মহিলা সমাজ

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৩-২০১৮ ইং ০২:২৬:৩৮ | সংবাদটি ১৩৬ বার পঠিত

 


সাজাওনা বাসর
মুনিরা সিরাজ চৌধুরী রাজু
ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে ভেসে;
যাওগো চলে দূরে।
নিশীকালে গেওনা গান;
উদাস করা সুরে।

লক্ষ্মী পেঁচা সাথী তোমার;
সাথী রাতের তারা।
তোমার গানে বাউল মন;
হয় যে পাগল পারা।

ডুবলে তরী সাঁতরে চল;
ক্লান্ত যাযাবর।
আবির মাখা সাঁঝের আলোয়
সাজাওনা বাসর।

গৃহিনী
শামীমা কালাম
যাই হোক ভয় করিনা আর ....
আজ বলবোই, খুলবই তালাবদ্ধ কাহিনি,
আমি বাঙালি নারী সুফিয়া, পেশা আমার গৃহিনী।
স্বামী আছে, ছেলে আছে, সাংসার আছে
তবু আমার পৃথিবীতে আমি একেলা,
পালন করি শত হুকুম শত দায়িত্ব
শুধু নিজের কপালে জুটে অবহেলা।
রোজ রোজ রান্না ঘরের আগুনে সবুজ তরি তরকারি
সিদ্ধ করি, সাথে পুড়াই মনখানা,
সংসার চলছে ¯্রােতে ¯্রােতে,
হাড়ি-পাতিল জামা ধুতে।

স্বামী হলেন রাজনীতিবিদ,
আমার উপর ঝাড়েন জিদ।
রাজনীতির ধমকা টানে,
মাঝে মাঝে আমার চুল ছিড়ে
আমার চূড়ি ভাঙ্গে, দাঁত ভাঙ্গে, হাত ভাঙ্গে,
মন ভাঙ্গে, বিছানা ভাঙ্গে, আসবাব ভাঙ্গে
সম্পর্কখানাও ভাঙ্গনে ঝুলন্ত থাকে।
জন সমাবেশের ভাষণে অভ্যস্ত হওয়ায়
রাজপথ থেকে রাতের মাঝপথেও
আমার মা-বাবা তুলে গালি শুনি বজ্রকণ্ঠে
পেয়াজ মরিচের ঝাল আমাকে জ্বালিয়ে
হলুদিয়া রং রাঙ্গিয়ে তুলে,
বসন্তে-হেমন্তে-শরৎ-শীতে আমায় গ্রাস,
বর্ষা আমার দুখেই বহে বার মাস।
একমাত্র ছেলেটা বাবার পিছু পিছু মিলিয়ে যায়,
আমার ভাই তোমার ভাই বলে বলে, বাবার জয়গান গায়।
মদ, গাঁজা, সিগারেট, হিরোইন
এমনকি নর্তকিও আসে আমার ঘরে
কখনো বাবার, কখনো ছেলের,
আর আমি রান্না ঘরের অন্দরে ফোটি ফুটন্ত তেলের মত
আমি জন্মান্ধ নই, তবু দু’চোখে দেখিনা কিছুই,
কৈশোরে বাতাসে আম-জাম ঝরে পড়ার শব্দ শুনতে পেতাম
সে কান দু’খানা স্বামীর চড়ে তালাবদ্ধ,
তবু রীতির মোড়ক উন্মোচন করতে পারিনা
সত্যকে সত্য বলতে পারিনা
ক্ষমতার আলো, বাতির আলো, মোমের আলো
গলে গলে যায়, আমি অন্ধকারের আঙ্গিনায়।
আমার বেলকুনিতে রঙিন ফুল ফোটে ফুল ঝরে
তবু সাদা কালো মুখে কথা ফুটেনা?
দিন যায় দিন আসে মন হাসে না।

সাগর তীরে
নার্গিস মোমেনা
আমি কখনও সাগরে যাইনি
নীল জল দিগন্তও দেখা হয়নি
নোনা বালি তীর ঘুরে আসিনি
রক্তিম লাল সূর্য্যরে বিদায় লগ্ন
আমি দেখিনি
গোধূলী বেলায় তোমার পাশে দাঁড়িয়ে
হাতে হাত রাখিনি
ঐ দূর থেকে তেড়ে আসা ঢেউ
ভাঙতে দেখিনি
নগ্ন পায়ে হাঁটা আমার আর হলো না
মারাত্মক দুর্ঘটনায়
পা দুটি ভেঙে
এসব এখন শুধু আমার স্বপ্ন দেখা
অথচ এই তুমি
অসুস্থ আমাকে রেখে
চিত্তের কতোইনা সুখে
ঘুরেছ যথেচ্ছাভাবে
কক্সবাজার সাগর তীরে।

এই শহর আমার নয়
ঝরনা বেগম
আমি এই শহরের কেউ নয়
এখানকার কোনকিছু
আমি চিনি নাÑ
জানি না অলি গলি
আমি কুয়াশা ভোরে
কিংবা গা জ্বালানো গরমে
জেগে ওঠে দেখি
ঘুঁ ঘুঁ পাখি পাথর কণা
উদরে ভরছে, দেখি জলের
কলস কাঙখে নিয়ে বধূ
দীঘির ঘাটে যাচ্ছে
কখনো বা দেখি
সারি সারি মাছরাঙা
ছোট্ট কঞ্চিতে বসে শিকার ধরছে
আঁধার রাতে দেখি
হুতোম পেঁচা চোখ মেলে
তাকিয়ে আছে বাঁশ বনের ধারে
এই শহর তাই তো আমার নয়
কোলাহল আমার নয়
নীরব, নিস্তব্ধ গাঁয়ে
আমি থেকে যাবো, রয়ে যাবো।

বিজয়
সানজিদা খাঁন শিমু
বিজয়ের জন্য বাংলার মানুষ
মুক্তিযুদ্ধে দিয়েছে প্রাণ
হাজারো মা যে হারিয়েছে
তাদের সাহসী বীর সন্তান

দীর্ঘ নয় মাস লড়াই করার পর
মুক্তিযুদ্ধ হলো যে শেষ
বিজয়ের প্রতিধ্বনি দিয়ে
স্বাধীন হলো য়ে বাংলাদেশ।

প্রণয়ের চোখ
ফাতেমা আহমদ তুলি
আমি কখনো সমুদ্র দেখিনি
কিন্তু, তোমার চোখে আমি সমুদ্র দেখি।
ডুবে যেতে ইচ্ছে করে সেই সমুদ্রের গহীনে।

তোমার চোখে আমি আমার বিশ্ব দেখি।
তোমার মনের গোপন কথা, আমি
অনায়াসে অনুমান করতে পারি
তোমার চোখের সমুদ্রে সমুদ্র¯œান নিয়ে এক পলকেই।

তোমার চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, কালোÑ
বিরহের রঙ নয়, এ রঙ ভালোবাসার।
তোমার চোখে তাকিয়ে আমি কালো রঙের মাঝে
ভালোবাসা খুঁজে নিতে শিখেছি।

সত্যিই অপূর্ব তোমার চোখ।
তোমার চাহনিতে আমি খোঁজে নিয়েছি আমায়।

ধাপ্পা
আশা মণি
মুক্তির তটে খেয়া নোঙর করো না
তুমি যাকে বলো মুক্তি
আমি বলি মৃত্যু
বন্ধনের পলকা বাঁধনে আবদ্ধ থেকো

প্রতিপক্ষকে অনিবার্য করো না
সিদ্ধান্ত নাও এখনই সময়
সময়কে ঢালুপথে গড়িয়ে দিওনা।
কী চাও? কী লাভ?

জীবনতো নিরবধি নয়
লক্ষ্মী নদরের শেকল কেটে
রাজপুত্র আসবে না
এ সময় বড় অসময়

রাজপুত্র এখন রাজপথের ভিখারী
ঘুণে ধরা প্রিয় ফার্ণিচার
ঠোকা মেরেই দেখো
আগে পিছু সবই ধাপ্পা।

 

 

অমর বজ্রকণ্ঠ
পাঁপড়ি রানী রায়
তোমাকে আর কোনোদিন দেখতে পাব না
তোমার বজ্রকণ্ঠ আর শুনতে পাব না
আর কোনোদিন আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে
তোমার মেঘমন্ত্র কণ্ঠস্বর শুনতে পাবো না
ভাগ্যাকাশের ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতগুলো
তুমি সাজিয়ে দিলে
প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় একটি জাতির
মুক্তির মহামন্ত্রে।
তোমার বুকে বেষ্টিত ছিল স্টেনগান
পাক হায়েনার দল তোমাকে ঘিরে রাখে
কখন চালাবে গুলি
বিজলির ঝিলিকের মতো, সমুদ্রের গর্জনের মতো
শত বাঁধা পেরিয়ে গণসমুদ্রের মঞ্চে দাঁড়িয়ে
তুমি শুনালে মোদের মুক্তির মহাবাণী।
তোমার বাণী এসে লাগল জনতার কর্ণকুহরে
বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে
মুক্তির সংগ্রামে
শত বাঁধা পেরিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে ঠাই নিল
একটি ফুটন্ত গোলাম, নাম তার বাংলাদেশ।
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তোমার বজ্রকণ্ঠের ভাষণ
স্বীকৃতি পেল বিশ্বসভায় এই হেমন্তে
বিশ্ববাসী আবার শুনলো তোমার বজ্রকণ্ঠ।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT