উপ সম্পাদকীয়

যুদ্ধ ও শান্তি উভয় ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা বড় পথ প্রদর্শক। - এস ল্যান্ডার

ওজন পরিমাপক যন্ত্র প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৪-২০১৮ ইং ০২:২৫:৪৩ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত

ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় সারা দেশে বছরে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক বিনষ্ট হচ্ছে। সড়ক পথে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, ট্যাংকার এবং লরি বেআইনীভাবে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন করছে। আর এতে সড়কপথের ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য প্রতি বছর প্রায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোকে সর্বোচ্চ পাঁচটন ওজন বহন উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়। অথচ দূরপাল্লার মালবাহী যানবাহনগুলো আট থেকে ১৫ টন পর্যন্ত মালামাল বোঝাই করে চলাচল করছে। ফলে শুধু সড়ক ধ্বংসই হচ্ছেনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনগুলো। এতে সারা দেশে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ট্রাক চালক সহ সহ¯্রাধিক যাত্রী এবং নিরীহ পথচারী প্রাণ হারাচ্ছে। ওজন পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে সড়ক-মহাসড়কে ধারণ ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা জরুরী।
সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগই এই সুযোগ করে দিয়েছে। দেখা গেছে, যানবাহনের রুট পারমিটের সময় ট্রাক, ট্যাংকার, লরি পাঁচ টন পরিবহনের ট্যাক্স প্রদান করেই পারমিট গ্রহণ করে। অথচ এইসব ট্রাক, ট্যাংকার, লরি মালামাল বহন করে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে তিন চারগুণ বেশী। এছাড়া, এসব যানবাহনের বডি তৈরীর সময় মূল ডিজাইনের চেয়ে বর্ধিত আকারে তৈরী করা হয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাসে অতিরিক্ত সিট বসিয়ে এবং ছাদে রেলিং তৈরী করে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করা হয়। এতে গাড়ির ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে অনেক সময় ভারসাম্য হারিয়ে গাড়ি পড়ে দুর্ঘটনায়। এতে ইঞ্জিনের আয়ুও কমে যায় দ্রুত। আর অতিরিক্ত মাল পরিবহনের ট্যাক্স থেকেও বঞ্চিত হয় সরকার।
আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনগ্রসরতার অন্যতম কারণ হচ্ছে সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করা। সড়ক নির্মাণ করা হয় নির্দিষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহন চলাচল করবার জন্য। কিন্তু কোন সড়কেই ধারণ ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যানবাহন চলাচল করছে না। অর্থাৎ যে সড়কের ধারণ ক্ষমতা পাঁচ টন, সেখানে চলাচল করছে ১০ থেকে ১৫ টন ভারী ট্রাক-ট্যাংকার। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই সড়কের ওপর চাপ পড়ছে অধিক। ফলে নির্মাণ বা মেরামত করার অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙ্গে যাচ্ছে সড়ক। মেরামতের নামে ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সড়কপথ মেরামতে প্রতি বছর কমপক্ষে কয়েক শ’ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে এ ব্যাপারে যাদের তদারকি করার কথা, তারা নীরব। বরং তারা আইন বহির্ভূতভাবে ১৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন যান চলাচলের অনুমতি দেয়।
সারাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সড়ক পথ রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কিলোমিটার। এছাড়া, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন কাঁচা পাকা সড়ক রয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটারের বেশী। অর্থাৎ সারা দেশে পৌণে দুই লাখ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন চলাচল করছে কয়েক লাখ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। বিশেষ করে মালবাহী ট্যাক-ট্যাংকারগুলো অতিরিক্ত পণ্য বহন করে সড়কপথের সর্বনাশ করে চলেছে। তাছাড়া আমাদের সড়কপথের ধারণ ক্ষমতা মাপার কোন সুযোগই নেই। বিভিন্ন সড়কে ওয়ে মেশিন বা ওজন মাপক যন্ত্র স্থাপন করে ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনলে সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হতোনা এবং মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হতো।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ইয়েমেন সংকট : কে কার সঙ্গে লড়াই করছে?
  • বৃটিশ আমলে সিলেটের প্রথম আইসিএস গুরুসদয় দত্ত
  • ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
  • প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন কাম্য
  • ইতিহাসের একটি অধ্যায় : প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান
  • সড়কে মৃত্যুর মিছিল কি থামানো যাবে না?
  • স্বাস্থ্যসেবা : আমাদের নাগরিক অধিকার
  • কে. আর কাসেমী
  • আইনজীবী সহকারী কাউন্সিল আইন প্রসঙ্গ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • Developed by: Sparkle IT