সম্পাদকীয়

ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অপসারণ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৩-২০১৮ ইং ২১:৫৭:০৯ | সংবাদটি ৬৪ বার পঠিত

নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ হচ্ছে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। বিশেষজ্ঞগণ একে একটি ‘গুপ্তঘাতক’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। নগরীর হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি থেকে প্রতিদিন যে বর্জ্য বেরিয়ে আসছে, তা অপসারণের জন্য নেই কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। ফলে এই বর্জ্য নগরীর পানি, বাতাস, মাটি ও পরিবেশকে করে তুলছে মারাত্মক দূষিত। সৃষ্টি করছে স্বাস্থ্য সমস্যার। বলা যায়, গোটা নগরবাসীই এর শিকার। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ফার্মেসীগুলোর প্রতিদিনের বর্জ্য সাধারণ বর্জ্যরে সঙ্গে ফেলা হয় খোলা ডাস্টবিন, রাস্তার মোড়, নালা-নর্দমায়। এগুলোর দুর্গন্ধ আর বিষাক্ত ক্যামিকেল পদার্থ বাতাসে মিশছে। আর এ থেকে মানবদেহে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক রোগব্যাধি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এসব বর্জ্য পৃথকভাবে ট্রিটমেন্ট হওয়ার কথা।
সিলেট নগরীসহ অন্যান্য ছোটবড় শহরে গড়ে ওঠেছে প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর পাশাপাশি রয়েছে সরকারি হাসপাতাল। এসব ক্লিনিক হাসপাতাল থেকে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ড্রেন কিংবা ছড়ায়। এসব বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজ, স্যানিটারী ন্যাপকিন, স্যালাইনের পরিত্যক্ত প্যাকেট, সূচ, সিরিঞ্জ ইত্যাদি। এসব বর্জ্যরে বিরূপ প্রভাবে মাটি, পানি আর বায়ুই দূষিত হচ্ছে তা নয় এসব বর্জ্যরে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের কারণে বিভিন্ন জটিল রোগ সংক্রমিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- যক্ষ্মা, এইচআইভি, হেপাটাইটিস বিওসি, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, রিউমেটিক্স ফিডার, চর্মরোগ, হার্টের রোগ, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি, কলেরাসহ দূরারোগ্য অনেক ব্যাধি।
জানা গেছে, সারাদেশে ১৮শ’র বেশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এগুলো থেকে সৃষ্ট বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যেখানে সেখানে অপরিকল্পিতভাবে। অথচ ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বিধিমালা প্রণয়ন করে। সঠিকভাবে বর্জ্য পোড়ানো এবং নির্দিষ্ট স্থানে পোঁতে ফেলা, আবাসিক এলাকার বাইরে হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে এই বিধিমালায়। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা করছে না কেউ। এসব আইন মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না, তা দেখারও কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় আইন করে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে বসে থাকে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের কোনো চিন্তা ভাবনা নেই।
বিষাক্ত ক্লিনিক্যাল বর্জ্য আমাদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। প্রশাসন আছে, পরিবেশ অধিদপ্তর আছে- সকলেই নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটুকু যথাযথভাবে পালন করলে এই বর্জ্য থেকে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ বন্ধ হবে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সব হাসপাতালেই নিজস্ব উদ্যোগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। ক্লিনিক, হাসপাতাল, প্যাথলজি স্থাপনে প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। হাসপাতালে আসে মানুষ সুস্থ হওয়ার জন্য। অথচ রোগীরা হাসপাতালের চারপাশের নোংরা পরিবেশে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এটা মেনে নেয়ার মতো নয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT