উপ সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গ

নূরুল হোসাইন ফারুক প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৩-২০১৮ ইং ০০:৫৬:০৫ | সংবাদটি ৯৫ বার পঠিত

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ১৯৮২ সালের আইনে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা অর্জনের সম্ভাবনা কার্যকরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া সত্ত্বেও, বার্মায় আইন ও সংখ্যালঘুতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে তাদের জাতীয় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে। এছাড়াও তাদের আন্দোলনের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা এবং সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা ১৯৭৮, ১৯৯১-৯৫, ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৬-২০১৭ সালে ব্যাপকভাবে সামরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সর্বশেষ মায়ানমারের নিষ্ঠুর সেনাবাহিনী ও উগ্রবৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের খাদ্য এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। যা বাংলাদেশের মতো ছোট একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এই বোঝা দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব হবে না। পত্রিকায় খবর আসছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মায়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল চাও সোয়ে বাংলাদেশ সফর করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার কতটুকু আন্তরিক। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষর হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে প্রথম দফায় শুধু এবার আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু মায়ানমারের মন্ত্রীরা বাংলাদেশ সফর করেই চলছেন ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজ কখন যে শুরু হবে তা স্পষ্ট করা হচ্ছে না। তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সময়ক্ষেপণ করা এটিও মায়ানমারের একটি কৌশল। তার চেয়ে বড় কৌশল হচ্ছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চায় না মায়ানমার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বার বার রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত এর তাগিদ দিলেও মায়ানমার সেদিকে কর্ণপাত করেনি। যদি আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয় তাহলে আবারও যে তাদের কপালে দুর্দশা নেমে আসবে না তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে যারা ব্যাপক সহিংসতার স্বীকার হয়ে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এটিকে রীতিমতো জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়াও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির প্রধান রাদ আল হোসাইন, তুরস্ক প্রেসিডেন্ট এরোদগান ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে প্রায় একই কথা বলেছেন। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে আহ্বান করেছে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাশে সারা বিশ্ব রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের জীবন পুনরায় হুমকির সম্মুখীন হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগে উচিৎ হবে জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মায়ানমার এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, তাদের বাড়িঘর পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি ‘কফি আনান কমিশনের সুপারিশ’ বাস্তবায়ন করতে হবে। এগুলো যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে রোহিঙ্গারা যেমন তাদের জন্মভূমি ফিরে পাবে তেমনি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে না। কাজেই সরকার সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিৎ এই বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি দেওয়া।
লেখক: শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বিভাগ এম.সি কলেজ।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রসঙ্গ : রিকসা ভাড়া
  • পেছন ফিরে দেখা-ক্ষণিকের তরে
  • অবাধ ও সুষ্ঠু নিবার্চনের প্রত্যশা
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • অরিত্রী : অস্তমিত এক সূর্যের নাম
  • স্বপ্নহীন স্বপ্নের তরী
  • মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান
  • নয়া রাষ্ট্রদূত কী বার্তা নিয়ে এসেছেন?
  • ফেসবুক আসক্তি
  • কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভা প্রসঙ্গে
  • শিক্ষার্থীদের শাস্তি এবং অরিত্রী প্রসঙ্গ
  • রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ শিল্প টিকিয়ে রাখা ও উন্নয়ন জরুরি
  • হাফিজ মোবাশ্বির আলী
  • Developed by: Sparkle IT