প্রথম পাতা মেডিকেল কলেজে শোকের ছায়া

বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ছিলেন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে দেশে ফি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৩-২০১৮ ইং ০২:৪২:২৩ | সংবাদটি ১১০ বার পঠিত

এমবিবিএস ডিগ্রী নেয়া হলো না সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থীর। গতকাল সোমবার দুপুরে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা কবলিত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রী ছিলেন তারা। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত রোববার এমবিবিএস কোর্সের শেষ পরীক্ষা দিয়ে পরদিন গতকাল সোমবার তারা নিজ দেশ নেপাল ফিরছিলেন। এই ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
ঘটনার পর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মো. আবেদ হোসেন গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, বিধ্বস্ত বিমানটিতে তাদের ১৩ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে ১১ জন ছাত্রী ও ২ জন ছাত্র । এরা সকলেই নেপালের বাসিন্দা। তবে তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
ডা: মো. আবেদ হোসেন আরো জানান, চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় ছুটি কাটাতে নিজ দেশে যাচ্ছিলেন মেডিকেল কলেজের নেপালী ১৩ শিক্ষার্থী। তারা হচ্ছেন- ১৯তম ব্যাচের সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্ণিমা লোহানি, শ্রোতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি।
কলেজের অধ্যক্ষ আরো বলেন, চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশের জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগে। সাধারণত রেজাল্ট বের হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো অ্যাসাইনমেন্ট থাকে না। তাই ওই সময়ে সবাই নিজেদের বাড়িতে চলে যায়। তাদের রেজাল্ট বের হলেই নিজেদের এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জনের কথা ছিল। অধ্যক্ষ বলেন, এ ঘটনায় আমরা শোকাহত। এ কারণে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষাও বন্ধ থাকবে। এছাড়া কলেজের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জালালাবাদ রাগীবÑ রাবেয়া মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ২৫০ জন নেপালী শিক্ষার্থী রয়েছেন। সদ্য চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া ১৯ তম ব্যাচে ১৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন ছিলেন নেপালী। এর মধ্যে পরীক্ষার পরবর্তী ছুটিতে গতকাল এই ১৩ জন শিক্ষার্থী নিজেদের দেশে যাচ্ছিলেন। গতকাল সোমবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আবেদ হোসেন আরও জানান, আমরা নেপালী অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। একই সঙ্গে তাদের দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে সবাই নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা। রোববার রাতে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে করে সিলেট থেকে ঢাকা যান ওই ১৩ শিক্ষার্থী। কলেজের অ্যাম্বুলেন্স তাদের বাসে তুলে দেয়।
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার আনন্দে বেশ উৎফুল্ল ছিলেন এসব শিক্ষার্থী। তাদের সহপাঠীরা জানান, পুরো কলেজ ক্যাম্পাস হাসি খুশিতে মাতিয়ে রাখতেন এসব শিক্ষার্থী।
ইসরাত জাহান নামের এক শিক্ষার্থী জানান, এক বছরের সিনিয়র ছিলেন তারা। এর মধ্যে অনেক আপু তাদের খুব ¯েœহ করতেন। তিনি জানান, নেপালী শিক্ষার্থীরা খুব কম সময়ে বাংলা ভাষা বুঝতে ও বলতে পারতেন। ফলে অল্প সময়ে তারা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতেন। সিনিয়র আপু ও ভাইদের এমন পরিণতিতে তারা শোকাহত বলে জানান।
এদিকে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা হলেও কেউ কথা বলতে চায়নি। সবাই অনেকটা ভেঙে পড়েছেন।
মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী মশিউর রহমান জানান, আমরা জানতে পেরেছি ১৩ জনের মধ্যে ২ জন বড় ভাই রয়েছেন । বাকিরা আপু। যে দুই ভাই বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন তারা খুব সহজে আমাদের কাছে টেনে নিতেন। বিশেষ করে গত রোববার শেষ পরীক্ষার পরে অনেক উৎফুল্ল দেখা গেছে তাদের। মশিউর সকলের মঙ্গল কামনা করেন।
নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটিতে যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জনই বাংলাদেশের ছিলেন। ওই ফ্লাইটের মোট ৬৭ জন যাত্রীর মধ্যে ৩৩ জন নেপালের, একজন করে মালদ্বীপ ও চীনের নাগরিক ছিলেন।
ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন ছিলেন যাত্রী, বাকিরা ক্রু। তাদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী এবং দুইজন শিশু।
এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১ ঢাকার শাহজালাল এয়ারপোর্ট থেকে রওনা হয় বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে। নেপাল সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নামার সময় বিমানের পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে উড়োজাহাটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে সাথে সাথে আগুন ধরে যায়।
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন খুলেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ফেঞ্চুগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ
  • মোমেন-মুক্তাদীরের মিশন শুরু
  • সিলেট প্রতীক পেয়ে ভোটের লড়াইয়ে প্রার্থীরা
  • কাল প্রচারণা শুরু করবেন শেখ হাসিনা
  • খালেদার প্রার্থিতা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ
  • বিজয়ের মাস :
  • প্রার্থিতা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট
  • মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ভোট দিয়ে তরুণরা ইতিহাসের অংশীদার হবেন
  • ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন সিলেট বিভাগের ৩৮ প্রার্থী
  • সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মেয়াদ বাড়লো
  • সিলেট বিভাগের ১২ আসনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করবে জাপা ও খেলাফত মজলিস
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ
  • সিলেট বিভাগে চূড়ান্ত ভোট যুদ্ধে ১১৪ প্রার্থী
  • খালেদা জিয়া মামলা নিয়ে কানামাছি খেলেছেন: কাদের
  • সন্তানদের বেগম রোকেয়ার আদর্শে গড়ে তুলতে হবে
  • নৌকার প্রার্থী ২৭২, আওয়ামী লীগের ২৫৮
  • ধানের শীষের প্রার্থী ২৯৮ আসনে, বিএনপির ২৪২
  • টেকনোক্র্যাট ৪ মন্ত্রীকে অব্যাহতি
  • বিজয়ের মাস
  • ড. কামালের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখছে এনবিআর
  • Developed by: Sparkle IT