পাঁচ মিশালী

আচরণ পরিবর্তনের কৌশল

সৈয়দ আছলাম হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৩-২০১৮ ইং ২৩:২৯:১২ | সংবাদটি ৭৮ বার পঠিত

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সবার সাথে মিলেমিশে তাকে চলাফেরা করতে হয়। এতে তার আচরণগত ভালোমন্দ দিক সমূহ ফুটে ওঠে। আমরা সকল ভালো কাজের প্রশংসা করি এবং মন্দ কাজের নিন্দা করি। আমাদের অনেক মন্দ অভ্যাস নিজের অজান্তেই গড়ে ওঠে। ইচ্ছে করে হোক আর অনিচ্ছায় হোক আমাদের মধ্যে সকল মন্দ ত্যাগ করে ভালো অভ্যাসগুলো বৃদ্ধি করে সুন্দর সমাজ গঠন করা আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরা জানতে হবে কিভাবে আমাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। আচরণ ইচ্ছে করলেই পরিবর্তন করা যায় না। এটা পরিবর্তন করতে হলে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। নিচে আচরণ পরিবর্তন এর ৫টি ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১। জ্ঞান : আমরা যদি ধূমপান বিষয়ে আচরণ পরিবর্তনের চিন্তা করি তবে ধূমপানের ভালোমন্দ দিক সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং এটি একটি খারাপ অভ্যাস বলে জানেন আর যদি এই বদ অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত মনে করেন তবেই ধাপগুলো অনুসরণ করলে আশা করা যায় এই খারাপ অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব।
২। অনুমোদন : ধূমপানের খারাপ দিক যদি আমরা নিশ্চিত হই তবে এটা ত্যাগ করার জন্য নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে এই মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। একটি মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত এই সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই আচরণ পরিবর্তনের ২য় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা ধরে নিতে পারি। প্রতিটি ধাপই আচরণ পরিবর্তনের সহায়ক। একটি অপরাধবোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করা বা দূরে রাখা উচিত তা বুঝতে পারাটাই একটি সফল দিক।
৩। ইচ্ছা : ধূমপান নামক ক্ষতিকর একটি অভ্যাস দূর করা উচিত এই তথ্যটি যখন মাথায় কাজ করে তখন আমরা নিশ্চয়ই ইচ্ছাপোষণ করবো যে আমরা এই মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যখন আমরা বুঝে শুনে একটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করার ইচ্ছা পোষণ করবো তখনই এটি ত্যাগের জন্য চেষ্টা শুরু করে দেব। যারা ধূমপান করেন তারা যদি নিজে জেনে শুনে, বুঝে সিদ্ধান্ত নেই এই ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে তখনই এর পরিবর্তনমূলক চেষ্টা শুরু হয়ে যায়। তাই আমরা ধূমপান একটি ক্ষতিকর অভ্যাস এটি নিশ্চিত হলাম, তারপর এটি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম, অবশেষে তৃতীয় ধাপে এসে নিজে ইচ্ছে পোষণ করে ধূমপান ত্যাগের কাজ আস্তে আস্তে শুরু করি। এভাবেই আচরণ পরিবর্তনের ধাপ অনুসরণ করে মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করে ভালো অভ্যাস সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেকে ও সমাজকে পরিবর্তন করা সম্ভব।
৪। চর্চা : আমরা যখন একটি খারাপ অভ্যাস জেনে শুনে বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা নিজের কাছ থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে তখনই চর্চা শুরু করতে হবে। ধূমপান এর অভ্যাস হঠাৎ করে পরিবর্তন না হলেও আস্তে আস্তে একটু একটু করে ধূমপান ত্যাগ করার কাজ শুরু হয়। এই চর্চার মাধ্যমে আস্তে আস্তে খারাপ আচরণ পরিবর্তন করে ভালো আচরণ গড়ে তুলা সম্ভব। এভাবেই আমরা একটি খারাপ অভ্যাস সম্পর্ক জেনে, বুঝে ইচ্ছে করে সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন চর্চা শুরু করি তখনই আমাদের খারাপ অভ্যাস ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন হতে থাকে।
৫। এ্যাডভোকেসি : যখন আমরা একটি খারাপ অভ্যাস সম্পর্কে জেনে, শুনে, বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে এ থেকে বিরত থাকার চর্চা শুরু করে এর মাধ্যমে নিজের খারাপ অভ্যাস পরিবর্তন হয়ে ভালো অভ্যাস গড়ে ওঠতে বুঝি তখন আমাদের বিবেকে অবশ্যই নাড়া দেয়। আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে একটি খারাপ অভ্যাস চেষ্টা করলে অবশ্যই পরিবর্তন করা সম্ভব। আমরা এই সুবিধা নিজে ভোগ করে অন্যের সাথেও যখন আলোচনা করতে পারবো তখন পরিবারের লোকজন থেকে শুরু করে সমাজ দেশ ও জাতিকে পরিবর্তন করা সম্ভব। নিজে পরিবর্তনের পাশাপাশি গোটা সমাজকে পরিবর্তন করতে এই মন্দ আচরণ পরিবর্তনের কৌশল সমূহ অনুসরণ করা উচিত।
আমরা যারা আমাদের খারাপ আচরণ বুঝতে পারি তারা ধূমপান ত্যাগের মতো সকল মন্দ, আচরণ পরিবর্তন করতে এই ধাপগুলো কৌশল হিসেবে অবলম্বন করে নিজেকে সংশোধন করতে পারি। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতিকর সকল মন্দ আচরণ ত্যাগ করে ভালো আচরণ বৃদ্ধি করে সমাজ ও দেশকে সুন্দরভাবে সাজাতে এগিয়ে আসতে হবে। যদি আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ মন্দ আচরণ ত্যাগ করতে পারি তবে গোটা সমাজ হবে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল। আসুন আচরণ পরিবর্তনের কৌশল অবলম্বন করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT