ধর্ম ও জীবন

তাফসির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৩-২০১৮ ইং ০১:৩৭:৩৬ | সংবাদটি ১৪০ বার পঠিত

 [পূর্ব প্রকাশের পর]
এ ছাড়া আরো বহু রকমের জাহেলী রীতি প্রথা ছিলো, যার পেছনে কোনো যুক্তি প্রমাণ ছিলো না, চিলো শুধু এইসব খাপছাড়া চিন্তাধারা ও অলীক কল্পনার স্তূপ। তাদের সামাজিক ও নৈতিক জীবনেও ছিলো প্রচুর বিভ্রান্তি। তাদের মধ্যে ছিলো উৎকট শ্রেণি বৈষম্য যার বিলোপ ঘটানোর জন্যে এই আয়াতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, ‘অতপর যেখান থেকে সব মানুষ রওয়ানা হয়, সেখান থেকে তোমারও যুদ্ধ রওয়ানা হও।’
এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা চলে আসছে। তাদের গোত্রীয় যুদ্ধ বিগ্রহ ও রেষারেষির মধ্য দিয়েও তাদের সামাজিক ও নৈতিক বিভ্রান্তি প্রতিফলিত হতো। এইসব যুদ্ধবিগ্রহ ও কলহ কোন্দলের দরুন আরবরা সমকালীন বিশ্বে কোনো জাতি হিসেবেই গণ্য হতো না। তাদের নৈতিক ভ্রষ্টতা প্রতিফলিত হতো তাদের যৌন উচ্ছৃঙ্খলা এবং বিকৃত বৈবাহিক ও পারিবারিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েও। সমাজে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার এতো ব্যাপক আকার ধারণ করেছিলো যে, সেখানে সকলের জন্যে গ্রহণযোগ্য কোনো সাধারণ ও স্থায়ী নৈতিক মানদন্ডের অস্তিত্বই ছিলো না। এই সার্বিক অরাজক পরিস্থিতি এবং আরবদের সামগ্রিক বিপর্যস্ত জীবনধারা ও নিদারুণ মানবিক দুর্দশা থেকে বুঝা যায় যে, তাদের নৈতিক ও সামাজিক বিকৃতি ও অধোপতন কতো নি¤œস্তরে গিয়ে পৌঁছেছিলো। এই অধপতন থেকে একমাত্র ইসলামই তাদেরকে উদ্ধার করেছিলো।
তাই যখন তারা কুরআনের এই বাণী শুনেছে যে, ‘আল্লাহ যেভাবে তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, সেই ভাবে তাকে স্মরণ করো, ইতোপূর্বে তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে’ তখন নিশ্চয়ই তাদের স্মৃতিপটে তাদের ফেলে আসা বিভ্রান্তিময়, অধোপতিত জীবনের সেই সব কলঙ্কময় দৃশ্যগুলো ভেসে উঠেছে, যা তাদের গোটা ইতিহাসকে কালিমালিপ্ত করে দিয়েছিলো। অতঃপর ইসলাম তাদেরকে যে নতুন উচ্চতর স্থানে তুলেছে, যে স্থানের সন্ধান আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে এই দ্বীনের বদৌলতেই দিয়েছে, সেই স্থানে নিজেদের অবস্থান দেখে তারা যে নিজেদের অস্তিত্বে এই মহাসত্যের গভীরতা ও ব্যাপকতা উপলব্ধি করেছে, সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র বিতর্কের অবকাশ নেই।
বস্তুত একমাত্র ইসলামই যে মানুষের অধপতন ও দুর্দশা মোচন করে তাকে উন্নতি ও অগ্রগতির সর্বোচ্চ শিখরে উন্নিত করতে পারে সে কথা সর্বকালের ও সকল প্রজন্মের মুসলমানদের বেলায়ই অকাট্য ও চিরন্তন সত্য। ইসলাম ছাড়া মুসলমানদের কী মূল্য আছে? ইসলামী আক্বীদা বিশ্বাস ছাড়া মুসলিম জাতির কী গুরুত্ব আছে? যখন তারা ইসলামের পথে চালিত হবে, ইসলামী জীবন পদ্ধতি যখন তাদের জীবনে বাস্তবায়িত হবে, তখন তারা তুচ্ছ, অধোপতিত ও নিকৃষ্ট অবস্থা থেকে উন্নত, মর্যাদাবান ও স্থিতিশীল অবস্থায় উন্নিত হবে।
এই বিরাট ও যুগান্তকারী উত্থান তাদের জীবনে কেবল তখনই সম্ভবপর হতে পারে, যখন তারা সঠিক অর্থে মসুলমান হবে, যখন তাদের সমগ্র জীবনকে তারা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে তুলবো। এই নির্ভুল ও নিষ্কলুষ জীবন পদ্ধতির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত গোটা মানবজাতি অন্ধ জাহেলিয়াতে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে। এই মহাসত্যকে কেবলমাত্র সেই ব্যক্তি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে, যে সারা পৃথিবীতে তান্ডব নৃত্যরত আধুনিক জাহেলিয়াতের অধীন জীবন যাপন করার পর ইসলামী জীবন ব্যবস্থার পরশ পাথরের স্পর্শে নব জীবন লাভ করেছে এবং চারপাশের নোংরা পরিবেশের উর্ধে ইসলামী আদর্শের অবস্থান প্রত্যক্ষ করেছে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT