সাহিত্য

হাজরে আসওয়াদের ইতিহাস

নাজমুল ইসলাম কাসিমী প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৩-২০১৮ ইং ২২:২৪:৩৯ | সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত

হাজরে আসওয়াদ। এটা মূলত একটা কালো পাথর। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এই পাথরকে এই জায়গায় লাগিয়ে দেন সেখানে ওইসময় লাগানো ছিলো। বলা হয়ে থাকে, মূলত জাবালে আবু কুবাইছে এ পাথর পড়ে ছিলো, হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম সেটাকে উঠিয়ে ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে তা নির্মিত কাবা শরিফে লাগিয়ে দেয়ার জন্য দিয়ে দেন। হাদিসে এসেছে- ‘হাজরে আসওয়াদ' জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে’ (সুনানে তিরমিযি হাদিস নং- ৮৭৭)
এও বর্ণিত আছে, যখন ‘হাজরে আসওয়াদ’ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়, তখন তা দুধের মতো সাদা ছিলো। পরবর্তীতে মানুষের গুনাহের স্পর্শে তা কালো হয়ে যায়। (প্রাগুক্ত)
হাদিসের কিতাবাদিতে এ পাথরের অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন- হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- খোদার কসম! কেয়ামতের দিন পাথরকে এমনাবস্থায় উঠানো হবে যে, তার দু'টো চক্ষু হবে। যার দ্বারা সে দেখতে পাবে। এবং একটি যবান হবে, যার মাধ্যমে সে কথা বলবে। এবং পাথরটি ঐ ব্যক্তির জন্য কেবল সাক্ষ্য দেবে, যে তাকে চুমু দিয়েছে। (সুনানে তিরিমিযি, হাদিস নং- ৯৪১)
হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার মাধ্যমেও গুনাহ দূরিভুত হয়। (সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং- ৯০৯)
উমরা করার সময় তাওয়াফের প্রতি চক্করে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া সুন্নত। যদি চুমু দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে এর উপর হাত রেখে দেবে। যদি হাত রাখাও সম্ভব না হয়, তাহলে এর দিকে ইশারাহ করে দু'হাতের বুড়ো ও তর্জনী আঙ্গুলে চুমু খেয়ে নেবে। (যেটাকে আরাবিতে ইসতেলাম বলা হয়)
চুমু খাওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' বলা সুন্নত। শরিয়তে ইসতেলাম এর সহজতা এজন্য রেখেছে, যাতেকরে মানুষ অন্যকে ধাক্কা মেরে হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার জন্য আগে বেড়ে না যায়। অন্যথায় শুধু শক্তিবল মানুষরাই কেবল চুমু খাবে, আর দূর্বল ব্যক্তিরা এ সওয়াব অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। এজন্যই আল্লাহ পাক ইসতেলামকেও সরাসরি চুমু খাওয়ার ন্যায় সওয়াবের দরজায় ভূষিত করেছেন। যেটা কেবল হাত দ্বারাই অর্জন হয়ে যায়। এতোকিছুর পরও কিছু লোক হাজরে আসওয়াদে সরাসরি চুমু খাওয়ার জন্য গাদাগাদি করে নিয়ম শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। হতে পারে প্রত্যেকজন তা জযবার জন্য এরকম করে থাকেন। কিন্তু এর দ্বারা যে অন্য মুসাফিরের তাওয়াফে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, সেটাও খেয়াল রাখা দরকার। তাছাড়া খানায়ে কাবায় এরকম গাদাগাদি করাটাও তো বেশরম কাজ।
হাজরে আসওয়াদের উপর অনেক ঝড়ঝাপটা অতিবাহিত হয়েছে। বহুত দুর্ভাগ্যতা এমনও উপস্থিত হয়েছে যে, এ পবিত্র পাথর ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তারপর লোকজন সাদা প্রকৃতির একটি পাথরে ছিদ্র করে এই পাথরগুলোকে সেখানে রেখে দেন। এবং এর উপর রৌপ্যের একটি ফ্রেম করে বহিরাগত জায়গা বন্ধ করে দেন। সর্বপ্রথম আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি. এ কাজ করেন। পরবর্তী বাদশা এবং হাকিমগণ ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে তা সংরক্ষণ করেন। সর্বশেষ শাহ ফাহাদ এটাকে আরো শক্ত করে পাথরকে তার স্বস্থানে রেখে আরো মজবুত করে তা সংরক্ষণ করেন। ১৩৫১ হিজরী মোতাবেক ১৯৩৩ ঈসায়ী সনে শাহ আব্দুল আজিজ এক ফরমান জারির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদকে সংরক্ষণ'র জন্য গার্ড নির্দিষ্ট করে তার নিরাপত্তা জোরদার করেন। আজ অবধি এ ফরমান অব্যাহত আছে। একটা কথা বলাই কাম্য যে, হাজরে আসওয়াদ সাধারণ পাথরের মতো কোনো পাথর না। বরং তা ছোট আটটি টুকরো টুকরো পাথ'র সমষ্টি। এর মধ্য হতে সবচেয়ে বড় টুকরো হলো আকারে খেজুরের বরাবর।

শেয়ার করুন
সাহিত্য এর আরো সংবাদ
  • ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সাহিত্যের জনক
  • সুশাসন ও দুঃশাসনের তাত্ত্বিক পাঠ
  • মালতি
  • ‘মার্কস চিন্তার সহি তফসির’
  • নষ্ট দাঁতের যন্ত্রণা
  • সুরমা সৈকতে গীতাঞ্জলি বিতর্ক
  • রবীন্দ্রনাথ ও নীলেশ্বর মুখার্জি
  • প্রতিক্ষার শেষ প্রহর
  • ‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী’ ও আমাদের দায়বদ্ধতা
  • শহিদ শিবলী : বিস্মৃত এক মুক্তিযোদ্ধা
  • হাজরে আসওয়াদের ইতিহাস
  • নাশপাতি ঘ্রাণে মন : কবির অনবদ্য সৃষ্টি
  • কবিতার অক্ষরে, কবির বেদনার ভেতর
  • অন্য স্বাদের ব্রেকফাস্ট
  • ডিগবাজি
  • কবিতা
  • ছন্দ ঝরে বন্ধ ঘরে : ছড়ার চিরন্তন ব্যঞ্জনা
  • বঙ্গীয় বাস্তবতায় উত্তর-আধুনিকতা
  • এমসি কলেজ : ইতিহাস ও জ্ঞান বিকাশের বাতিঘর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • Developed by: Sparkle IT