ধর্ম ও জীবন

মহানবীর মানবতাবাদ

হাফিজ মাওলানা আহমদ যাকারিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৩-২০১৮ ইং ০১:৪৫:৪৭ | সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
রাসূল সা. সর্বদা হত্যা ও যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে সকল উপায় অবলম্বন করতে উৎসাহিত করতেন। ‘জুযাইমা’ গোত্র যদিও স্পষ্টরূপে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিতে পারেনি কিন্তু তারা ধর্মান্তরিত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছিল এবং যুদ্ধ পরিত্যাগও করেছিল। এ ছুতা অবলম্বন করে তাদের সাথে যুদ্ধ থেকে বাঁচা সম্ভব ছিল যেমনটি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) করেছেন। উপরন্তু তিনি বন্দীদেরকে হত্যা করতে বলেছেন। আর রাসূল (সা.) বন্দিকে হত্যা করতে নিষেধ করতেন। তাই হযরত ইবনে ওমর (রা.) তার নেতার সে আদেশ পালন করেননি এবং রাসূল (সা.) ও হযরত ইবনে ওমর (রা.) এর এ কাজের প্রতি সমর্থন করেছেন ও হযরত খালেদ (রা.) এর নির্দেশের তিরস্কার করেছেন।
অথচ সেনাপতির আদেশ পালন করা ওয়াজিব এবং অমান্য করা স্পষ্ট পাপ। তবে শুধুমাত্র নেতা কোন পাপের আদেশ করলে তা মানতে হবে না ও তা না মানলে কোন পাপ হবে না। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কোন বন্দীকে হত্যা করার শরিয়ত নির্ধারিত চারটি কারণ রয়েছে: জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে, সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে, দেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এবং ইসলাম প্রচারে বাধা আসার ক্ষেত্র ছাড়া কারো উপর আক্রমণ করা বা কারো সাথে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ সকল কারণ ছাড়া যে কোন অজুহাতে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বা কারো উপর আক্রমণ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এটা আবার রাসূল (সা.) তার উম্মতের সামনে স্পষ্ট করে দিলেন।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট থাকা দরকার যে, আলেমগণ একমত যে, সাহাবারা নিষ্পাপ নয়। সাহাবাগণ পাপ করেন তবে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সে পাপ থেকে তওবা করার তাওফীক দান করেছেন এবং সকলের সকল পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। সকল সাহাবাগণের প্রতি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন। এমনিভাবে সকল সাহাবাগণের জন্য জান্নাতের ওয়াদাও করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সাহাবাগণের অনুসরন করতে বলেছেন এবং সাহাবাগণের ঈমানের মত ঈমান আনয়নের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনগণ! লোকেরা (সাহাবাগণ) যেভাবে ঈমান এনেছে সেভাবে তোমরা ঈমান আনয়ন কর। রাসূল (সা.) সাহাবাগণের সমালোচনা করতে নিষেধ করেছেন। রাসূল (সা.) বলেন; তোমরা আমার সাহাবাগণকে গালি দিবে না। কারণ তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যায় কর তবুও তোমরা তাদের (সাহাবাগণের) কারো এক মুষ্টি বা এর অর্ধেক দানের সমতুল্য হবে না। অতএব হযরত খালেদ (রা.) ‘জুযাইমা’ গোত্রে কোন ভুল করলেও তার সমালোচনা করা আমাদের জন্য বৈধ নয়। রাসূল (সা.) এ বিষয়টি আমাদের সামনে স্পষ্ট করেছেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আওফা (রা.) বলেন, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) রাসূল (সা.) এর কাছে হযরত খালেদ (রা.) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। রাসূল (সা.) বলেন, হে খালেদ! বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিকে কেন তুমি কষ্ট দাও? তুমি যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ ব্যয় কর তবুও তার আমলের সমতুল্য হতে পারবে না। হযরত খালেদ (রা.) বলেন, তারা আমার সমালোচনা করে আর আমি তাদের উত্তর দিয়েছি। তখন রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা খালেদ (রা.) কে কষ্ট দিবে না, কারণ সে আল্লাহর তলোয়ারের মধ্য থেকে একটি তলোয়ার! যেটাকে আল্লাহ তাআলা কাফেরদের বিরুদ্ধে নিযুক্ত করেছেন। অতএব কোন অবস্থাতেই হযরত খালেদ (রা.) বা কোন সাহাবীর কোন প্রকার সমালোচনা করা কখনো আমাদের জন্য বৈধ নয়।
রাসূল (সা.) এর এক জামাত তাঈ গোত্রের উপর অভিযান চালান। তাদের কিছু মানুষ পালিয়ে যায় ও কিছুকে আটক করা হয়। আর আটককৃত বন্দীদের মধ্যে সেই গোত্রের নেতার কন্যা সাফানা বিনতে হাতেমও ছিল। রাসূল (সা.) যখন এই সকল বন্দীদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন তখন সাফানা রাসূল (সা.) কে ডাক দেয় এবং বলে যে, হে মুহাম্মদ! আমার প্রতি দয়া করুন। আমি আমার গোত্র তাঈ'র নেতার কন্যা। আমার বাবা হাতেম তাঈ। আমার বাবা অতিথিদের আপ্যায়ন করতেন, ক্ষুধার্তদেরকে খাবার দিতেন, বস্ত্রহীনদেরকে বস্ত্র দিতেন, ভিক্ষুকদেরকে ভিক্ষা দিতেন। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে তিনি সবার কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। আমি সেই প্রসিদ্ধ হাতেম তাঈয়ের মেয়ে। রাসূল (সা.) তার কথা শুনার পর আদেশ করলেন যে, তাকে ছেড়ে দাও। কারণ তার বাবার মধ্যে ইসলামের চারিত্রিক গুণগুলো ছিল। রাসূল (সা.) তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমার বাবা যদি জীবিত থাকত তবে আমি তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করতাম। শুধু তাকে মুক্ত করেননি বরং রাসূল (সা.) তাকে বললেন, অপেক্ষা কর এবং নির্ভরযোগ্য কাউকে পেলে তার সাথে নিজ গোত্রের কাছে ফিরে যাবে। কিছুদিন মুসলমানদের সাথে থাকার পর এক কাফেলায় তার বংশের কিছু নির্ভরযোগ্য মানুষ পেলে তাদের সাথে যাওয়ার জন্য রাসূল (সা.) এর কাছে অনুমতি চান। রাসূল (সা.) তাকে কাপড়সহ কিছু উপঢৌকন প্রদান করে তাকে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন।
খাইবার যুদ্ধে আবুল হাক্বিক দুর্গ মুসলমানগণ দখল করার পর হযরত সাফিয়া ও তার এক বোনকে রাসূল (সা.) এর কাছে আনা হয়। হযরত বিলাল (রা.) তাদের দু’জনকে খাইবার যুদ্ধে নিহত ইহুদীদের লাশের পাশ দিয়ে নিয়ে আসেন। ইহুদী নেতাদের মৃত লাশ দেখে হযরত সাফিয়া (রা.) ও তার বোন আতংকিত হন ও হযরত সাফিয়া (রা.) এর বোন আপন চেহারায় থাপ্পড় মারতে মারতে চিৎকার করতে থাকে ও মাথার উপর মাটি ঢালতে থাকে। রাসূল (সা.) এর কাছে তাদেরকে এ অবস্থায় নিয়ে আসলে রাসূল (সা.) বলেন, এ শয়তান নারীকে আমার কাছ থেকে আড়াল কর এবং হযরত সাফিয়া (রা.) কে রাসূল (সা.) এর পিছনে নিয়ে তার উপর চাদর নিক্ষেপ করেন। রাসূল (সা.) ইহুদী নারীর আতঙ্ক দেখে হযরত বিলাল (রা.) কে বললেন, হে বিলাল! তোমার কাছ থেকে কি দয়া উঠিয়ে নেয়া হয়েছে? তুমি দু’টি নারীকে তাদের পুরুষদের লাশদের সামনে থেকে অতিক্রম করালে। রাসূল (সা.) এতটা দয়াবান ও মানবদরদী ছিলেন যে, তিনি শত্রুপক্ষের বন্দী নারীদের মানসিক অবস্থার প্রতি পর্যন্ত পরিপূর্ণ খেয়াল রাখতে আদেশ করেছেন। আমরা বর্তমান যুগের নীতি দেখি যে, শত্রুপক্ষের প্রতি সর্বপ্রথম যে আক্রমণ পরিচালিত হয় তাহল মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ এবং শত্রুপক্ষ পরাজিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে যুগ যুগ ধরে মানসিক আক্রমণ চলতে থাকে। অথচ রাসূল (সা.) ও ইসলাম সকল মানুষের শুভকামনা করে বলেই শত্রুপক্ষকেও কখনো গালিগালাজ করা, হেয় করা বা মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ করা সমর্থন করেনি বরং তা করা থেকে কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছে। রাসূল (সা.) বা সাহাবাগণ কখনো প্রতিশোধমূলক আচরণ প্রদর্শন করেননি। শক্রপক্ষের উপর বিজয় লাভ করার পরও কখনো তারা প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি।
রাসূল (সা.); খোলাফয়ে রাশেদীন এবং সাহাবাগণ কোন যুদ্ধ কখনোই প্রতিশোধ গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করেননি। হযরত ওসমান ইবন আবী তালহা (রা.) বলেন; আমরা অন্ধকার যুগে সোমবার ও বৃহস্পতিবার কা’বা ঘর খুলতাম। ইসলামের প্রথম যুগে রাসূল (সা.) একবার মানুষের সাথে কা’বা ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তার সাথে দুর্ব্যবহার করি। তবে রাসূল (সা.) আমার সাথে সহনশীলতা প্রদর্শন করেন। এবং বলেন, হে ওসমান! অতিসত্বর তুমি দেখবে যে, এ চাবি আমার হাতে আসবে এবং আমি যেখানে রাখতে চাই সেখানেই সেই চাবি রাখব। তখন আমি বললাম যে, তবে সেদিন কুরাইশ ধ্বংস হয়ে যাবে ও অপমানিত হবে। রাসূল (সা.) বললেন; না, বরং কুরাইশ সেদিন উন্নত ও সম্মানিত হবে। তারপর রাসূল (সা.) সবার সাথে কা’বা ঘরে প্রবেশ করেন আর আমি ভাবতে থাকি যে, তবে তো এরকম একদিন আসবে। মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল (সা.) মক্কায় প্রবেশ করে ওসমান (রা.) কে কা’বার চাবি নিয়ে আসার জন্য ডাকেন। হযরত ওসামন (রা.) ইতস্তত করতে থাকেন। রাসূল (সা.) হযরত ওমর (রা.) কে বলেন, তার সাথে যাও। যদি সে চাবি দেয় তবে তো ভাল নচেৎ তাকে বাধ্য করবে। তিনি তাকে নিয়ে আসেন ও তার মাথা তার কোলে মুড়িয়ে রাখেন। হযরত ওসমান (রা.) তখন দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন। হযরত আব্বাস (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো জমজমের পানি পান করানোর দায়িত্ব পালন করি, এর সাথে আমাদেরকে কা’বার চাবি বা এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করুন। ঐ সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী অবতীর্ণ হয়। রাসূল (সা.) বললেন, হে ওসমান! এস, এ চাবি গ্রহণ কর। আল্লাহ তাআলা অন্ধকার যুগে তোমাদের কাছে এ চাবি থাকা পছন্দ করেছেন, এমনিভাবে ইসলামের যুগেও এ চাবি তোমাদের কাছে রাখা পছন্দ করেছেন। হযরত ওসমান (রা.) বলেন, আমি ফিরছিলাম, তখন আমাকে ডেকে বললেন, তোমার কি সে কথা মনে আছে যা আমি বলেছিলাম? আমি রাসূল (সা.) এর সে কথা মনে করলাম, আমি বললাম, হ্যা, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূল (সা.) এর এই মানবদরদ দেখে যুগে যুগে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। পৃথিবীব্যাপী ইসলামের বিস্তার হয়েছে রাসূল (সা.) এর এই সুন্দর আচরণের ফলে।
রাসূল (সা.) এতটাই মানবতাবাদী ছিলেন যে, কারো সাথে চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর কখনো ভঙ্গ করেননি। কাউকে নিরাপত্তা দেয়ার পর কারো সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। এর জ্বলন্ত প্রমাণ হল হুদাইবিয়া সন্ধি। হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রা.) বলেন, ‘হুদায়বিয়া’ নামক স্থানে মুসলমান ও মুশরিকদের মাঝে সন্ধি হয়। সন্ধির মধ্যে নেতৃত্ব দেয় মুশরিকদের পক্ষ থেকে সুহাইল বিন আমর ও মুসলমানগণের পক্ষে রাসূল (সা.)। সন্ধির মধ্যে কিছু ধারা ছিল যা মুসলমানদের জন্য অপমানজনক। এর মধ্যে একটি ধারা ছিল: মুসলমানদের কেউ মুশরিকদের সাথে মিলিত হলে তাকে মুশরিকরা ফিরিয়ে দিবে না কিন্তু মুশরিকদের মধ্য থেকে কেউ মুসলমানদের কাছে আসলে তাকে মুসলমানগন মুশরিকদের কাছে ফেরত পাঠাবে। এ ধারা লেখার সময় সাহাবাগণ প্রতিবাদ করে বললেন, সুবহানাল্লাহ! একজন মুসলমান হয়ে আসলে তাকে কিভাবে মুশরিকদের কাছে ফেরত পাঠানো হবে? এমন সময় সুহাইলের ছেলে হযরত আবু জান্দাল (রা.) শিকলে বন্দি থাকাবস্থায় মক্কা থেকে দৌড়ে এসে মুসলমানদের মাঝে ঝাঁপ দিলেন। তখন মুশরিক নেতা সুহাইল বলল, আবু জান্দালকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। রাসূল (সা.) বললেন, এখনো তো তোমাদের সাথে আমাদের সন্ধি সম্পূর্ণ সম্পাদিত হয়নি। সুহাইল তখন বলল, তবে তোমাদের সাথে কোন সন্ধিচুক্তি আমরা আর সম্পাদন করব না। রাসূল (সা.) অনুরোধ করলেন, তাকে আমাদের কাছে দিয়ে দাও। তারা বলল না আমরা তাকে দেব না। হযরত আবু জান্দাল (রা.) বলছেন, হে মুসলমানগণ! আমি মুসলমান হয়েছি, তারপরও আমাকে মুশরিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে? তোমরা কি দেখ না আমাকে কত কষ্ট দেয়া হয়েছে? হযরত আবু জান্দাল (রা.) কে ইসলামের কারণে কঠিন নির্যাতন করা হয়েছিল। হযরত ওমর রা. রাসূল (সা.) এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সত্য নবী না? রাসূল (সা.) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমরা সত্য ও আমাদের শত্রুরা কি মিথ্যা না? রাসূল (সা.) বললেন, হ্যাঁ। হযরত ওমর (রা.) বললেন, তবে কেন আমরা আমাদের ধর্মের অপমান সহ্য করব? রাসূল (সা.) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল। আমি তাকে অমান্য করছি না। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করবেন। রাসূল (সা.) বলেন, হে আবু জান্দাল! ধৈর্য ধর ও সাওয়াবের আশা কর। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমার ও তোমার মত দুর্বলদের জন্য সমাধান বের করে দিবেন। আমরা তাদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করতে পারি না। তখন হযরত ওমর (রা.) লাফ দিয়ে আবু জান্দাল (রা.)-এর সাথে হাঁটতে থাকেন আর বলতে থাকেন, হে আবু জান্দাল! ধৈর্য ধর, কারণ তারা মুশরিক। রাসূল (সা.) এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে যখন তার চোখের সামনে তাঁর সাহাবা নির্যাতনের মুখে নিপতিত হচ্ছেন এবং তাঁর কাছের সাহাবাগণ প্রতিবাদ করছেন সে অবস্থায়ও কাফেরদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করেন নি।
মানবতাবাদী ও মানবকল্যাণকামী রাসূল (সা.) জনমানুষের মতামতকে এতটা গুরুত্ব দিতেন যে, রাসূল (সা.) জনমানুষের মতামতের সম্মানার্থে নিজের মতামতকে ত্যাগ করেছেন। এমনকি উহুদ প্রান্তরে রাসূল (সা.) জানতেন যে সাধারণ মানুষের মতামত ভুল, তারপরও রাসূল (সা.) জনমানুষের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর নামই তো ছিল গণতন্ত্র। জনমানুষের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে জনমানুষের মতামতের ভিত্তিতে কাজ করা। সারা পৃথিবীতে গণতন্ত্র বাস্তবায়ন ও রক্ষার দাবী করে তবে আমরা দৃষ্টি ঘুরালে কোথাও সেই কাঙ্খিত গণতন্ত্র খুঁজে পাই না। অথচ রাসূল (সা.) সেই চৌদ্দশত বছর আগে সঠিক অর্থের গণতন্ত্র বা জনগণের কল্যাণে জনগণের মতামতকে সম্মান করে কাজ করা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। রাসূল (সা.) ও সাহাবাগণ তাদের পারিবারিক জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন সর্বক্ষেত্রে সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত জগতের সামনে রেখে গেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে বুঝার তাওফীক দান করুন।
[সমাপ্ত]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT