সম্পাদকীয় যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে অবিশ্বাসী (কাফের) বলবে, সে নিজেই অবিশ্বাসী হবে। -আল হাদিস।

ভিক্ষুক পুনর্বাসন হচ্ছে না

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৪-২০১৮ ইং ০০:২৬:৩৮ | সংবাদটি ৭৭ বার পঠিত

ব্যর্থ হওয়ার পথে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প। তাই ভিক্ষুকের সংখ্যা কমছে না, বরং বেড়ে চলেছে। ইতোপূর্বে ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে বিকল্প কর্মসংস্থানসহ ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচী নেয় সরকার। কিন্তু তা সফল হয় নি। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়Ñ রাজধানীসহ সারাদেশের রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, এয়ারপোর্ট, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজের সামনে, মাজার, বাসা-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটে ভিক্ষুক আর ভিক্ষুক। সারা দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা কতো তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিক্ষা বৃত্তির মতো লাভজনক পেশা পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। বাংলাদেশে ভিক্ষুকদের যে আয় রোজগার হয় তার এক তৃতীয়াংশও দৈনিক খেটে খাওয়া কুলি মজুরদের নেই; এমনকি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরও নেই। অথচ এই রোজগারে কোনো পরিশ্রম নেই। রাস্তা-ঘাটে বাসে অথবা একটু হাটাচলা করে এই রোজগার করা যায়। এই অবস্থায় সরকার এখনও আশাবাদী যে, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে অচিরেই।
ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষ। এটাকে অনেকে একটা ‘সামাজিক অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকেও ভিক্ষাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলে তাগিদ দিয়েছেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি ভিক্ষার হাতকে কর্মের হাতিয়ারে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যান্য ধর্মেও ভিক্ষাবৃত্তিকে সমর্থন করা হয় নি। এজন্য ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এখনই। এটা ঠিক যে, দারিদ্র্য ভিক্ষাবৃত্তির মূল কারণ। আর তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই এই প্রবণতা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্য নয়, ¯্রফে ব্যবসা হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিয়েছে অনেকে। তবে আমাদের সংবিধান অবশ্য এই ভিক্ষাবৃত্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে নি। সংবিধান অনুযায়ী ভিক্ষুকরা ভিক্ষা করাকে তাদের মৌলিক অধিকার হিসেবেও দাবি করতে পারে। অবশ্য ভিক্ষার জন্য যাতে কাউকে বিরক্ত করা না হয়, সে জন্য কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সংবিধানে।
বেসরকারি হিসেবে দেশে এখন ভিক্ষুকের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। শহরাঞ্চলে ভিক্ষুকদের ঘিরে গড়ে ওঠেছে শক্ত নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গড ফাদাররা। এরা পেশাদার ভিক্ষুক। প্রতি বছর এই ভিক্ষুকরা আয় করছে কোটি কোটি টাকা। নদী ভাঙন বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ নিঃস্বে পরিণত হচ্ছে। এরা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তি। এই ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলে দরকার সর্ব মহলে সচেতনতা। একজন সক্ষম ব্যক্তি যে দৈহিক শ্রম দিয়ে রোজগার করতে পারে, তাকে ভিক্ষা দেয়া মানে ভিক্ষাবৃত্তিকে উৎসাহিত করা। এতে তাদের মধ্যে এই ধারণা জন্মে যে, কাজ না করেই তো অর্থের রোজগার হচ্ছে, তবে কষ্ট করে কী লাভ? এভাবে কর্মবিমুখ হয়ে পড়ছে জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ। এ ব্যাপারে সরকারের আইনও রয়েছে। ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশও দিয়েছিলেন ‘আশ্রায়ন’ ও ঘরে ফেরা’ কর্মসূচিসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচীর মাধ্যমে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসিত করার। কিন্তু তাও বাস্তবায়িত হয় নি।
সরকার ২০১০ সালে ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়। এর জন্য ভিক্ষুক জরিপ কার্যক্রমও শুরু হয় বিভিন্ন শহরে। রাজধানীতে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় এই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। যাদেরকে পুনর্বাসিত করা হয় তারা আবার ফিরে আসে পুরনো পেশায়। এই অবস্থায় ভিক্ষুকের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে, এতে সন্দেহ নেই। তবে আশার কথা এই যে, ভিক্ষুকদের জন্য সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে একটি বিশেষ ‘ভিক্ষা এলাকা’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য নতুন রূপরেখাও তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্ততপক্ষে এই উদ্যোগটিও যাতে মাঝপথে আটকে না যায়, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT