ধর্ম ও জীবন রফিকুর রহমান লজু

ওয়া বাল্লিগনা রামাযান

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৩-২০১৮ ইং ০১:৪৩:৩৩ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

আরবি সালের ১২টি মাসের ৪টি মাসকে মহান আল্লাহ তা’আলা ‘আশহুরে হুরুম’ বা সম্মানিত মাস ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে আছে জিলকদ, জিলহজ, মহররম এবং রজব। রজব জুমাদাল উখরা ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী মাস। এই মাসগুলো খুবই বরকতময় এবং ওজনদার। আরবি রজব শব্দের অর্থ সম্মানিত। এই সম্মানিত মাসে ইবাদত-বন্দেগী-আমলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
রজব মাস অত্যন্ত ফজিলতের মাস। এই মাস ইবাদত বন্দেগী আমলের মাস। নবী করিম (সা.) এ মাসে গুরুত্ব দিয়ে এবাদত করতেন। রজব মাস এলে রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। দোয়াটি হলো : ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজব ওয়া শাবান। ওয়া বাল্লিগনা রামাযান।’ এ সম্পর্কে হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিস আছে। দোয়াটির বাংলা অনুবাদ এ রকম : ‘হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব মাস ও শাবান মাসকে বরকতময় করে দিন। আর আমাদেরকে রামাযান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ রজব মাস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও অপরিসীম মর্যাদাপূর্ণ। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) বলেন, এ মাসে উল্লেখযোগ্য একাধিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যেমন মেরাজ। এছাড়া হাদিসের কিতাবসমূহে ফজিলতপূর্ণ রজব মাসে আমাদের নবী (সা.)-এর বেশি বেশি নফল ইবাদতের উল্লেখ পাওয়া যায়।
রজব মাসে গুনাহ্ বা পাপ মোচনের জন্য বেশি করে মেহনত করতে হবে। কুলষিত জীবনকে মুক্ত করতে হবে। তওবা করতে হবে। খালিস নিয়তে গোনাহ’র জন্য অনুতপ্ত হয়ে এবং ভবিষ্যতে আর গোনাহ্ না করার ওয়াদাহ করে তওবা করতে হবে। তওবার মাধ্যমে অন্তরাত্মাকে ধূয়ে মুছে নিখাদ ও পরিষ্কার করে নিতে হবে। এ সম্পর্কে একটি অতীব সুন্দর কথা আছে। হযরত আবু বকর বলখি (রহ.) বলেন, ‘রজব ফসল রোপনের মাস। শাবান ফসলে পানি সেচ দেওয়ার মাস। আর রামাযান হলো- বৃষ্টির মতো।’ (লাতায়েফুল মাআরেফ : ১৪৩)
রজব মাসের ইবাদতকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ বিশেষ আমলের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ নামাজ, বিশেষ রোজা রাখার উপর জোর দেন। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গবেষক মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা ‘পবিত্র রজব মাস করণীয় ও বর্জনীয়’ শীর্ষক এক নিবন্ধে রজব মাসের আমল, এবাদত-বন্দেগীর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন রজব মাসকে উপলক্ষ করে বিশেষ কোনো নামাজ, রোজা, ওরস ইত্যাদি নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.)’র রেফারেন্স টেনেছেন। মুহাদ্দিস হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) লিখেছেন, বিশেষভাবে রজব মাসে রোজার ফজিলত সম্পর্কে সহিহ ও আমলযোগ্য কোনো হাদিস নেই। (তাবইনুল আজার বিমা ওরাদা ফি ফজলি রজব, পৃষ্ঠা ১১)।
রজব মাসকে উপলক্ষ করে নয়, কেউ চাইলে অন্য যে কোনো সময়ের মতো বেশি বেশি নফল নামাজ পড়তে পারেন, নফল রোজা রাখতে পারেন। রজব মাস মহিমান্বিত মাস, সম্মানিত মাস। এই মাসকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে আখিরাতের জন্য বেশি বেশি কল্যাণ ও ফায়দা হাসিলে মেহনত, আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি লাভে আমাদেরকে যতœবান হওয়ার তওফিক দান করো, হে আল্লাহ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)’র উদ্ধৃত হাদিস থেকে জানা যায়, পাঁচটি রাত এমন আছে, যে গুলোতে বান্দার দোয়া আল্লাহ তা’আলা ফিরিয়ে দেন না অর্থাৎ অবশ্যই কবুল করেন। রাতগুলো হলোÑ জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাত। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৯২৭)
হে দয়াময় আল্লাহ, রজব মাসের প্রথম রাতসহ উল্লেখিত রাতগুলোতে আমাদেরকে বেশি বেশি এবাদত বন্দেগী করার তওফিক দান করুন। আমীন ॥

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT