবার সামনে নিজেদেরকে ‘মডেল’ হিসেবে উপস্থাপন করা।
প্রফেসর কাজী আতাউর রহমান স্যার সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রফেসর হিসেবে ২০০১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ষোল বছর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি দায়িত্ব পালন কালে বিভাগের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা করেন। সেমিনারের জন্য দুই লক্ষাধিক টাকার বই ক্রয় করেন। কম্পিউটার অপারেটর ও সহায়ক কর্মচারী নিয়োগ দেন। তিনি বিভাগের জন্য ফ্রিজ এবং ৪০ইঞ্চি এলইডি টিভি ক্রয় করেন। তাঁর সময়ে কলেজের মধ্যে সর্বপ্রথম মাল্টিমিডিয়া স্থাপিত হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। তাঁর তথ্য মতে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পায় কুলাউড়ার মেয়ে সুলতানা রাজিয়া। ২০০৮ সালে সারা দেশের মধ্যে অনার্সে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে আনোয়ার হোসেন ভিসি এওয়ার্ড লাভ করে। ২০০৮-০৯ শিক্ষা বর্ষে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মেয়ে সুবর্ণা সাহা নৃত্যে সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে। দুঃখের বিষয় প্রতিভাবান শিক্ষার্থী সুবর্ণা সাহা ২০১৫ সালে মারা যায়। এছাড়া বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর শামীমা আখতার চৌধুরী অতীতের ধারাবাহিকতায় আরো নিপুণভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
আশির দশকের শেষের (১৯৮৮ সালে ও পরে) দিকে ৭ম বিসিএস এর মাধ্যমে এম. সি কলেজে যোগদান করেন রণধীর দাস (বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী), প্রফেসর আলী আহমদ খান (অধ্যক্ষ-সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা), প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক (অধ্যক্ষ-বৃন্দাবন সরকারি কলেজ), প্রফেসর অজয় কুমার দাশ মহালদার (উপাধ্যক্ষ- বৃন্দাবন সরকারি কলেজ), মোঃ আনিসুর রহমান (নাম উল্লেখ করা হয় নাই) প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নবজাগরণের সৃষ্টি করেন। আশৈশব টিলাগড়ের স্থায়ী বাসিন্দা প্রফেসর এএসএম শাব্বীর আহমদ তাঁর সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের পুরো সময় এম. সি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত থেকে বিভাগের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রফেসর ড. মোঃ ফজলুল আলী (উপাধ্যক্ষ-মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ) ২০১০-১১ সালে এম. সি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে কর্মরত থেকে শিক্ষার মান উন্নয়নে আন্তরিক চেষ্টা চালান। বর্তমানে যারা কর্মরত আছেন তাঁরাও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
এম. সি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন এবং করছেন তাদের মধ্যে আছেন প্রফেসর মাওলানা আব্দুল মান্নান, প্রফেসর শামসুল হুদা, প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন, রণধীর দাস, প্রফেসর শামীমা আখতার চৌধুরী, অহিদুর রব, মঈনুল ইসলাম, মাহমুদা কবীর চৌধুরী প্রমুখ।
এম. সি কলেজ একশত ছাব্বিশ বছরে পা দিলো। ইতিহাসের বাঁক নেয়া এই সময়ে কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ এবং উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা: হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি ব্যক্তিত্বদ্বয়ের গতিশীল নেতৃত্ব ও ইতিবাচক মনোভাব বিভাগ সমূহকে স্বকীয়তা নিয়ে বিকশিত হবার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে সম্মুখ পানে। নতুন আঙ্গিকে লিবার্টি প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্মিলনের মাধ্যমে এখানে যারা কর্মরত ছিলেন বিগত বছরে (২০১৭) তাদের একটি স্বার্থক মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। বিভাগ প্রাঙ্গণে গঁৎধষ ঙভ ডরংফড়স নামে একটি প্রাচীরচিত্র বা ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে একটি তথ্যচিত্র। প্রফেসর শামীমা আখতার চৌধুরী বিভাগীয় প্রধান হিসেবে সম্মুখে থেকে সব কঠিন দায়িত্বের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে অন্যকে কৃতিত্ব দেয়ার এক বিরল উদারতায় এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই প্রবল মানসিক আকাঙ্খা নি:সন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। ইতিহাস কখনো স্থিতিশীল নয়, গতিশীল। পর্দার অন্তরালে ইতিহাসের কোন তথ্য বা উপাদান লুকায়িত থাকলে তা ভবিষ্যতে উন্মোচিত হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT