ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য তথ্য কোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৩-২০১৮ ইং ০২:৫৪:২১ | সংবাদটি ১২৯ বার পঠিত


[পূর্ব প্রকাশের পর]
ঘটনার ভয়াবহতা আর সরকারি নিষ্ক্রিয়তায়, ভীত সন্ত্রস্থ অনেক সেটেলারই স্থান ত্যাগ করে পালালো। পলাতকদের ঠেকাতে পথে ঘাটে, লঞ্চে, গাড়িতে নৌকা সাম্পানে চললো তল্লাসী ও আটকের প্রক্রিয়া। তবু নিহত আর পলাতকরা মিলে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হলো এই জনপদ থেকে লাপাত্তা। শুরু হলো জীবিতদের মাধ্যমে লাশ টানা ও কবরস্থ করার তুড়জুড়। খাবার নেই, পরার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, চারদিকে কেবল পঁচা লাশের দুর্গন্ধ। পালাবারও পথ নেই। নিরূপায় জীবিতরা। লাশ গোজানো ছাড়া করার কিছু নেই। দয়াপরবশ কর্তৃপক্ষ কিছু আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন। এটাকে দয়া বলা ছাড়া উপায় কী? পেটে দিলে পিঠে সয়, এ যেন তাই। মুরুব্বিদের মাঝে খুঁজে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লোকদের খোঁজ পেলাম। ঐ লাশ উদ্ধার ও দাফনের সাথে জড়িত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন : জনাব শামসুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বরকল থানা, জয়নাল আবেদীন সাবেক চেয়ারম্যান ভূষণছড়া ইউনিয়ন কাউন্সিল, আব্দুল হামিদ মেম্বার, ভূষণছড়া ইউনিয়ন কাউন্সিল, কাসেম দেওয়ান আনসার/ভিডিপি কর্মকর্তা, আলি আজম প্লাটুন কমান্ডার, ভিডিপি, সাহেব আলী ভিডিপি সদস্য, শামসুল আলম পল্লী ডাক্তার ও ভিডিপি কমান্ডার মীর মোহাম্মদ আবু তাহের মেম্বার ভূষণছড়া ইউনিয়ন কাউন্সিল, ওমর আলী পল্লী ডাক্তার, আব্দুল হক সরকার সেটেলার গ্রুপ লীডার, আব্দুর রাজ্জাক সেটেলার গ্রুপ লীডার ও অন্যান্য অনেক।
উপরোক্ত ব্যক্তিদের মাঝে জনাব শামসুর রহমান ও কাসেম দেওয়ান ছাড়া অন্যান্যরা পরেও সরেজমিন ঘটনাস্থলে আছেন। তারা সবাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বক্তা। তাদের বর্ণনাতেই নিহতদের নি¤েœাক্ত তালিকা প্রস্তুত করা হলো।
১) নুরুল ইসলাম, পিং রহিম উদ্দিন ১ জন। ২) আবু বকর সিদ্দিক, পিং আঃ রব ১ জন। ৩) শাফিয়া খাতুন, পিং আঃ রব ১ জন। ৪) মধু মিয়া, পিং আঃ রহমান ১ জন। ৫) ছাদেক আলী, পিং ইমান আলী ১ জন। ৬) শহিদ উদ্দিন গং এক পরিবার ৬ জন। ৭) আলতামাস, পিং এজাবুল বিশ্বাস গং এক পরিবার ৭ জন। ৮) আব্দুল হান্নান গং এক পরিবার ৭ জন। ৯) আজগর আলী গং এক পরিবার ৫ জন। ১০) ফজলুর রহমান গং এক পরিবার ৩ জন। ১১) ওমর আলী গং এক পরিবার ৫ জন। ১২) আইনুল হক গং এক পরিবার ৫ জন। ১৩) রুস্তম আলী গং এক পরিবার ২ জন। ১৪) জাকারিয়া গং এক পরিবার ২ জন। ১৫) ওমর আলী (২) গং এক পরিবার ৭ জন। ১৬) আঃ শুক্কুর মুন্সি গং এক পরিবার ৫ জন। ১৭) সাইফুদ্দিন গং এক পরিবার ৩ জন। ১৮) গুল মোহাম্মদ গং এক পরিবার ৭ জন। ১৯) আলী আকবর গং এক পরিবার ৩ জন। ২০) মো. আলী গং এক পরিবার ৩ জন। ২১) তোফানী শেখ গং এক পরিবার ৬ জন। ২২) আব্দুস সোবহান গং এক পরিবার ৩ জন। ২৩) নাসির উদ্দিন পিং ওমর আলী ১ জন। ২৪) নিজাম উদ্দিন গং এক পরিবার ৩ জন। ২৫) মোস্তফা গং এক পরিবার ৩ জন। ২৬) ওমর আলী ১ জন। ২৭) মোফাজ্জেল হোসেন গং এক পরিবার ২ জন। ২৮) আব্দুল মোতালেব গং এক পরিবার ৩ জন। ২৯) আসমত অঅলী মাল পিং মোহাম্মদ আলী মাল ১ জন। ৩০) খলিলুর রহমান, পিং আতাহার হাওলাদার ১ জন। ৩১) নুরুল ইসলাম গং এক পরিবার ৩ জন। ৩২) জামাল আহম্মেদ পিং আব্দুল বারী ১ জন। ৩৩) মো. ইউসুফ শেখ গং এক পরিবার ৫ জন। ৩৪) আকবর আলী গং এক পরিবার ৪ জন। ৩৫) শাহজাহান গং এক পরিবার ২ জন। ৩৬) মো. সিদ্দিক মোল্লা পিং ইব্রাহিম মোল্লা ১ জন। ৩৭) আসব আলী, পিং নজব আলী ১ জন। ৩৮) রজব আলী, পিং অসিম উদ্দিন ১ জন। ৩৯) রবিউল পিং সুন্দর আলী ১ জন। ৪০) লোকমান পিং মো. আলী ১ জন। ৪১) হোসেন ফরাজী পিং ওয়াজ উদ্দিন ১ জন। ৪২) সিরাজউদ্দিন গং এক পরিবার ২ জন। ৪৩) ওলি মন্ডল পিং হানিফ মন্ডল ১ জন। ৪৪) আকলিমা পিং মালুখাঁ ১ জন। ৪৫) আসিয়া খাতুন, স্বামী আছর আলী ১ জন। ৪৬) শামসুদ্দিন গং এক পরিবার ৬ জন। ৪৭) কালু মিয়া গং এক পরিবার ২ জন। ৪৮) জুছিনা বেগম, স্বামী আব্দুল হামিদ ১ জন। ৪৯) সিদ্দিক আহমদ গং এক পরিবার ৩ জন। ৫০) মুসলেম গং এক পরিবার ৩ জন। ৫১) আঃ রাজ্জাক গং এক পরিবার ২ জন। ৫২) আঃ রাজ্জাক গং এক পরিবার ৮ জন। ৫৩) আঃ হামিদ গং এক পরিবার ৬ জন। ৫৪) আঃ হাই গং এক পরিবার ৬ জন। ৫৫) সকিনা বিবি গং এক পরিবার ৪ জন। ৫৬) আঃ খালেক গং এক পরিবার ৬ জন। ৫৭) বেলাল মুন্সি গং এক পরিবার ৬ জন। ৫৮) আঃ রউফ গং এক পরিবার ৬ জন। ৫৯) নিজামউদ্দিন গং এক পরিবার ৬ জন। ৬০) আইয়ুব আলী গং এক পরিবার ৪ জন। ৬১) সুলেমান গং এক পরিবার ২ জন। ৬২) আঃ মান্নান গং এক পরিবার ২ জন। ৬৩) সুলতান ফরাজি গং এক পরিবার ২ জন। ৬৪) নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে ২ জন। ৬৫) আঃ খালেক ১ জন। ৬৬) মো. গুলজার ও তার ছেলে ২ জন। ৬৭) দুগ্ধপোষ্য শিশু ও বৃদ্ধ, বৃদ্ধা আনুমানিক ১০০ জন। ৬৮) ফতেআলী, সুবহান ও নুরুল ইসলাম ৩ জন। ৬৯) জসিম উদ্দিন মেম্বারের পরিবার সদস্য ৩ জন। ৭০) ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের ছেলে ১ জন। সর্বমোট ৩৭০ জন।
ওয়ারলেসের খবরে ঘটনা অবগত হয়ে, স্থানীয় বিডিআর জোন কমান্ডার প্রথম পরিদর্শক হিসেবে সকাল ৭টায় ভূষণ ছড়া আসেন। তৎপর রাঙ্গামাটি থেকে আর্মির রিজিওন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার আনোয়ার সাহেব হেলিকপ্টার যোগে সকাল ৮-সাড়ে ৮টায় পৌঁছেন এবং তিনি গুরুতর আহত ৮৫ জনকে চট্টগ্রামের সিএমএইচে চিকিৎসার জন্য পাঠান। ঐ আহতদের নি¤েœাক্ত ব্যক্তিরা এখনো জীবিত ও ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী, যথা : ১) আঃ রব, পিং হাফেজ উদ্দিন, ২) ফিকি বেগম, স্বামী মোফাজ্জল আলী, ৩) আঃ হাই, পিং একিন মিয়া, ৪) মোজাম্মেল আলী, পিং পেশকার আলী, ৫) আবুল হাসেম, পিং- অজ্ঞাত, ৬) তারা বানু, স্বামী মোজাম্মেল আলী, ৭) জামাল আহমেদ, পিং আ¯্রব আলী।
৩১ মে বুধবার ১৯৮৪ এর রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনার দুঃসংবাদের তখনকার রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান প্রেসিডেন্ট এরশাদ, তিন দিন পর জুনের ৩ তারিখ শনিবার ভূষণছড়া আসেন। তখনো লাশ দাফন চলছিলো। ভূখা নাঙ্গা, আশ্রয়হীন দুর্গতরা, তার আগমনে হাহাকারে ফেটে পড়ে। এই প্রথম তিনি কিছু অনুদান মঞ্জুর করেন এবং লোকদের মৌখিক সান্তনা দেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে এই হুঁশিয়ারী ও উচ্চারণ করেন যে, উপজাতীয়দের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কিছু করা যাবে না। তাতে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে, আমাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করবে। উপদ্রুত উপজাতিরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিলে, আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশের বদনাম হবে। বিষয়টি পার্বত্য সমস্যাকে আরো জটিল করবে। যারা মারা গেছে তাদের তো আর ফিরত পাওয়া যাবে না। তবে সমস্যাটির শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমরা চেষ্টা করছি। এরূপ ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তারও ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাই ধৈর্য্য ধরুন এবং নতুন করে জীবন শুরু করেন। দুঃস্থদের খাওয়া পরা ও গৃহ নির্মাণের জন্য অনুদান দেয়া হবে। আপাততঃ নদী পারের নিরাপদ ক্যাম্প এলাকাই আপনাদের বসবাসের জন্য বরাদ্দ করা হলো। পরে বাগান ও কৃষিযোগ্য জমির ব্যবস্থা করা হবে।
এ সবই হলো ক্ষমতাবাদী সান্ত¦নার বুলি। আজ বহু বছর পরও ঐ দুঃস্থ লোকেরা জমি পায়নি। তাদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার জন্য স্কুল মাদরাসা নেই। চিকিৎসা সেবার জন্য কোনো হাসপাতাল স্থাপিত হয়নি। জীবন জীবিকা প্রায় শূন্যের উপর চলে। এরা চরম দুর্দশাগ্রস্ত হতভাগ্য জনগোষ্ঠী।
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ : পাক্যুয়াখালি গণহত্যা
(তাং রোববার ২১ ভাদ্র ১৪০৬ বাংলা ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ খ্রি./দৈনিক গিদির্পণ, রাঙ্গামাটি)
পাক্যুয়াখালি গণহত্যার শোকাবহ স্মৃতি সম্বলিত দিন ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ খ্রি.। একদল নিরীহ বাঙালি শ্রমজীবি লোককে বিনা কারণে নির্মমভাবে কুপিয়ে আর অঙ্গচ্ছেদ করে, অতি নৃশংসতার সাথে, শান্তিবাহিনী নামীয় উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা জনমানবহীন গহিন অরণ্যের ভিতর হত্যা করেছে। এই নিরীহ লোকেরা সংখ্যায় ছিলো মোট ৩৫ জন। শ্রমই ছিলো তাদের জীবিকা নির্বাহের উপায়। রোজি রোজগারের সহজ বিকল্প অন্য কোনো উপায় না থাকায় বনের গাছ বাঁশ আহরণেই তারা বাধ্য ছিলো।
বনই হলো সন্ত্রাসী শান্তি বাহিনীর আখড়া। জীবিকার তাগিদে ঐ হিং¯্র সন্ত্রাসীদের সাথে শ্রমিকরা গোপন সমঝোতা গড়ে তুলতে বাধ্য হয়। তারা সন্ত্রাসীদের নিয়মিত চাঁদা ও আহরিত গাছ বাঁশের জন্য মোটা অংকের সালামী দিতো। অনেক সময় মজুরীর বিনিময়ে শান্তিবাহিনীর পক্ষেও গাছ বাঁশ কাটতে এবং তা খরিদ বিক্রির কাজে মধ্যস্ততা করতো। ব্যবসায়ীরাও তাদের মাধ্যমে শান্তি বাহিনীর সাথে যোগাযোগ ও লেনদেন সমাধা করতো। জীবিকার স্বার্থে তারা ছিলো রাজনীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক। শান্তিবাহিনীর রেশন ঔষধ পণ্য ও লেনদেন সংক্রান্ত যোগাযোগ ও আদান প্রদান এদের মাধ্যমেই পরিচালিত হতো। ঐ বাহিনীর অনেক গোপন ক্যাম্পে তাদের প্রয়োজনে আনাগোনা এবং ওদের কোন কোন সদস্যের ও শ্রমিক ঠিকানায় যাতায়াত ছিলো। এই যোগাযোগের গোপনীয়তা উভয়পক্ষ থেকে বিশ্বস্ততার সাথে পালন করা হতো। উভয় পক্ষই প্রয়োজন বশতঃ পরস্পরের প্রতি ছিলো বিশ্বস্ত ও আস্থাশীল। এরূপ আন্তরিক সম্পর্কের কারণে পরস্পরের মাঝে বৈঠক ও যোগাযোগ নিঃসন্দেহে ও স্বাভাবিকভাবে ঘটতো। এ হেতু ৯ সেপ্টেম্বরের আগে মাহাল্যা অঞ্চলের নিকটবর্তী পাক্যুয়াখালি এলাকায় শান্তিবাহিনীর সাথে বৈঠকের জন্য নিহত ব্যক্তিদের ডাকা হয়। আহুত ব্যক্তিরা নিঃসন্দেহেই তাতে সাড়া দেয় এবং বৈঠক স্থলে গিয়ে পৌঁছে।
ঘটনাস্থল পাক্যুয়াখালি হলো, মাহাল্যবান বীটভুক্ত বেশ কিছু ভিতরে পূর্বদিকে গহিন বন ও পাহাড়ের ভিতর জনমানবহীন অঞ্চল। মাহাল্যাসহ এতদাঞ্চল হলো উত্তরের বাঘাইছড়ি থানা এলাকা। আহুত লোকজন হলো দক্ষিণের ও নিকটবর্তী লংগদু থানা এলাকার বাসিন্দা। তাদের কিছু লোক হলো আদি স্থানীয় বাঙালি আর অবিষ্টরা হাল আমলে বসতি স্থাপনকারী। এই সময়কালটাও ছিলো শান্ত। স্থানীয়ভাবে কোন সাম্প্রদায়িক দাঙা ও বিরোধ নিয়ে তখন কোন উত্তাপ উত্তেজনা ছিলো না। এমন শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রতিশোধমূলক ও হিংসাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটার কার্যকারণ ছিলো অনুপস্থিত।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দাঙ্গা হাঙ্গামা চাঁদাবাজি ছিনতাই অগ্নিসংযোগ হত্যা উৎপীড়ন অহরহই ঘটে। তার কার্যকারণও থাকে। রাজনৈতিক উত্তাপ উত্তেজনা ছাড়াও স্বার্থগত রেষারেষি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, দাঙ্গা হাঙ্গামা ইত্যাদি জাতিগত প্রতিশোধ পরায়ণতাকে সহিংসতার কারণ রূপে ভাবা যায়। কিন্তু আলোচ্য সময়টিতে অনুরূপ পরিবেশ ছিলো না। তাই সম্পূর্ণ অভাবিতভাবে নৃশংস ঘটনাটি ঘটে যায়। খবর পাওয়া গেলো : বৈঠকের জন্য উপস্থিত শ্রমিকদের একজন বাদে অপর কেউ জীবিত নেই, নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে। হাহাকারে ছেয়ে গেলো গোটা এলাকা। তাদের খুঁজে সেনা পুলিশ, বিডিআর, আনসার ও পাবলিকদের যৌথ তল্লাসী অভিযানে পাকুয়্যাখালির পাহাড় খাদে পাওয়া গেলো ২৮টি বিকৃত লাশ। বাকিরা চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছেন। এখনো তাদের সন্ধান মিলেনি। পালিয়ে প্রাণে বাঁচা একজনই মাত্র যে এই গণহত্যা খবরের সূত্র।
এটি কার্যকারণহীন নির্মম গণহত্যা। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত অপরাধ।
ন্যায় বিচার ও মানবতা হলো বিশ্ব সভ্যতার স্তম্ভ। জাতিসংঘ এ নীতিগুলো লালন পালন করে। তাই তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জার্মানদের হাতে গণহত্যার শিকার ইহুদীদের পক্ষে এখনো বিচার অনুষ্ঠিত হয়। এখনো ঘোষিত অপরাধীদের পাকড়াও করা হয়ে থাকে। অধুনা যুগোস্লাভিয়ায় অনুষ্ঠিত গৃহযুদ্ধে গণহত্যার নায়কদের পাকড়াও বিচার অনুষ্ঠান ও শাস্তি বিধানের প্রক্রিয়া চলছে। কম্বডিয়ায় অনুষ্ঠিত পলপট বাহিনীর গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াটিও জাতিসংঘ ও কম্বডিয়া সরকারের বিবেচনাধীন আছে। এই বিচার তালিকায় পাক্যুয়াখালি, ভূষণছড়া ইত্যাদি গণহত্যাগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য। সভ্য জগতে উদাহরণ স্থাপিত হওয়া দরকার যে, মানবতার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রতিটি অপরাধ অবশ্যই বিচার্য। সংশ্লিষ্ট দেশ ও জাতি তা অবহেলা করলেও জাতিসংঘ তৎপ্রতি অবিচল। [চলবে]

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • মুহররমের দাঙ্গাঁ নয় ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধ
  • দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিচিতি
  • সিলেটের প্রথম মুসলমান সম্পাদক
  • কালের সাক্ষী পানাইল জমিদার বাড়ি
  • জনশক্তি : সিলেটের একটি দীর্ঘজীবী পত্রিকা
  • ঋতুপরিক্রমায় শরৎ
  • সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরাকমোহনা
  • যে এলাকা পর্যটকদের হৃদয় জোড়ায়
  • উনিশ শতকে সিলেটের সংবাদপত্র
  • হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড় চাষের নেই উদ্যোগ
  • হারিয়ে যাচ্ছে বেদে সম্প্রদায়ের চিকিৎসা ও ঐতিহ্য
  • একটি হাওরের অতীত ঐতিহ্য
  • বদর বাহিনীর হাতে শহীদ হন সাদেক
  • বানিয়াচংয়ের ভূপর্যটক রামনাথ
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্র এবং বাগ্মী বিপিন
  • সিলেটের গৌরব : কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রকৃতিকন্যা সিলেট
  • ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম ক্ষেত্র
  • ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ জামালপুর
  • সুনামগঞ্জের প্রথম নারী সলিসিটর
  • Developed by: Sparkle IT