স্বাস্থ্য কুশল

শিশুকে গড়ে তোলা

মোঃ মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৪-২০১৮ ইং ০২:২৮:১৪ | সংবাদটি ১৩৭ বার পঠিত

একটি শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব মা-বাবার উপর বর্তায়। আস্তে আস্তে শিশু যখন বড় হতে থাকে তখন প্রতিবেশি ও সমাজের অনেক দায়িত্ব এমনিতেই এসে যায় শিশুর প্রতি। কারণ শিশু যদি মানুষের মতো মানুষ না হয় তবে সে সমাজ ও দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আমাদের সকলের উচিত নিজ শিশু কিংবা অন্যের শিশুর প্রতি সজাগ খেয়ালী হওয়া। প্রথম থেকেই মা বুকের দুধ খাইয়ে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ করবেন। শিশুর গোসল তথা শারীরিক যতœ করে শিশুকে আগলে রাখবেন। একজন মায়ের যতোই বিত্ত থাকুক না কেন নিজ চিত্ত দিয়ে এসব করলে শিশু ও মায়ের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিশুর বাবা তার সাধ্য মতো শিশুর কাপড়-চোপড় এবং বেড়ে উঠার সাথে সাথে শিশুর অন্যান্য খাবারের ব্যবস্থা করবেন। অবশ্য মাও এসবের ব্যবস্থা করতে পারেন। শিশুকে স্বাস্থ্যবান রূপে বেড়ে ওঠার জন্য সুষম খাদ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। শিশু যখন হাটা-চলা শেখে এদিক-ওদিক যাতায়াত করতে পারে তখন আপনার দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে। ঘর থেকে বের হয়ে হোচট খাচ্ছে কি না বা পুকুর পাড়ে যাচ্ছে কি না এটা যেমন আপনি খেয়াল রাখেন ঠিক তেমন বাড়িতে কিংবা বাড়ির বাহিরে যখন আপনার আদরের সোনামনি যাবে তখন আপনি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার সন্তান নষ্ট হচ্ছে কি না। চরিত্র ধ্বংসের পথে যাচ্ছে কি না। আপনার সন্তানকে অবশ্যই ছোটকাল থেকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে আপনার সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনি কাজ কিংবা অফিস থেকে বাসায় ফিরে আপনার সন্তানদের আদর করে কাছে ডাকুন। ওদের খাওয়া না হলে একসাথে সবাই মিলে খেতে বসুন। বাচ্চাদের কখনো রাগ করে বা ধমক দিয়ে কথা বলবেন না। আদর করে মিষ্টি সুরে কথা বলুন। দেখবেন বাচ্চারা আপনার কথা শুনছে। বাচ্চারা আদর পেলে খুশি হয় এবং কথাও শুনে। আপনার গৃহশিক্ষক যতোই থাকুক, সুযোগ করে আপনিও বাচ্চাদের লেখাপড়ার খোঁজ নিন এবং তাদের সাথে একটু খোশগল্প করুন। এতে আপনার সন্তান আপনার কাছে সব কিছু বলার সাহস হারাবে না। বাচ্চাদের সততা শেখান, মিথ্যা পরিত্যাগ করতে বলুন। বড়দের সম্মান দেখাতে এবং ছোটদের আদর দিতে শিক্ষা দিন। সামাজিক মূল্যবোধ এবং ধর্মিয় শিক্ষা দিন। আত্মীয়-স্বজন বেড়াতে এলে আপনি খুশি থাকুন তাদের যতœ করুন এবং সন্তানদেরকেও তা শিক্ষা দিন। বাচ্চাদের আদর্শ শিক্ষা দিন। অশ্লীল কাজ এবং গালাগাল এড়িয়ে চলতে উৎসাহিতকরুন। পরনিন্দা, পরচর্চা, পরের ক্ষতিসাধন, পরের সম্পদে লোভ না করা ইত্যাদি শিক্ষা দিন। সমাজের ও দেশের প্রতি প্রত্যেকের দায়িত্ব আছে তা একটু বড় হবার সাথে সাথে বুঝাতে থাকুন। আপনার সন্তান যেন দেশ ও সমাজের অভিশাপ না হয় যেন আদর্শ মানুষ রূপে গড়ে ওঠে সে দিকে আপনি খেয়াল রাখুন। বাচ্চাদেরকে বদ মেজাজি হতে দূরে রাখুন। বখাটে ও খারাপদের সঙ্গ যেন না পায় সে দিকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখুন। এতো সত্ত্বেও যদি কখনো কোনো ভুল হয়ে যায় তবে আদর দিয়ে কাছে ডেকে বুঝিয়ে বলুন। সন্তানের ভুলের জন্য সকলের সামনে লজ্জা না দিয়ে আড়ালে নিয়ে বুঝিয়ে বলুন। দেশ ও জাতির সেবায় আপনার শিশুকে ছোট থেকেই গড়ে তুলুন। এতে সে বিপথে যাবে না।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা
  • অনিদ্রার অন্যতম কারণ বিষন্নতা
  • রক্তশূন্যতায় করণীয়
  • চোখে যখন অ্যালার্জি
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
  • রোগ প্রতিরোধে লেবু
  •  স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
  • শিশুর উচ্চতা কমবেশি কেন হয়
  • গরমে পানি খাবেন কতটুকু ডা. তানজিয়া নাহার তিনা
  • অধূমপায়ীদের কি ফুসফুসের রোগ হয়?
  • বিষন্নতা একটি মানসিক রোগ
  • ঘাতক ব্যাধি এইডস : ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ
  • স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন পুরুষও
  • মেপে খান মাংস
  •  গরমে ঘামাচি থেকে রক্ষা পেতে
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে ফোঁড়ার চিকিৎসা
  • স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সুরক্ষায় এভোকেডো
  • কোন জ্বরে কী দাওয়াই
  • মায়ের দুধ পান : সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • রোগ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া
  • Developed by: Sparkle IT