উপ সম্পাদকীয়

বেসরকারি শিক্ষকদের বৈশাখীভাতা প্রসঙ্গ

জ্যোতিষ মজুমদার প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৩-২০১৮ ইং ০২:৪৯:৪৬ | সংবাদটি ১৬৭ বার পঠিত

২০১৫ সালে ১৫ ডিসেম্বর ঘোষিত জাতীয় বেতন কাঠামোতে প্রথম বারের মতো বাংলা নববর্ষ ভাতা চালু করা হয়। নতুন বেতন কাঠামোতে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের জন্য সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ মূল বেতনের ২০% নববর্ষ ভাতা পান। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারিদের পাশাপাশি বেশকিছু বেসরকারি খাত ও এগিয়ে এসেছে বাংলা নববর্ষের ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়ায়। ধারণা করা হয় এ ধরনের ভাতা দেওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্ব এবং আন্তরিকতা আরো বাড়বে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত সর্বজনীন বৈশাখী উৎসবকে আরো উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পালনের জন্য এ ভাতা চালু করে সরকার। বাংলা নববর্ষের শুভলগ্নে এ ভাতা প্রদান সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
শিক্ষা একটি দেশের চালিকা শক্তি। আমাদের দেশের শিক্ষা-ব্যবস্থার ৯৮% পরিচালন বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীগণ বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগন জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নীতিগতভাবেই বেতন স্কেলের সব নির্দেশনা ও সুবিধা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আজ পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত সাড়ে পাঁচ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ বৈশাখী ভাতা এবং ৫% ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন না।
শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। বহিঃর্বিশ্বে নিজেদের গৌরবময় অবস্থান তুলে ধরতে একজন আদর্শ শিক্ষকের অবদান কোন রাষ্টনায়ক, অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ বা কোন সমাজ নেতার চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, একজন আদর্শ শিক্ষক দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান ও শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্যতম। ব্রতচারী মনোভাব নিয়ে নিরক্ষরকে অক্ষরদান ও শিক্ষিত করে গড়ে তোলেন বলেই শিক্ষকগণকে মানুষ গড়ার কারিগর বলে অভিহিত করা হয়, কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় এই মহান কারিগরদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার কথা বলতে গেলে বলতে হয়, তা চরমভাবে উপেক্ষিত। একটি স্বাধীন দেশের জন্য আমাদের শিক্ষকতার অবস্থা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
আমরা বেসরকারি শিক্ষক ৯৭% শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা দিয়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসক ও নেতা-নেত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর চাকুরিজীবি আমরাই তৈরী করি। জাতির বুনিয়াদ গঠনে এবং দেশের যশ, খ্যাতি, সমৃদ্ধি, সম্প্রসারণ তথা জাতীয় আদর্শ ঐতিহ্যের ধারা সংরক্ষণে শিক্ষকের ভূমিকা যে কোন পেশাগত কর্মীর চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা অনস্বীকার্য যে, জাতি গঠনে শিক্ষকের অবদান সবচেয়ে বেশি। কারণ অন্যান্য পেশার পেশাজীবীদের শিক্ষার প্রারম্ভিক হাতেখড়ি হয় শিক্ষকদের কাছেই। সুক্ষভাবে বিচার হলে দেখা যায় শিক্ষক হলেন দেশ-সমাজ গঠনের কর্ণধার।
শিক্ষা ছাড়া কোন জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এই শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলেন শিক্ষক। তিনি শিক্ষার সামগ্রিক পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপদান করেন। এইজন্য শিক্ষককে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণ বলা হয়। শিক্ষকগণ মানব সন্তানকে মানবিক গুনাবলি দিয়ে সত্যিকার মানবে পরিণত করেন বলেই তাদেরকে বলা হয় দ্বিতীয় জন্মদাতা। শিক্ষকতা সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন পদ। একজন মানুষের জীবনে তার পিতা-মাতার পরই সর্বোচ্চ আসনে শিক্ষকের স্থান। দেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও যদি তার শিক্ষককে সামনে দেখেন তখন শ্রদ্ধায় মাথা নত করেন। আর সেই শিক্ষকগণই আজ সমাজে অবহেলিত। শুধু তাই নয় ২০১৫ সালে ২০ ডিসেম্বর জারি করা এক আদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ‘অনুদান সহায়তা’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে শিক্ষকদের অপমানিত করা হয়েছে।
আমরা মনেকরি শিক্ষকদের অমর্যাদায় রেখে শিক্ষার উন্নয়ন ও এসডিজি-৪ বাস্তবায়ন কখনই সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আগামি বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য ব্যক্তিগত ও দলীয় বিবেচনার উর্ধ্বে উঠে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে হবে এবং বেসরকারি শিক্ষকদের অবশ্যই বৈশাখী ভাতা প্রদান করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্থ হবে।
লেখক : প্রভাষক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • অরিত্রী : অস্তমিত এক সূর্যের নাম
  • স্বপ্নহীন স্বপ্নের তরী
  • মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান
  • নয়া রাষ্ট্রদূত কী বার্তা নিয়ে এসেছেন?
  • ফেসবুক আসক্তি
  • কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভা প্রসঙ্গে
  • শিক্ষার্থীদের শাস্তি এবং অরিত্রী প্রসঙ্গ
  • রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ শিল্প টিকিয়ে রাখা ও উন্নয়ন জরুরি
  • হাফিজ মোবাশ্বির আলী
  • কীর্তিগাথা ক্রিকেটে অদম্য টাইগাররা
  • তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণ হোক
  • দেশী মাছের আকাল ও সংরক্ষণ
  • Developed by: Sparkle IT