সম্পাদকীয় বিদ্যা সমাজের অলঙ্কার স্বরূপ এবং শত্রুর সম্মুখীন হওয়ার জন্য অমোঘ কবচ। -আল হাদিস

প্রত্যয়, সমৃদ্ধ স্বদেশ গড়ার

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৩-২০১৮ ইং ০১:২৭:৪১ | সংবাদটি ৪৫ বার পঠিত

পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আবির ছড়িয়ে আছে আজ প্রকৃতিতে। যার সঙ্গে একাকার প্রতিটি বাঙালি। আজ আনন্দের দিন। একটি ভূ-খন্ডের আনন্দে উদ্বেলিত হওয়ার দিন। আজ একটি মানচিত্র, একটি পতাকার জন্ম নেয়ার অগ্নিশপথের দিন। ক্যালেন্ডারের পাতায় রক্তিম অক্ষরের একটি দিন। আজ আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাংলা আর বাঙালির ইতিহাসের অবিস্মরণীয় এই দিনে স্বাধীনতার অমর মন্ত্রে বলীয়ান হয় জাতি। আমাদের জন্মভূমি অভ্যুদয়ের ইতিহাসে চিরকাল অমোচনীয় থেকে যাবে দিনটি। এই দিনে বাঙালিরা নিজেদের জন্মভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দখলদার পশ্চিমা হানাদারদের বিরুদ্ধে। বাংলার কৃষক শ্রমিক মজুর খেটে খাওয়া মানুষেরা যার যা আছে তাই নিয়ে বিশ্বের একটি শক্তিশালী যোদ্ধাবাহিনীর সামনে দাঁড়ায়। অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ করে বাঙালিরা ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা। তাই জাতি প্রতি বছর জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপন করে আজকের দিনটি।
বাঙালিরা হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করে অযুত ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে। ব্রিটিশ আমল থেকেই শোষণ নির্যাতন আর অবহেলার শিকার হতে থাকে বাঙালিরা। এই ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে জেগে ওঠে এদেশের মানুষ। সোচ্চার হয়; উজ্জীবিত হতে থাকে নিজেদের অধিকার আদায়ে। ব্রিটিশের দু’শ বছরের শাসন আর পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ বঞ্চনার ঘৃণিত অধ্যায় পেরিয়ে এই দেশের মানুষ বিজয়ের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়। একাত্তরের পঁচিশে মার্চের কালো রাতে হানাদার বাহিনী যখন বাঙালি নিধনযজ্ঞে মেতে ওঠে, তখন নিরস্ত্র অথচ স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্দীপ্ত বাঙালিদের রুখে দাঁড়ানো শুরু। দীর্ঘ ন’মাসের জীবনবাজি যুদ্ধ শেষে লাখো প্রাণের রক্তের বিনিময়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামের ভূ-খ-ের, জন্ম হয় একটি পতাকার, জন্ম হয় একটি জাতির। যাদের রক্তে আমাদের এই অর্জন, সেই বীর শহীদদের প্রতি রইলো আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম। অফুরন্ত সমবেদনা যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি।
একাত্তর সালের আজকের এই দিনে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিলো, নয় মাস পর ষোলোই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রতি বছরই ছাব্বিশে মার্চ এবং ষোলোই ডিসেম্বর উৎসবে মেতে ওঠে এদেশের মানুষ। কিন্তু যার জন্য এতো উল্লাস, এতো ত্যাগ, এতো আয়োজন- সেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে এই ৪৭ বছর পরও কি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ? একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে কি আমরা পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করতে পেরেছি? এইসব প্রশ্ন সামনে রেখেই আজ উদযাপিত হচ্ছে ৪৮তম স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের প্রত্যাশা ছিলো একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ, যেখানে সবাই খেয়ে পরে নিরাপদে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, যেখানে থাকবে না অনাচার, অবিচার, ভেদাভেদ সাম্প্রদায়িকতা। কিন্তু এতোগুলো বছর পরও আমরা আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি অর্জন করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার দায় গোটা জাতির।
তারপরেও যে এই জনগোষ্ঠী থেমে থাকবে, এমন নয়। বাঙালি থেমে থাকতে পারে না। একাত্তরে এই সবুজ শ্যামল বাংলার মানুষ ঠিকই বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছে। শুধু তাই নয়, অন্য যে কোনো সময়ই নিজেদের অধিকার আদায়ে তারা ভুল করেনি। তাই প্রিয় মাতৃভূমির সমৃদ্ধি অর্জনে তারা হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধ হবেই, তাতে সন্দেহ নেই। সেই আলোকরেখা কিছুটা হলেও এখন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। যার নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হয়, সেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। যা প্রশংসিত হচ্ছে দেশে-বিদেশে। বাংলাদেশ এখন স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ-এ উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে, নিখাদ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দেয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা। আজকের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আমরা আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং নিরন্তর শ্রমে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনায় নিজেদের গড়ে তোলার শপথ নেবো।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT