সম্পাদকীয়

‘ইচ্ছের আকাশে’ কবির বৈশ্বিক আকাশ

আকাশ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৪-২০১৮ ইং ০০:২৪:২৬ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত

কবি তন্ময় ভট্টাচার্য্য/ পেশায় একজন চিকিৎসক। কবিতাকে প্রাণ দেয়া কিংবা জীবনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন তিনি, কাব্যগ্রন্থ ‘ইচ্ছের আকাশ’ এর মধ্য দিয়ে। এটি কবির চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ। এর আগে প্রকাশিত হয় ‘কৃষ্ণপক্ষের আলো,’ ‘রবে নীরবে’ ও ‘শুভ্র আলোয় তমালিকা’। ‘ইচ্ছের আকাশে’ কবি তুলে ধরেছেন রক্তাক্ত সময়, গভীর জীবনবোধ, স্বাধীনতা, মানবিকতা, প্রেম, বিরহের আখ্যানকে। এজন্য বইটি সার্থক। কাব্যজীবনের বহুমাত্রিক প্রকরণও আমরা খুঁজে পাই কবিতার অন্দরে। নিজেকে প্রতিনিয়ত নিরীক্ষিত রেখে ঘটিয়েছেন কাব্যবোধের উত্তরণ। তার সৃষ্টিকর্ম পেয়েছে সৃজনশীল ও মননশীল উভয়বিধ শৈল্পিক পরিজ্ঞান। অনবরত নিরীক্ষাপ্রবণ কবি তন্ময় কবিতার ভেতর দিয়ে বলতে চেষ্টা করেছেন বৈশ্বিক পৃথিবী আর অনবদ্য প্রেমের কথা। পাঠক বহুমাত্রিক এই গ্রন্থ পাঠ করলে কবিকে কখনো বিপ্লবী, কখনো আবিস্কার করবেন সমাজ নিরীক্ষক হিসেবে। নিপূড় প্রেমেও উদ্ভাসিত হয়েছে কবির অনেক কবিতা।
কবির স্বগতোক্তি- সূর্য হতে উত্তাপ নাও, চাঁদ হতে আলো/ মহিমান্বিত পথ অনুসরণে/ হে নবীন, জীবন প্রদীপ জ্বালো/ যে পথে গিয়েছে মহাগুণীজন/ যে পথে পড়েছে সন্ধানী চরণ/ সে ধলিকণা যে পরিমন্ডলে/ নিজেকে সংযুক্ত করো তাতে’।
দেশপ্রেমকে মুখ্য করে কাব্যসৃষ্টিতে তার উপস্থিতি অথবা উত্থান শিল্পোৎকর্ষ। -একুশ আমার মা’য়ের ভাষা/ বোনের হাসি/ কিশোর প্রাণের চঞ্চলতার/ রাঙা হাসি/ চারদিকে ঐ শোকের ছায়া/ জাতি অশ্রুমান/ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে যারা/ গড়লো প্রতিরোধ/ মায়ের মুখের দ্বনী পেলো/ রাষ্ট্র ভাষার রূপ’।
কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশমুখ দেখেছিল ২০১৫ সালে ভাষামুখ ব্যানারে। গ্রন্থতে থাকা সব কবিতাই সমসাময়িক কাল উত্তীর্ণ। কাব্যগ্রন্থকে গভীর মনোযোগে পাঠ করলে অনেক জিজ্ঞাসা এবং সেইসাথে খুজে পাওয়া যাবে উত্তর। তার সম্মানসূচক কাব্যনির্মাণ আমাদের ভাবায় নতুন স্বপ্নে, আর এই ভাবনা মাঝে মধ্যে রক্তাক্ত করে, ক্রুশবিদ্ধ করে। শিল্প সুষমায় ইতিহাসচেতনা, রাজনীতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রেম, বাস্তবতাবোধ, মানসিকতা ও বৈশ্বিক আবহে সমৃদ্ধ এই কাব্যগ্রন্থটি। কাব্যের শিরোনামে আমরা এক ধরনের স্বকীয় অনীকীয় শিল্পোৎকর্ষ প্রত্যক্ষ করি। ভাষা ও ছন্দের অসামান্য দখল এ কাব্যের অনন্য দিক। কবি তন্ময় শিল্পিতভাবে বৈষয়িক বিষয়গুলোকে কাব্যিক আবহে বর্ণনায়িত করেছেন। সততই কবি মাত্রই সর্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক আর অতীত স্মৃতিরক্ষক। বইটিতে মোট ৬৭টি কবিতা স্থান পেয়েছে। চাররঙের প্রচ্ছদ করেছেন মেমিন উদ্দীন খালেদ। সিলেটের অনেক লাইব্রেরিতে বই পাওয়া যাচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT