স্বাস্থ্য কুশল

স্রষ্টার অপূর্ব দান এলোভেরা

কানিজ আমেনা প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৩-২০১৮ ইং ০১:১৯:৩৪ | সংবাদটি ১৬৫ বার পঠিত

এলোভেরা এই নামটি বর্তমানে অনেকের কাছেই পরিচিত। বাংলায় যাকে বলে ঘৃতকুমারী বা ঘৃতকাঞ্চন। মহান আল্লাহ তা’আলার এক অপূর্ব সৃষ্টি ও অসাধারণ নেয়ামত এই এলোভেরা। মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এলোভেরার গুণাগুণ ও এর ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত ছিলো। ইতিহাসখ্যাত বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব যেমন গ্রিক মহাবীর আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট, মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা, আমেরিকার আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাস, ভারতের মহাত্মা গান্ধী এবং বর্তমানে ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সকলেই এলোভেরা ব্যবহার করে এসেছেন। বিজ্ঞানের অগ্রগতির এ যুগে এলোভেরা সম্পর্কে জানার আরো সুযোগ মানুষের জন্য তৈরি হচ্ছে।
এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রজাতির এলোভেরা আবিষ্কার হয়েছে। এদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণার দ্বারা প্রমাণিত সর্বোৎকৃষ্ট প্রজাতি হলো-অষড়ব ইধৎনধফবহংরং গরষষবৎ (গরষষবৎ উদ্ভিদবিজ্ঞানীর নাম অনুসারে)। এটি এক প্রকার উবংবৎঃ তরষু। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় এর চাষ হয়, এছাড়া আফ্রিকাতেও কিছুটা উৎপন্ন হয়। অন্যান্য এলোভেরাতে সাধারণত ফুল হয় না, তবে অষড়ব ইধৎনধফবহংরং হলুদ রঙের এক প্রকার ফুল ফুটে। সাধারণত এলোভেরা জন্মানোর পর যেখানে ২/৩ মাসের মধ্যে কেটে ফেলা হয় সেখানে এই বিশেষ প্রজাতির এলোভেরা ২/৩ বছর পর কাটা হয়। অন্যান্য এলোভেরার তুলনায় এটি দৈর্ঘ্যে বেশ লম্বা হয়।
অষড়ব ইধৎনধফবহংরং-এর রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা। এর পাতার ভেতরের যে রসটুকু তা নিয়মিত পান করলে স্বাস্থ্যগত অনেক সুফল পাওয়া যায়। নিচে ১০টি উপকারিতার কথা বর্ণনা করা হলো-
১) ক্ষারকত্ব বজায় রাখে : মানুষের শরীরে এসিড লেভেল বেশি বেড়ে গেলে সেই শরীরে নানান রোগ জীবাণু বাসা বাঁধে। তাই এসিডিটিকে কন্ট্রোল করার জন্য এসিডের বিপরীতধর্মী পদার্থ ক্ষার বা এলকালি অর্থাৎ এলকালাইন ফুড বেশি পরিমাণে খেতে হবে। এলোভেরা জুস সেক্ষেত্রে আমাদের জন্য এলকালাইন ফুডের একটি ভালো উৎস হতে পারে যার মাধ্যমে শরীরের ক্ষারকত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে।
২) পানিযোজন বজায় রাখে : এলোভেরা উদ্ভিদটি হচ্ছে পানি সমৃদ্ধ। এর পাতায় যে রস থাকে তাতে অনেক পানি রয়েছে। সাধারণত পরিশ্রম করলে বা গরমের দিনে ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। সেই পানি পুনরায় পূরণ না হলে শরীরে পানি ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। সেই সাথে প্রতিদিন এলোভেরার জুস পান করলে আমাদের শরীরে সহজেই পানির ঘাটতি পূরণ হবে এবং আমরা ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্ত থাকতে পারবো।
৩) লিভার ও কিডনি ভালো রাখে : লিভার ও কিডনি মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ দু’টো অঙ্গ। লিভার পরিপাকতন্ত্রের এবং কিডনি রেচনতন্ত্রের অংশ। এ দু’টো অঙ্গ শরীর থেকে খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে। এলোভেরা জুস লিভার ও কিডনি উভয়কে সুস্থ রাখতেও তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম ভালোভাবে চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
৪) কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : রেচনতন্ত্রের সাথে জড়িত দু’টো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্র। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে এই অন্ত্রগুলো যদি যথেষ্ট পরিমাণ পানিতে পূর্ণ থাকে তাহলে রেচনকার্য সহজে সম্পন্ন করতে সুবিধা হয়। অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকে, এমনকি শিশুদেরও এটা হয়ে থাকে। তখন মলত্যাগ করতে কষ্ট হয়। এলোভেরা জুস এক্ষেত্রে হতে পারে ভালো সমাধান। প্রতিদিন নিয়মিত খালি পেটে এলোভেরা পান করলে তা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে এবং মলত্যাগ সহজে করতে সাহায্য করে।
৫) পরিপূর্ণ পুষ্টি : অষড়ব ইধৎনধফবহংরং -এর একটি পাতায় যে রস থাকে তাতে ১২ রকমের ভিটামিন, ২০ রকমের মিনারেল বা খনিজ লবণ, ১৯ রকমের এমাইনো এসিড (প্রোটিন), ৮ রকমের এনজাইমসহ ২০০ টিরও অধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই একজন ব্যক্তি যদি তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাদ্যের সাথে এলোভেরা জুসও রাখে তাহলে তার পুষ্টির কোনো অভাব হবে না।
৬) গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান : পাকস্থলী থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ হাইড্রোক্লোরিক এসিড যদি নিঃসরণ হয় তাহলে সেখান থেকে গ্যাস্ট্রিক ও পরবর্তীতে আলসারও হতে পারে। এলোভেরা জুস পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত এসিডের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে গ্যাস্ট্রিক ও আলসার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
৭) হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখে : আমরা যতো ভালো ভালো খাবারই খাই না কেনো যদি হজমশক্তি দুর্বল থাকে তাহলে সেই খাদ্য আমাদের শরীরে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো কাজে লাগবে না। এলোভেরাতে কিছু এনজাইম রয়েছে যা আমরা যে খাদ্য খাই তা ভেঙে আমাদের শরীরের বিপাকক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে থাকে। এই এলোভেরা জুস নিয়মিত পান করলে শরীরের হজম প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং খাদ্য থেকে যথাযথ শক্তি পাওয়া যায়।
৮) ত্বকের সুরক্ষায় : বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই কমবেশি ত্বকের ব্যাপারে সচেতন। ত্বক ভালো রাখার জন্য নামীদামী কতো কসমেটিকস্ আমরা ব্যবহার করি। তবে ত্বককে শুধু বাহ্যিক ঘষামাজা করলেই তা ভালো থাকে না, একে ভেতর থেকেও ভালো রাখতে হয়। এলোভেরা জুস আমাদের শরীরে যেসব টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ জমা হয় তা অপসারণের মাধ্যমে ত্বককে সুস্থ, সুন্দর, উজ্জ্বল ও তারুণ্যদীপ্ত করে তোলে।
৯) চুলের সুরক্ষায় : ত্বকের পাশাপাশি চুলের সুরক্ষায়ও এলোভেরা কার্যকরী। এটি মাথার ভেতরে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো রাখে। ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয়, চুল পড়া কমে যায় ও চুল সুস্থ থাকে।
১০) মানব শরীরে যে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা রয়েছে তা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এবং লাইফস্টাইলজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। তবে এলোভেরা জুস নিয়মিত ব্যবহার করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে সহজে দুর্বল হতে দেয়া না। ফলে বয়স বাড়লেও আমরা রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকতে পারবো এবং সুস্থ থাকতে পারবো।
এলোভেরার রয়েছে আরো নানা উপকারিতা। এতোসব গুণের কথা জানার পর একে আমাদের নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় শামিল করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাই অষড়ব ইধৎনধফবহংরং হোক আমাদের প্রাত্যহিক খাবার টেবিলের সঙ্গী।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা
  • অনিদ্রার অন্যতম কারণ বিষন্নতা
  • রক্তশূন্যতায় করণীয়
  • চোখে যখন অ্যালার্জি
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
  • রোগ প্রতিরোধে লেবু
  •  স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
  • শিশুর উচ্চতা কমবেশি কেন হয়
  • গরমে পানি খাবেন কতটুকু ডা. তানজিয়া নাহার তিনা
  • অধূমপায়ীদের কি ফুসফুসের রোগ হয়?
  • বিষন্নতা একটি মানসিক রোগ
  • ঘাতক ব্যাধি এইডস : ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ
  • স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন পুরুষও
  • মেপে খান মাংস
  •  গরমে ঘামাচি থেকে রক্ষা পেতে
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে ফোঁড়ার চিকিৎসা
  • স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সুরক্ষায় এভোকেডো
  • কোন জ্বরে কী দাওয়াই
  • মায়ের দুধ পান : সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • রোগ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া
  • Developed by: Sparkle IT