সম্পাদকীয়

রিক্সাভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৩-২০১৮ ইং ২২:২০:৫৪ | সংবাদটি ৬০ বার পঠিত

রিক্সাভাড়া নিয়ে অরাজকতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগরীতে রিক্সা ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সেই হার বাস্তবে কার্যকর নেই। বছর খানেক আগে রিক্সাভাড়ার হার টানিয়ে রাখা হয় নগরীর বিভিন্ন মোড়ে। কিন্তু সেই হারে ভাড়া নেয় না চালকরা। অনেক স্থানে ভাড়ার হার সংবলিত বোর্ডটি ও এখন চোখে পড়ছে না। কোথাও বোর্ড থাকলেও তা ধূলোবালিতে ঢেকে আছে। মূলত নগরীর প্রাণকেন্দ্র সিটি পয়েন্ট থেকেই প্রতিটি পাড়া-মহল্লার দূরত্ব অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে তালিকা তৈরি করা হয়। এই তালিকার ধার ধারে না রিক্সাচালকরা। যে যা পারছে আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবী নিয়ে বাকবিত-া হচ্ছে চালক-যাত্রীদের মধ্যে। অনেক সময় চালকদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন যাত্রীরা। মান সম্মানের ভয়ে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিতেও বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থায় সিলেট নগরীর জন-সাধারণ রীতিমতো জিম্মি রিক্সা চালকদের হাতে। কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
ইতোপূর্বে যতোবারই রিক্সা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ততোবারই তা বিলবোর্ডে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চালকরা এই হার মানতে রাজী নয়। আর তা কার্যকর করার জন্য কর্তৃপক্ষেরও কোনো গরজ নেই। একদিকে যাত্রীর তুলনায় রিক্সার সংখ্যা কম, অপরদিকে রিক্সা চালকরা পছন্দমতো গন্তব্য ছাড়া যাবে না। এ কারণে অসহায় যাত্রীরা চালকদের চাহিদা পূরণে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে চালকরা নির্ধারিত হারের দ্বিগুণ বা তিন গুণ ভাড়া আদায় করছে। এক্ষেত্রে রিক্সা চালকদেরও বক্তব্য রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, রিক্সার দাম, যন্ত্রাংশের দাম এবং লাইসেন্স ফি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন হয়েছে সিলেট নগরী। বেড়েছে আয়তন ও জনসংখ্যা। নগরী থেকে হয়েছে মহানগরী। কিন্তু নগরবাসীর যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে রিক্সার বিকল্প এখনও আবিভূত হয় নি। তাই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই রিক্সা নিয়ে যে নৈরাজ্য চলছে তার অবসান ঘটাতে হবে।
জানা যায়, যে হার নির্ধারণ করা হয়েছে তার বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এখন বিভিন্ন গন্তব্যে। তাছাড়া, রিক্সার মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিকদেরকে এখন দৈনিক ভাড়া দ্বিগুণ হারে পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে রিক্সাচালকরা জানিয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। তাদেরকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। পাশাপাশি রিক্সার দাম, যন্ত্রাংশের দাম, মেরামতব্যয়, লাইসেন্স ফি-ও বেড়ে চলেছে। রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অব্যাহত দাম বৃদ্ধি। এইসব অজুহাত দেখিয়ে চালকরা রিক্সাভাড়া বাড়িয়ে চলেছে। এই সবকিছু পরে যাত্রী সাধারণের অন্যতম বিড়ম্বনার কারণ হচ্ছে রিক্সাচালকদের দুর্ব্যবহার। তারা অনেক সময়ই যাত্রীদের সাথে বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের সাথে ভাড়া কিংবা অন্য কারণে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ ওঠে।
রিক্সা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হোক, নগরবাসী এই প্রত্যাশায় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এজন্য ভাড়া যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা যাতে কার্যকর হয় সর্বত্র, যাতে এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে আরেকটি বিষয় জরুরি, রিক্সার মালিকদেরও দৈনিক ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। তারা যাতে যখন তখন ভাড়া বাড়াতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রী ভোগান্তি কমানোর জন্য নগরীতে বাড়াতে হবে রিক্সার সংখ্যা। সর্বোপরি রিক্সাচালকদের মধ্যে নিজের ইচ্ছেমতো গন্তব্যে যাওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে সেটা দূর করতে হবে। একজন রিক্সাচালককে রিক্সা চালানোর জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়ায় যাত্রীদের পছন্দ মতো গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য, খালি রিক্সা নিয়ে বসে থাকার জন্য কিংবা খালি রিক্সা নিয়ে ঘুরাফেরা করার জন্য নয়। চালকদেরকে এই আইন মানতে বাধ্য করানোর দায়িত্ব প্রশাসনের।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT