সম্পাদকীয় যাদের একটা গভীর অন্তর্দৃষ্টি আছে, তাদের কাছে কোন কিছুই অদৃশ্য বা অজেয় থাকে না। -আল হাদিস

চিকিৎসক দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৩-২০১৮ ইং ০১:৩৫:৪৮ | সংবাদটি ১৮৬ বার পঠিত

আজ আন্তর্জাতিক চিকিৎসক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। চিকিৎসা সেবা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক হচ্ছে অন্যতম প্রধান বিষয়। এই বিষয়টিকে উপজীব্য করেই ১৯৩৩ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয় দিবসটি। এই দিনই স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্কে ব্যাপারটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ডাক্তার চার্লস ব্রাউন আলমন্ডের স্ত্রী ইউডোরা ব্রাউন আলমন্ড প্রথম ডাক্তারদের জন্য একটি দিবস পালনের ধারণা ব্যক্ত করেন। মূলত আমাদের দেশে ২০০৮ সালে এই দিবসটির ব্যাপারে মাতামাতি শুরু হয়। পরের বছর (২০০৯) প্রথমবারের মতো এদেশে পালিত হয় আন্তর্জাতিক চিকিৎসক দিবস। সিদ্ধান্তটি পাস হয় ১৯৯০ সালের অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ৩০-এ মার্চ পালিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসক দিবস।
বাংলাদেশে এই দিবসটি পালনের এক দশকও পূর্ণ হয় নি। দিবসটির উৎপত্তির মূলেই রয়েছে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক। অর্থাৎ এই সম্পর্কের বিষয়টির ওপর নির্ভর করছে রোগীর সুচিকিৎসা। রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের বোঝাপড়া ভালো হলে, তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হলে অতি সহজে রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। চিকিৎসকের সুন্দর আচরণে রোগীরও অনেকটা রোগ প্রশমন হয় বলে অনেকের ধারণা। সর্বোপরি, এতে রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসক-রোগীর সুসম্পর্ক নিয়ে খুব একটা বলার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশের সঙ্গে তুলনীয় তো নয়ই। সেসব দেশে যেমন উন্নত চিকিৎসার সবধরনের ব্যবস্থা রয়েছে; তেমনি চিকিৎসক-রোগীর সুসম্পর্কটিও প্রাণবন্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশে এর ভিন্ন চিত্র। ব্যতিক্রম ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসকেরা রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না।
চিকিৎসা একটা মহান সেবামূলক পেশা। কেউ চাইলেই চিকিৎসক হতে পারে না। এর জন্য তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। শৈশবে প্রায় আশি ভাগ শিশুই ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন হয়তো মেডিকেল কলেজে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ইদানিং অবশ্য প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আসন সংখ্যা বেড়েছে, মোটামুটি বৃদ্ধি পেয়েছে মেডিকেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এভাবে প্রতি বছরই সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এমবিবিএস পাস করে বের হচ্ছে। এরা সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চাকরী করছেন কিংবা প্রাইভেট চেম্বার খুলে চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রাইভেট চেম্বার বা প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতালেও রোগীদের সঙ্গে বেশীর ভাগ চিকিৎসকগণ ভালো আচরণ করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আর সরকারি হাসপাতালের তো আরও করুণ অবস্থা। প্রথমত অভিযোগ হলো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকগণ নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। তাছাড়া রয়েছে রোগীদের সঙ্গে রীতিমতো অশোভন আচরণের অভিযোগ।
তবে এইসব অভিযোগের বাইরে অনেক চিকিৎসক রয়েছেন, যাদের সেবা-আচরণের প্রশংসাই করতে হয়। যারা কাছে এলেই যেন মনে হয় রোগীর অনেকটাই রোগ সেরে গেছে। এমন চিকিৎসকই দরকার এই সমাজে। কিন্তু এই শ্রেণির চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। আসল কথা হলো এই পেশার সঙ্গে ‘সেবা’ নামক শব্দটি জড়িয়ে আছে। অর্থাৎ অন্য দশটা পেশার সঙ্গে এই পেশাকে তুলনা করা যায় না। যদি সেবার মনোভাব না থাকে তবে চিকিৎসা পেশার ভাবমূর্তি ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব দরবারে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রায় স্বাস্থ্যখাতে আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না। দরিদ্র, তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠী প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে। তার জন্য চিকিৎসকদের নিতে হবে গুরুদায়িত্ব। রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকের সহমর্মী আচরণের যে ব্যতিক্রমী ঘটনাগুলো রয়েছে সমাজে, আমরা চাই সেটা ‘নিয়মে’ পরিণত হোক। অর্থাৎ বেশির ভাগ চিকিৎসকই এই শ্রেণিভুক্ত হোক, রোগীদের প্রতি ভালো আচরণ করুক। আন্তর্জাতিক চিকিৎসক দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT