সম্পাদকীয় তোমরা যদি প্রকৃত মোমেন হও, তবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। -আল হাদিস

শিক্ষা ব্যবস্থা হ-য-ব-র-ল

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৪-২০১৮ ইং ০৪:২১:০১ | সংবাদটি ৯০ বার পঠিত

শুরু হয়েছে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীরা নানা ধরনের উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় ছিলো এতোদিন। মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁস -এর ধারাবাহিক ঘটনাগুলো পরীক্ষার্থীদের মনে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। বিগত বেশ কয়েকটি পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস -এর ঘটনা ঘটেছে। এমনি আশঙ্কায় এবারও শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা। সরকার অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। এর জন্য কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশ্ন পদ্ধতি পরিবর্তন। ইতোপূর্বে কয়েকবার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু বন্ধ হয়নি প্রশ্নপত্র ফাঁস -এর ধারাবাহিকতা। বরং বার বার প্রশ্ন পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই এলোমেলো হয়ে গেছে। শুধু প্রশ্ন পদ্ধতি নয়, আরও অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায়ই হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে- বিগত নয় বছরে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে অন্তত তিনবার প্রশ্ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এ সময়ে পাঠ্যবই, সিলেবাস, পরীক্ষা পদ্ধতি, ফলাফল পদ্ধতি, খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষা পদ্ধতিতে বারবার এই পরিবর্তনে অতিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এতে নাখোশ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ কমিটির সদস্যরাও। তারা মনে করেন শিক্ষা ব্যবস্থায় ঘন ঘন পরিবর্তন এবং পরীক্ষা ও প্রশ্ন পদ্ধতি বারবার পরিবর্তনের কারণেই শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে। পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনে শিক্ষক প্রতিনিধিদের মতামতেরও তোয়াক্কা করা হয়নি। বিগত এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস -এর ঘটনা ঘটলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল করার। অথচ জাতীয় শিক্ষানীতিতে পরীক্ষা পদ্ধতি বার বার পরিবর্তনের কথা বলা হয় নি। এমসিকিউ পদ্ধতিও বাতিলের কথা বলা হয় নি। অর্থাৎ পাবলিক পরীক্ষা তথা শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থ হয়ে সরকার কোনকিছু চিন্তা না করেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ অন্যান্য যেসব বিশৃঙ্খলা ঘটছে, তার কারণ খুঁজে বের করতে পারে নি সরকার। যে কারণে এইসব অপকর্মের নিরসনও হচ্ছে না। প্রথমত সৃজনশীল পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় ঘটাতে পারেনি এখনও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। সৃজনশীল বিষয়ে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ না দেওয়ায় দক্ষ শিক্ষক গড়ে উঠছে না। নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না দক্ষ শিক্ষক। ফলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল বিষয় সেভাবে বুঝতে পারছে না। তাছাড়া, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন প্রক্রিয়ায়ও রয়েছে ত্রুটি। জানা গেছে, অদক্ষ, অশিক্ষক এবং এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ের প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে। আবার প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য দক্ষ শিক্ষকও তৈরি করা হচ্ছে না। এসব কারণেই মূলত পরীক্ষা পদ্ধতি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। আর শিক্ষানীতির বাইরে গিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে সবকিছু সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে; যাতে বাড়ছে জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, যে কোনো নতুন পদ্ধতিই চালু হলে তা আত্মস্থ করতে সকলেরই কিছুটা সময় লাগে। অথচ তা বারবার পরিবর্তন করে পুরো বিষয়টিকে করা হচ্ছে আরও জটিল। এতে শিক্ষা ব্যবস্থাই ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন ছিলো একটা যুগান্তকারী সাফল্য। ২০১০ সালে এটি প্রণীত হয়। দেশের বুদ্ধিজীবী মহল এই শিক্ষানীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সকলে এর প্রশংসাও করেছেন এবং ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা চালু, সৃজনশীল পদ্ধতি ইত্যাদি ব্যাপারগুলো সকল অভিভাবক তথা বিজ্ঞমহলকে একটা সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখিয়েছিলো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ধূলিস্যাৎ হওয়ার পথে। শিক্ষানীতি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, সেই প্রশ্নই দেখা দিয়েছে এখন। তাছাড়া, শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি অতীতে যা ছিলো, তা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। খোদ শিক্ষামন্ত্রীও পক্ষান্তরে ঘুষ নিতে ‘উৎসাহিত’ করছেন আমলাদের। এই যখন সার্বিক অবস্থা, তখন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে তো উপায় নেই। তবে আমরা আশাবাদী সরকার এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ বের করবেই।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT