উপ সম্পাদকীয়

এইচএসসি পরীক্ষার কী হবে

মোঃ জহিরুল আলম শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৩-২০১৮ ইং ০২:৫০:৪১ | সংবাদটি ১৭১ বার পঠিত

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্ন পত্র ফাঁস যে মহামারী আকার ধারণ করেছে তাতে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক মহল, শিক্ষক, শিক্ষাবিদরা, শিক্ষা দরদীরা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আর দায়িত্বশীল মহলও বিব্রত। গত ১ ফেব্রুয়ারি হতে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। উক্ত পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফাঁস হওয়ার মাঝেই পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ধারাবাহিকভাবেই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস থামানো গেছে না। আবার আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষা। এই পরীক্ষা কী সুষ্ঠুভাবে নেওয়া সম্ভব হবে? যেভাবে পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন ফাঁসের আশায় ছুটছে তা কী বন্ধ হবে? প্রশ্নপত্র সুরক্ষা করা কী সম্ভব হবে? এমন নানা প্রশ্নই আমাদের মাঝে উদয় হচ্ছে। কোনো আশার আলো যেন আমাদেরকে নিশ্চিত করতে পারছে না। কারণ বার বার গত এস.এস.সি পরীক্ষার পরিবেশ মনে করিয়ে দেয়। কোনো নিশ্চয়তা যেন আমরা পাচ্ছি না। আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কী করব তা ভেবে পাচ্ছি না।
গত এস.এস.সি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিক পত্র ফাঁসের খবর দেশের পত্র পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। যা পড়ে সর্বমহল হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু না, কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা গেল না। অবশেষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিলেন অপরাধীকে ধরিয়ে দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। না, তাতেও মূল অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করা গেল না। দেশের কোনো সংস্থাই বাতাসে ওড়াউড়ি করা প্রশ্ন ফাঁসের ঢেউ থামাতে পারেনি। এ ব্যর্থতার দায় আমাদেরই। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছি। তথ্য প্রযুক্তির সাথে তালমিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এগুতে পারেনি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁসের অপরাধীকে সনাক্ত করতে। অপরাধীরা ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করছে। অথচ কেউ তাদের ধরতে পারল না। সুতরাং আমরা কোন প্রযুক্তি অর্জন করছি আর কাজে লাগাচ্ছি। আমরা কোথায় যাওয়ার কথা কোথায় যাচ্ছি।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার সংবাদ ছিল ‘আমাকে কেউ ধরতে পারবে না’ এবং ‘ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস, ধরার কেউ নেই।’ এই সংবাদগুলো শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সত্যি হলো, সব পরীক্ষার প্রশ্নই ফাঁস হলো। তারপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ‘যুগান্তর’ পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম ‘এবার এইচ.এস.সির প্রশ্ন ফাঁসের আগাম ঘোষণা’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শতাধিক অ্যাডমিন থেকে প্রশ্ন ফাঁসের এমন ঘোষণা সারাদেশবাসীকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। হতাশায় দিন কাটাচ্ছে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী। কী হবে আগামী এ পরীক্ষার পরিবেশ। আগামী পরীক্ষার জন্য কেমন সতর্ক হচ্ছেন সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে আগাম ঘোষণা ঠেকাতে। সরকার কী পারবে এমন দুঃসাহসিক দেশ ও জাতির শত্রুদের সনাক্ত করতে? তার ব্যবস্থা নিতেই হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারটি প্রাথমিক শিক্ষার স্তর হতে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এই কচি কচি শিক্ষার্থীদের নেশাগ্রস্ত করে তুলছে। অতি সহজে হাতে পাওয়া স্মার্টফোনের কারণে বিষয়টা মাদকসেবীদের নেশার ন্যায় শিক্ষার্থীর মাঝে মিশে যাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতি জরুরি। প্রশ্ন ফাঁসের খবর জানার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি মানসিক চাপ তৈরি হতে থাকে। তার মধ্যে এক ধরণের বিপন্নবোধ কাজ করে। আর নিজেদের মধ্যে একটা প্রবণতা জন্মায় সবাই প্রশ্ন পাচ্ছে, আমি কেন পাচ্ছি না। সবাই আমার চেয়ে ভালো ফল করে ফেলবে। আর আমি পেলে আমিও খুব ভালো ফল করতে পারতাম। এই ভাবনার তাড়নায় শিক্ষার্থীরা মোবাইল নিয়ে ইন্টারনেট, ফেসবুকে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে সর্বপ্রথম ফেসবুকে প্রশ্ন কেনার হাট বন্ধ করতে হবে। এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত দরকার দেশ ও জাতির নতুন প্রজন্ম রক্ষার্থে। তাই যদি না হয় আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার নেমে আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিগত এসএসসি পরীক্ষায় যে পরিবেশ দেখলাম তা কল্পনাকে হার মানায়। শিক্ষার্থীরা বইপত্র রেখে রাত দিন ছুটছে প্রশ্ন ফাঁসের খবরে। তার সাথে অভিভাবকরাও নিজের বিবেক, বুদ্ধি, নীতি, নৈতিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে সন্তানের পরীক্ষার প্রশ্নের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন এবং সংগ্রহ করেন।
আসলে আমরা কেন চিন্তা করি না যে অবৈধ পথের অর্জিত সম্পদ কোন দিন স্থায়ী হয় না। কোন কাজেও আসে না। যে সন্তানকে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন হাতে এনে দিয়ে পরীক্ষা দিতে বলি সেই সন্তান পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে কী লাভ? সে কেমন মেধা নিয়ে বড় হবে। সে সন্তান বড় হয়ে আপনাকে কী দিবে? আসলে আপনি নিজেই আপনার আদরের সন্তানের মুখে বিষের পেয়ালা তুলে দিচ্ছেন। বিষ যেমন মানব শরীরকে ধীরে ধীরে অবশ করে দেয় তেমন সন্তানের হাতে তুলে দেওয়া প্রশ্নটি আপনার ভবিষ্যৎ আশায় সন্তানের মেধাকে দংশন করে নিথর বিবেকে পরিণত করবে। ভাবুন নিজের সন্তানের কথা। আসলে সন্তানের উপস্থিত সফলতার কথা ভেবে একটি অন্ধকূপের পথে ধাবিত হচ্ছেন। এর ফলাফল হবে এই কূপেই ¯েœহের সন্তানের মেধা চাপা পড়বে। সুতরাং সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাই এভাবে জেনে শুনে আমাদের জাতির ভবিষ্যতকে অন্ধকূপে চাপা দিবেন না। ধ্বংসের পথে পা বাড়াবেন না। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পিছনে ছুটবেন না। বরং প্রত্যেকে নিজের সন্তানকে প্রকৃত শিক্ষার পিছনে দৌড়ান, নিজেরাও সেই পথে হাটুন। প্রকৃত সফলতা বয়ে আনতে সন্তানকে সাহায্য করুন। তবে অবৈধ শিক্ষা দিয়ে সফলতা অর্জন করাবেন না।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল কারণ আসলে এম সিকিউ (মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চন) (বহুনির্বাচনী প্রশ্ন)। অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে এর উত্তর প্রস্তুত করা যায় বিধায় কুচক্রীমহল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আশায় প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের কাজে অথবা তৈরীর কাজে নিয়োজিত অসাধু লোকদের সহায়তায় তা ফাঁস করে। সুতরাং বলা যায় শিক্ষা পদ্ধতির কারণে দেশের প্রতিস্তরের প্রশ্নপত্র ফাঁস ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে। প্রাথমিক স্তর হতে উচ্চ শিক্ষা স্তর পর্যন্ত এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। গত দুই যুগ ধরে যা দেখছি তা হলো শিক্ষা ব্যবস্থার পদ্ধতি ঘন ঘন বদলানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষা বিষয়টিকে ঘনিষ্ঠভাবে শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করতে পারছে না। অপরদিকে বর্তমানে শিক্ষার পাসের হার বাড়ছে ঠিকই কিন্তু গুণগত মান বাড়ছে না। এম সিকিউ নামে যে প্রশ্ন পদ্ধতি চালু আছে তার উত্তর শিক্ষার্থীরা আনুমানিক ভাবে বৃত্ত ভরাট করে থাকে। কোনো কোনো পরীক্ষার সময় বাহির থেকে ঠিক চিহ্ন দিয়ে প্রস্তুত করে ভিতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আসলে এতে শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পরিধি বাড়ছে না বরং শিক্ষার্থীরা মেধাশূন্য হচ্ছে। বইয়ের বিদ্যা অর্জন করে পরীক্ষার হলে বসছে না। এটা পরীক্ষার্থীর দোষ নয়। শিক্ষা পদ্ধতি দায়ী। আমাদের দেশে কোনো জিনিস চালু করতে কোনো গবেষণা, পর্যাপ্ত যাচাই বাছাই ও অদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে এবং জাতিগঠনের অবদান না ভেবেই শুরু করা হয়। ফলে চালু করা পদ্ধতির মধ্যবর্তী সময়ে তা থামাতে হয়। আমি পরীক্ষা পদ্ধতি বদলানোর বিপক্ষে নই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অবশ্যই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে তা ধ্রুব সত্য। আমাদের দেশে যে আশায় এমসিকিউ পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল তার উল্টো ফল অর্জিত হয়েছে।
শিক্ষা পদ্ধতির ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯৯১ সালে সরকার শিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের কাজে হাত দেয় এবং ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ আর ৫০ নম্বরের লিখিত ব্যাখ্যামূলক রচনামূলক প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করে। তখন শিক্ষার্থীদের সিলেবাসে ৫০ নম্বরের এমসিকিউর জন্য ৫০০টি প্রশ্ন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তার সাথে নির্ধারণ করা হয় যে বহুনির্বাচনী ও রচনামূলক মিলে ৩৩ নম্বর পেলেই পাস হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা রচনামূলক বাদ দিয়ে ৫০০ বহু নির্বাচনী প্রশ্ন মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে বসত। এতে করে পাসের হার রাতারাতি বেড়ে যায়। তারপর দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষা ব্যবস্থায় আবার পরিবর্তনের কাজে হাত দেয়। এতে নির্ধারিত ৫০০ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বাদ দিয়ে প্রত্যেক বিষয়ের পুরো বই থেকে এমসিকিউ প্রশ্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তারপর থেকে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে উত্তর সংগ্রহ করার নানা ছলচাতুরী। পরে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ পরিবর্তন করে তা আনা হয় ৪০ নম্বরে। আর রচনামূলক করা হয় ৬০ নম্বরের এবং আলাদা আলাদা পাস। তারপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চালু হয় এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেওয়ার রীতি। ২০০৯ সালে শুরু হয় সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন এবং অভিন্ন প্রশ্ন পত্রে এসএসসি পরীক্ষা। প্রশ্ন পত্র ফাঁসের পথ বন্ধ করতে ২০১৪ সালে সরকার আবার চালু করে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে ভিন্ন প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা। এতে বোর্ড ভিত্তি আলাদা প্রশ্ন পত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চলতি বছর আবার এসএসসি পর্যায়ে অভিন্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলো। আর প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামারীর কারণে আবার পরীক্ষা পদ্ধতি বদলানোর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। গত আট বছরে পরীক্ষা পদ্ধতি চারবার বদলানো হয়েছে। ঘন ঘন শিক্ষা পদ্ধতি বদলানো শিক্ষার্থীর ওপর একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার সাথে শিক্ষার্থীরা মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী কেউই প্রকৃত শিক্ষার পথে স্থির থাকতে পারছে না। যা শিক্ষার মান উন্নয়নে একটা বিরাট বাধা মনে হচ্ছে।
২০০৯ সাল হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী শুরু হয়। এ পর্যায়ে ১০ শতাংশ সৃজনশীল প্রশ্ন পত্র দিয়ে পরীক্ষা শুরু হয় ২০১২ সালে। ২০১৩ সালে ২৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৩৫ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৫০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৮০ শতাংশ এবং ২০১৮ চলতি বছর হতে শতভাগ সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ার কথা। ২০১০ সাল হতে মাধ্যমিক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণিতে জেএসসি পরীক্ষা এবং মাদরাসা পর্যায়ের জেডিসি পরীক্ষা সরকার চালু করে। ২০১০ সাল থেকেই এসএসসিতে তিন টি বিষয়ের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করে সরকার। ২০০১ সালে ১২ মার্চ সরকার এক প্রজ্ঞাপন করে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে পরীক্ষার ফলাফল গ্রেডিং পদ্ধতিতে চালু করে। ২০১৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। ২০১৫ সালেই এসএসসি পর্যায়ে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র‌্যাংকিং বাতিল করে সরকার। ২০১৭ সালে আবার এমসিকিউ ৪০ এর পরিবর্তে ১০ কমিয়ে ৩০ নম্বরে আনা হয় আর রচনামূলক ৭০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়। জ্ঞানী, গুণী, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ২০১৬ সালের ১৭ মে শিক্ষামন্ত্রণালয় ‘মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এমসিকিউ পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। আমরাও চাই এমসিকিউ পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দিয়ে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করা হোক। আমরা যা কিছুই করি না কেন আমাদের গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত।
প্রশ্নপত্র ফাঁস করার কুচক্রীমহলদের ব্যবস্থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত উন্মুক্ত করা না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত যত পদ্ধতিই পরিবর্তন করা হোক না কেন, প্রশ্ন ফাঁস রীতিতে পরিণত হবে এবং বন্ধ করা যাবে বলে মনে হয় না। এতে এ বিষয়ের অপরাধপ্রবণতা দারুণভাবে বেড়ে যাবে। সুতরাং যে কোনো ভাবেই হোক প্রশ্ন ফাঁসের মূল উপড়ে ফেলতে হবে। এ চক্রের সাথে বিদেশের কোনো চক্র জড়িত কি না তাও ভাবতে হবে। অথবা বিদেশে বসে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার কোনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনা হচ্ছে কিনা তা সরকারকে গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। দেশের সর্বমহলকে তাতে এগিয়ে এসে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার পথ সুগম করতে হবে।
লেখক : শিক্ষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • অরিত্রী : অস্তমিত এক সূর্যের নাম
  • স্বপ্নহীন স্বপ্নের তরী
  • মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান
  • নয়া রাষ্ট্রদূত কী বার্তা নিয়ে এসেছেন?
  • ফেসবুক আসক্তি
  • কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভা প্রসঙ্গে
  • শিক্ষার্থীদের শাস্তি এবং অরিত্রী প্রসঙ্গ
  • রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ শিল্প টিকিয়ে রাখা ও উন্নয়ন জরুরি
  • হাফিজ মোবাশ্বির আলী
  • কীর্তিগাথা ক্রিকেটে অদম্য টাইগাররা
  • তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণ হোক
  • দেশী মাছের আকাল ও সংরক্ষণ
  • Developed by: Sparkle IT