সম্পাদকীয় অহংকারী ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। -আল হাদিস

সিলেট নগরে বায়ু দূষণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৪-২০১৮ ইং ০১:০৮:০৭ | সংবাদটি ৪২ বার পঠিত

একসময় ছিলো এটি শুধু নাগরিক সমস্যা। এখন সমস্যাটি শহর-নগরের গ-ি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে মফস্বলে। তবে বড় বড় শহর-নগরগুলোতে এই সমস্যাটি বেশি করে ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষদের। দেশের অন্যান্য নগরীর মতো সিলেটেও বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে। সেই সঙ্গে বিস্তৃতি ঘটছে বায়ু দূষণজনিত নানা রোগ-ব্যাধির। বায়ুতে অতিমাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং ভাসমান ধূলিকণাই নানা রোগ-ব্যাধির বিস্তার ঘটাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুরনো মোটর গাড়ির অতিমাত্রার ব্যবহার, যেখানে সেখানে স্থাপিত ইট ভাটা, স্টোন ক্রাশিং মেশিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর পদার্থ এবং গ্যাস ও তেল শোধনাগার থেকে সৃষ্ট উপজাতক ক্ষতিকর উপাদানের সৃষ্টি করছে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত রোগ, মাথাব্যথা এবং চর্মরোগের মতো নানা রোগের বিস্তার ঘটছে। এতোদিন ধরে নগরবাসীর মধ্যে একটা ধারণা ছিলো যে, বায়ু দূষণ শুধু রাজধানীসহ অন্যান্য নগরীর জন্য মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে; আসলে তাদের সেই ধারণা অমূলক। বায়ু দূষণ এখন নীরবে নিভৃতে সিলেটবাসীসহ অন্যান্য শহর নগরবাসীর জন্য যন্ত্রণার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সিলেট একটি ব্যস্ত নগরীর নাম। জেলা শহর থেকে মহানগরীতে উন্নীত হওয়ার পর থেকে বাড়ছে নগরীর ব্যস্ততা। সম্প্রসারিত হচ্ছে নগরীর পরিধি। সেই সঙ্গে বাড়ছে জনসংখ্যা, রাস্তা-ঘাট, আবাসিক এলাকা সম্প্রসারিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা, বিপনী ভবন। আর তার সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবেশগত নানা সমস্যাও। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, রাজধানী ঢাকার চেয়ে সিলেটের পরিবেশ দূষণ কোনো অংশেই কম নয়। ঢাকা হচ্ছে বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ নগরগুলোর একটি। ঢাকার আবহাওয়া দূষিত। বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়া দুষ্কর। দিন দিন বাতাসে সিসার মাত্রা বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, ভবিষ্যতে বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করবে। যার শিকার হবে নগরবাসী। এক পর্যায়ে তা শুধু নগরীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে গোটা দেশের মানুষই এর শিকার হবে। সুতরাং দেশের সবকটি শহর ও নগরীর বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সিলেট নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, শিবগঞ্জ, উপশহর, রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার এবং তাঁতীপাড়া এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি। ব্যস্ততম জিন্দাবাজারের বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের সর্বাধিক ঘনত্ব ৫৫০ পিপিএম। পৃথিবীর বায়ুম-লে বর্তমানে কার্বন ডাইঅক্সাইডের গড় উপস্থিতি তিনশ’ ৫০ পিপিএম। সেই তুলনায় সিলেটনগরীর জিন্দাবাজারের কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্ব দু’শ পিপিএম বেশি। এই উচ্চ ঘনত্বের কার্বন ডাইঅক্সাইড ভূমিকা রাখে তাপমাত্রার পরিবর্তনে। এছাড়া, নগরীর বায়ুতে সালফার ডাইঅক্সাইডের মাত্রা সর্বোচ্চ নয়শ’ ৪০ মাইক্রোগ্রাম পার মিটার কিউব। এটাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। পরিবেশ অধিদপ্তরের স্ট্যা-ার্ড অনুযায়ী বায়ুতে সালফার ডাই অক্সাইডের সহনশীলমাত্রা হচ্ছে একশ’ মাইক্রোগ্রাম পারমিটার কিউব। আর এটা আমাদের নগরীতে আছে এর চেয়ে আটশ’ ৪০ মাইক্রোগ্রাম বেশি। এসব ছাড়াও নগরীর বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণার উপস্থিতি বাড়ছে মারাত্মকভাবে।
বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নানা অসুখে বিসুখে ভুগছেন নগরবাসী। চিকিৎসকদের মতে, বায়ু দূষণের কারণে অনেক দূরারোগ্য ব্যাধির জন্ম হতে পারে মানবদেহে। আর তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে এখনই। বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুরনো গাড়ি, ইটের ভাটা, স্টোন ক্রাশিং, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও কারখানার কালো ধোঁয়া ইত্যাদি। যেখানে সেখানে ইটের ভাটা স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্দেশনা রয়েছে পরিবেশ সম্মত পদ্ধতিতে ইট তৈরি করার। অথচ সেই আইন মানছে না কেউ। কালো ধোঁয়া নির্গমণকারী পুরনো গাড়ি রাস্তায় বের করা নিষেধ। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তায় অবাধে চলছে পুরনো মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ি। বাতাসে অতিরিক্ত ধূলোবালির কারণ হলো রাস্তাঘাটে অহরহ খুঁড়াখুঁড়ি করা এবং ভাঙ্গাচুরা রাস্তা মেরামত না করা। অর্থাৎ সর্বত্রই সরকারি আইন-নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং আইন প্রয়োগে সরকারের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। সুতরাং এই সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ করতে হবে। সব ক্ষেত্রেই জনসাধারণের সচেতনতা জরুরি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT