সাহিত্য

‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী’ ও আমাদের দায়বদ্ধতা

সালেহ আহমদ সাদী প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৪-২০১৮ ইং ০০:২৭:৩০ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ পৃথিবীর ভাটি অঞ্চলের দেশ। মানচিত্রে ভারতীয় উপমহাদেশের এককোণোয় নিচের দিকে অবস্থিত এই দেশটি। ভৌগোলিক কারণে দেশটির সমৃদ্ধির ইতিহাস থাকলেও আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ইতিহাস নেই। তবে এইদেশ এমন অনেক সন্তানের জন্ম দিয়েছে যাদের মেধা ও যোগ্যতা ছিলো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব¡পূর্ণ অনেক ব্যক্তির সমমানের। তাদেরই একজন হলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. আখলাকুর রহমান। প্রত্যেক জাতির ইতিহাস উত্থান-পতনের ইতিহাস। তিনি ছিলেন আমাদের জনপদের সেই উত্থান যুগের সাক্ষী এবং কর্মী। তাঁকে নিয়ে প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজ-এর ‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী : ড. আখলাকুর রহমান’ গ্রন্থটি প্রগতিশীল পাঠকসংঘ ‘শৈলী’ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে ২৪ মার্চ, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজ-এর গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি, বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলে খ্যাত সিলেটের ভাটি অঞ্চল সুনাগঞ্জে ড. আখলাকুর রহমানের জন্ম। তিনি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরের পাশের গ্রাম তেঘরিতে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময় সৈয়দপুর-তেঘরি ইত্যাদি অঞ্চল যোগাযোগের দিক থেকে মোটামোটি বিচ্ছিন্ন ছিলো। ব্রিটিশ আমলে যেখানে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ছিল না, এবং যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পরবর্তীতে ব্রিটিশ রেমিটেন্সের কারণে আমরা দেখি তাও তখন তেমন ছিলো না। তবুও সে অঞ্চল থেকে যেসব জ্ঞানীগুণী মানুষ বের হয়ে আসতে আমরা দেখেছি, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।
ছোটবেলায় ড. আখলাকুর রহমান পিতৃহারা হন। পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন। ফলে সে সময় পিছিয়ে পড়া বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠী থেকে উঠে এসে বর্ণাঢ্য জীবনে প্রবেশ করতে শৈশব ও কৈশোরে তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর অভিযোগ ছিলো, মুসলিমলীগ নেতৃত্বের জীবন সংগ্রামে খিদমতে-খালক তথা সৃষ্টিরসেবার অভিজ্ঞতা ছিলো না। কিন্তু আমরা এই গ্রন্থে ড. আখলাকুর রহমানের যে পরিচয় পেয়েছি, ততে এই অভিযোগের সত্যতা তেমন একটা পাই না। তিনি তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্যেও মানবসেবার প্রতি মনোযোগী ছিলেন। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত মানুষের সেবায় তিনি উপদ্রব এলাকায় গমন করেন। পাকিস্তান জন্মের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষায় নবাব জমিদারদের মুসলিম লীগ আর আমজনতার মুসলিম লীগে যে বিভাজনের কথা শোনা গিয়েছিলো, মূলত মুসলিম লীগের সাথে ড. আখলাকুর রহমানের এখানেই ব্যবধান ছিলো।
ড. আখলাকুর রহমান যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন উপমহাদেশ ও পৃথিবী অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে। অটোম্যান সাম্রাজ্য, অস্ট্রোহাঙ্গোরিয়ান সাম্রাজ্য, জার সাম্রাজ্য ভেঙে গেছে। রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব, স্পেনের গৃহযুদ্ধ, অন্যদিকে সমসাময়িক সময়ে উপমহাদেশে আলীগড় আন্দোলন তখন বাঙালি মুসলিম সমাজে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছে। খেলাফত আন্দোলন যখন সমাপ্তির পথে, কংগ্রেস ধীরে ধীরে তখন ব্রিটিশ বিরোধী রাজনীতিতে ঢুকছে। উপমহাদেশে বিভিন্ন বিপ্লবী আন্দোলন তখন দানা বাঁধা শুরু করেছে। এই সময়ের আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হচ্ছে, ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গঠন। ড. আখলাকুর রহমান তাঁর তারুণ্যে দেখেছেন বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষ, ভারতের স্বাধীনতা এবং দেশভাগ। এসকল ঘটনার প্রত্যেকটি তাঁর জীবনকে কমবেশি রেখাপাত করে এবং তাঁর জীবনসংগ্রামের শিক্ষা দেয়। প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজ তাঁর ‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী : ড. আখলাকুর রহমান’ গ্রন্থে সেদিকগুলোতেও দৃষ্টিপাত করেছেন। লেখক মনে করেন এসব ড. আখলাকুর রহমান-এর জীবন সংগ্রামে অত্যন্ত গভীরভাবে প্রেরণা দিয়েছে। ড. আখলাকুর রহমান তাঁর শিক্ষা জীবনে নিজ গ্রামের স্কুল থেকে পশ্চিমা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়া করার সুযোগ লাভ করেছেন। স্কুলশিক্ষা নিজ এলাকার পাশে, উচ্চ মাধ্যমিক মদনমোহন কলেজে, গ্রেজুয়েশন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে, অতঃপর শান্তি নিকেতন হয়ে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পাশ করেন। সেখানে তিনি অর্থনীতির বিখ্যাত অধ্যাপক লুইসের সাহচর্য পান। তিনি এম.আই.টিতে পিএইচডি করেন। এতসব বাঘাবাঘা পুঁজিবাদী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে তিনি ফিরে এলেন নাজমুদ্দিন হাশেমের ভাষায় ‘অনুসূচনাহীন ও অসংশোধিত কমিউনিস্ট হিসাবে।’ এই গুণটি ছিলো তার অনন্য। কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু’র ভাষায় ‘নুড়ি পাথরের হাজার বছর পানির তলায় থেকে বুকে পানি ঢুকে না।’ ড. আখলাকুর রহমান প্রকৃত অর্থে নুড়ি পাথর ছিলেন। বিচিত্র পরিবেশে থেকেও তাঁর আদর্শকে তিনি ধরে রেখেছেন। অনেক লোভলালসার উপকরণের মাঝেও তিনি থেকেছেন নির্লোভ এবং দেশপ্রেমী। কর্মজীবনে তিনি পেশোয়ার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে গুরুত্ব¡পূর্ণ অবদান রাখেন। ফলে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা ও মান সম্পর্কে বেশ পরিচ্ছন্ন ধারণা তাঁর ছিলো। তিনি ছিলেন একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদ।
১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহ বা আজাদী আন্দোলনের পর ভারতবাসী রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম পরিত্যাগ করে। বিশেষত ভারতীয় মুসলিমরা রাজনীতি থেকে পরিচ্ছন্ন দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষা-আন্দোলন, ধর্মীয় পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সংগ্রামের কঠিন বাস্তবায়ন নিজেদের মেধা ও শ্রমকে বিনিয়োগ করে। স্যার সৈয়দ আহমদ মুসলমানদের কংগ্রেস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিমলীগ গঠিত হলেও তা তখন ছিলো নবাব, বাহাদুর আর জমিদার সাহেবদের আড্ডাখানা। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা পুনর্বার শুরু হয়। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি। ফলে ত্রিশের দশকে কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান খুব শক্তিশালী না হলেও অত্যন্ত কিছু প্রতিভাবান মানুষকে তারা প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। যেমন কমরেড মোজাফ্ফর আহমেদ, কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রমূখকে তারা বেশ কিছুটা প্রভাবিত করেন। কমিউনিস্ট পার্টি ওদের প্রচেষ্টায় যেমন করেই হোক ততদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও নিজেদের বিস্তারে সক্ষম হয় এবং অনেক তরুণকে তাদের আদর্শে উজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়। সেসব তরুণদের মতো ড. আখলাকুর রহমানও তাঁর তারুণ্যের প্রথমদিকে অথবা হয়ত কৈশোরের শেষদিকে তাঁর শিক্ষক দীনেশ চক্রবর্তীর মাধ্যমে হাইস্কুলেই কমিউনিজম তথা মার্কসবাদের দীক্ষা নেন। এই দীক্ষা তাঁকে সারাজীবন প্রভাবিত করেছে। আমরা প্রফেসর আব্দুল আজিজের লেখায় দেখতে পাই, তিনি সিলেটে এসে মদন মোহন কলেজে যখন পড়েছেন তখনও রাজনৈতিক কর্মকা-ে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে পাকিস্তান আন্দোলন। পাকিস্তান আন্দোলন ও মুসলিমলীগকে আজকাল ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের নৃশংস স্মৃতির কারণে যতটা প্রতিক্রিয়াশীল হিসাবে দেখা হয় সেকালে ততটা ছিলো না। এই আন্দোলনের একটা প্রগতিশীল দিকও ছিলো। সেজন্য সেসময় মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, ড. আখলাকুর রহমানের মত অনেক প্রগতিশীল নেতা-কর্মী এই আন্দোলনে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। তখন তারা মুসলমানদের আলাদা আবাসনের পক্ষে যুক্তি দিতেন। কারণ মুসলমানরা গরীব হওয়ায় হিন্দু জমিদারদের দ্বারা নিপীড়িত ছিলেন। তাই তাদের জন্য আলাদা আবাসের প্রয়োজন। এই পৃথক হওয়ার আন্দোলন মূলত তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন। তাদের এ যুক্তির পক্ষে তখন কমিউনিস্ট পার্টিরও সমর্থন ছিলো। ফলে আমরা তাঁকে মার্কসবাদে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমলীগের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে দেখি। তিনি তৎকালীন রাজনীতিতে আসাম মুসলিমলীগের সেক্রেটারি মাহমুদ আলীর অনুসারী ছিলেন। উল্লেখ্য জনাব মাহমুদ আলী আজীবন প্রগতিশীল চিন্তায় বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধীতা করেন এবং ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলেও তিনি আমৃত্যু বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেননি। মাহমুদ আলী ২০০৬ খ্রিষ্টব্দে পাকিস্তানে মৃত্যুবরণ করেন।
পাকিস্তানের জন্মের পরপরই ড. আখলাকুর রহমান প্রমূখ কর্তৃক পাকিস্তানে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি গড়ে তোলার জন্য ‘গণতান্ত্রিক যুবলীগ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এই সংগঠনের কর্মী সম্মেলনে ভাষা বিষয়ক একটি প্রস্তাবও করা হয়। তাদের প্রস্তাব ছিলো সেদিন, ‘বাংলাভাষাকে পূর্বপাকিস্তানের শিক্ষার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করা হউক। সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হইবে তৎসম্পর্কে আলাপ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া হোক এবং জনগণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গৃহীত হোক।’ এরপর তারা ছাত্র ফেডারেশন নামে একটি প্রগতিশীল সংগঠন গড়ে তোলা চেষ্টা করেন। পেশা জীবনে প্রবেশ করার পরও তিনি পূর্ব পাকিস্তানের উপর বৈষম্যের নিন্দা জানান এবং বিভিন্ন ফোরামে প্রতিবাদ করেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ভারত হয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি জাসদের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে দুঃখজনকভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কর্নেল তাহের তৎকালীন সেনা অফিসার মেজর জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে বিপ্লবের প্রয়াস চালান। বিপ্লব ব্যর্থ হয় এবং জিয়াউর রহমান জাসদের কর্মসূচি বাস্তাবায়নে অস্বীকার করেন এবং বিপ্লবী নেতৃত্বকে তিনি ক্ষমতার জন্য বিপদজনক বিবেচনা করে তাদেরকে আটক করে সামরিক আদালতে বিচার করেন। বিচারে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হলেও ড. আখলাকুর রহমান খালাস পান। কিন্তু জেল জীবনের ধকল আমৃত্যু তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এরপর ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। স্বাধীনতার সাফল্য কামনায় ও দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের স্বপ্নে তিনি এরশাদের শাসনামলেও বিভিন্ন প্রবন্ধ রচনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ড. আখলাকুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত দরদী মানুষ। তাঁর প্রথম বিবাহ সফল না হলেও শ্বশুরকুলের সাথে তিনি সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। তিনি মায়ের প্রতি খুব শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি মার্কসবাদী হলেও ধার্মিক মানুষদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিলো। এজন্য দেশ বিভাগের সময় ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে মাওলানা সহুল ওসমানীকে সাথে নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে সিলেটে গণভোটে কাজ করেন। ‘পাকিস্তান কায়েম সহিহ জিহাদ এবং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজে আইন’ এমন উক্তিতেও তাঁর আপত্তি ছিল না। তিনি ইসলামের মরমী ধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। বিভিন্ন সুফি চিন্তার মানুষের উপর তাঁর অগাধ আস্থা ছিলো। মার্কসবাদী হয়েও আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস অনেকের কাছে বোধগাম্য ছিলো না। এমন কি তাঁর মেয়েও বিষয়টিকে ঊহরমসধ বলেছেন। প্রকৃত অর্থে এদেশের মাটির প্রকৃতিই এমন। এখানে রামমোহন রায় থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, ফররুখ আহমদ, শামসুর রাহমান, আল-মাহমুদ সবাই ভাববাদী মানুষ। যে যতই বস্তুবাদী বা বাস্তববাদী হোন না কেন তাদের অন্তরের কোথাও না কোথাও একটি ভাববাদী দিক এসে যায়। সম্ভবত এজন্যই এদেশে আরবের শাস্ত্রীয় ইসলাম বা উত্তর ভারতের কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদের পরিবর্তে সুফি ইসলাম এবং বৈষ্ণব ধারা মানুষকে অধিক স্পর্শ করেছে।
ড. আখলাকুর রহমান-এর মতো একজন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মানুষ নিজের আত্মজীবনী লিখে যাননি। ফলে মৃত্যুর পর তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক পূর্ণাঙ্গ আলোকপাত করা সহজ নয়। কিন্তু প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজ অত্যন্ত পরিশ্রম করে তাঁর ‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী : ড. আখলাকুর রহমান’ বইটিতে সেই কাজ করেছেন। প্রগতিশীল পাঠকসংঘ শৈলী কর্তৃক ১৮মার্চ, ২০১৮ খ্রিষ্টব্দে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। আগ্রহী পাঠকের জন্য বইটি তাঁর জীবন ও গত শতাব্দীতে বাম আন্দোলনের একটি ধারার গতিপথ বোঝার জন্য সহযোগী হবে আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT