উপ সম্পাদকীয়

শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ হাকীম এস.এম. লুৎফুর রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৩-২০১৮ ইং ০২:৫৩:৪০ | সংবাদটি ৫৬ বার পঠিত

দেশের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ শ্রীহট্ট সংস্কৃত ও আয়ুর্বেদ কলেজটি ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৯২০ ইং সালে সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল মিরের ময়দানে স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ ও আসাম সরকারের রাজত্বকালে এই অঞ্চলে সংস্কৃতি চর্চা সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও কিছু সংখ্যক সংখ্যালঘু নৃ-গোষ্ঠীদের আকৃষ্ট করে তোলে। ফলশ্রুতিতে সংস্কৃতমনা পন্ডিতদের প্রচেষ্টায় কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। সংস্কৃত প্রাচ্য ভাষার একটি উল্লেখযোগ্য ভাষা। প্রাইমারি ও হাইস্কুলের (হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের) ধর্মীয় শিক্ষক এই কলেজ থেকে তৈরি হয়। এই কলেজে সংস্কৃতের সাথে কাব্যতীর্থ ও ব্যাকরণ, প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিক্ষা দেয়া হয়। ফলে আয়ুর্বেদ চর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এই কলেজ থেকে প্রতি বছর আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে শিক্ষার্থীরা সাড়ে চার বৎসরের ডিপ্লোমা কোর্স ডিএএমএস কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন। বর্তমানে কলেজের ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন- সিলেটের প্রখ্যাত ভেষজরতœ ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রী ড. এডভোকেট দিলীপ কুমার দাস চৌধুরী। তিনি অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসেবে দিন রাত প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তাঁর একাগ্রতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় কলেজ ক্যাম্পাস আধুনিকত্ব পেয়েছে। কলেজে মনোমুগ্ধকর অডিটোরিয়াম, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরির নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কলেজের শিক্ষকবৃন্দ সর্বদা অধ্যক্ষ মহোদয়কে সহযোগিতা দিচ্ছেন।
কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক উত্তম বাবুর দুর্লভ ঔষধি বৃক্ষের বাগান দর্শনীয়। সর্বোপরি কলেজটি বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাতছানি দিচ্ছে। সংস্কৃতের সাথে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে। প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বর্তমান সরকারের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা সেবায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তার গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায়ই দুই’শ এর মতো আয়ুর্বেদিক ঔষধ কারখানা সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে মান নিয়ন্ত্রণ ঔষধ সামগ্রী উৎপাদন করছে।
সিলেটের এই ঐতিহ্যবাহী কলেজের অনেক ছাত্র-ছাত্রী ডিপ্লোমা অর্জন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সেবায় অবদান রাখছেন। সাম্প্রতিক এই কলেজের চূড়ান্ত বার্ষিক কোয়ালিফাইং পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড কর্তৃক বিগত অর্থ বৎসরে প্রায় পঁয়তাল্লিশ লক্ষ টাকা কলেজের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ মঞ্জুর করেছেন। আগামী এপ্রিল মাসে বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মহোদয় ও সম্মানিত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক/ সচিব ড. এ. কে. এম. হারুনুর রশিদ সাহেব প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। উনাদের শুভাগমনে কলেজটির কার্যক্রম আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা পোষণ করছি। আমি কলেজটির সার্বিক উন্নতি কামনাসহ সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ছায়া যুদ্ধের অবসান : সম্মুখ সমরে ইরান-ইজরায়েল
  • বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য বাজেট
  • বিশ্ব শরণার্থী দিবস ও রোহিঙ্গাদের ভাগ্য
  • তামাক : খাদ্যনিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে বাধা
  • প্রশাসনের দৃষ্টি চাই : শব্দদূষণ চাই না
  • যাতনার অবসান হোক
  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জরুরি
  • যুবসমাজের অবক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার
  • বিশ্বকাপে অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট
  • মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই
  • মাদক থেকে দেশ উদ্ধারের অঙ্গীকার
  • পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগান
  • তোমাকে শ্রদ্ধা লেবুয়াত শেখ
  • সামাজিক অবক্ষয় এবং এর প্রতিকার
  • সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ঙ্কর রূপ
  • শিশুর জন্য চার সুরক্ষা
  • বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সংকট ও প্রতিক্রিয়া
  • সম্ভাবনার অঞ্চল সিলেট
  • স্বপ্নের বাজেট : বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ
  • বাচ্চাটা একটা খেলনা ফোন চেয়েছিল
  • Developed by: Sparkle IT