সম্পাদকীয়

অরক্ষিত শিশুরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৪-২০১৮ ইং ০০:২৪:০৫ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি আজকাল কারও অজানা নয়। এর ফলে মানবজাতি তথা গোটা বিশ্ব নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়ছে গরিব বা নি¤œআয়ের দেশের শিশুরা। জাতিসংঘ বলছে- সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও লিঙ্গীয় সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের শিশু দারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পথে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এশিয়া এবং আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ওইসব অঞ্চলে শিশু মৃত্যুর বর্তমান সংখ্যার সঙ্গে প্রতি বছর আরও প্রায় ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ শিশুর মৃত্যু যোগ হতে পারে। জাতিসংঘের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ম্যালেরিয়ার মতো ঘাতক ব্যাধি ছড়াবে। শুধু ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় আট লাখ মারা যাবে এই অঞ্চলে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শক্তি উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যবস্থার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহারের কারণে নির্গত কার্বনের প্রভাবে এ শতকেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক ৬ থেকে চার ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ এবং প্রলয়ংকরী ঝড়ের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানে জলবায়ুর যতোই পরিবর্তন হোক, ততোই বেড়ে যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের শংকা। পৃথিবীর আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের যে সব বৈরি প্রভাব-প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা আরও বাড়বে দ্রুততর গতিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ, ঝড় বৃষ্টি, উষ্ণমন্ডলীয় সামুদ্রিক ঝড় এবং সাগরের জলোচ্ছ্বাসের মতো নানা প্রাকৃতিক দুর্বিপাক আরও ঘন ঘন এবং ব্যাপক এলাকা জুড়ে ঘটতে থাকবে।
এটাই সত্যি যে, বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তন বিশ্ববাসীকে একটা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে কমপক্ষে ২০ ফুট। তলিয়ে যাবে বিশ্বের সাগর, বেলাভূমি, উপকূল, নিউইয়র্ক, মুম্বাই ও সাংহাইয়ের মতো নগরী। কুমেরুতে মহাকালের পরিক্রমায় জমে ওঠা বরফ গলে যাচ্ছে দ্রুত। এই যে বিপর্যয়, এর শিকার হবে গোটা বিশ্বের মানুষ। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলোই বেশি। অথচ এর জন্য তাদেরকে খুব একটা ভুগতে হবে না। অপরদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যাদের ভূমিকা খুবই নগণ্য, সেই অনুন্নত গরিব দেশগুলোকেই এর শিকার হতে হচ্ছে বেশি। এমনকি, এসব দেশের শিশুদেরও চরমভাবে এর শিকার হতে হচ্ছে।
এই অবস্থায় বিশ্ববাসীর করণীয় নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এ ব্যাপারে প্রথমেই ধরা যায় শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কথা। কারণ এসব দেশ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাপমাত্রা যাতে দুই ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে হবে এই শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়েই। এ ব্যাপারে আমাদের মতো একটা অনুন্নত দেশের প্রস্তুতি কেমন? এ প্রসঙ্গে বলা যায়, ‘ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, কিয়োটা প্রটকল’-এ স্বাক্ষরকারী দেশ সমূহের অন্যতম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জাতীয় কৌশল প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এখন দরকার গৃহীত এসব পদক্ষেপের যথাযথ বাস্তবায়ন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT