সম্পাদকীয় যুগের ধর্ম এই- পীড়ন করলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই। - কাজী নজরুল ইসলাম

বাড়ছে শিক্ষিত বেকার

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৪-২০১৮ ইং ২৩:৪৩:২৩ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

বাড়ছে শিক্ষিত বেকার। বেকারদের মধ্যে ৪০ শতাংশই শিক্ষিত। সম্প্রতি প্রকাশিত জনশক্তি জরিপে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জরিপ মতে, যারা কখনও স্কুলে যাননি, যারা শিক্ষার সুযোগ পাননি, তাদের মধ্যেই বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম। দেশে যতো লোক বেকার রয়েছে, তাদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনে দু’জন উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পড়াশোনা করে একটু ভালো কাজের সন্ধানে থাকেন তারা। কিন্তু সময়মতো চাকুরী জুটছেনা তাদের ভাগ্যে। আবার চাকুরী পেলেও সেই চাকুরীতে যোগ দিতে অনীহা তাদের। জরিপে দেখা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের শেষে সারা দেশে ২৬ লাখ ৭৭ হাজার বেকার লোক রয়েছেন। যারা সপ্তাহে এক ঘন্টাও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। এই বেকারদের মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার তরুণ-তরুণী উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর উত্তীর্ণ। বিশিষ্টজনদের মতে দেশে কাজের চাহিদা আছে। কিন্তু দক্ষ লোক নেই। অর্থাৎ চাহিদা ও যোগানের ফারাক রয়েছে বিস্তর।
বেকারের সংখ্যা বাড়ছে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব ধরনেরই। এর মধ্যে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। এমন অবস্থার কারণ খুঁজলে দেখা যাবে সরকারি-বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমনি সৃষ্টি হচ্ছে না, তেমনি শিক্ষার মানও ভালো না থাকায় চাকুরীর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চাকুরী পাচ্ছেন না অনেকে। অর্থাৎ দেশে চাকুরীর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দক্ষ লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে হবে। দেখা গেছে শিক্ষিতদের বেশিরভাগই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিতদের সংখ্যা কম। দেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি ৩৫ লাখ। এদের বেশির ভাগই বেকার।
আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা (আইএলও)’র মানদন্ড অনুযায়ী সক্ষম জনগোষ্ঠী যারা সপ্তাহে অন্তত এক ঘন্টাও কাজ করে না, তাদেরকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়। গত এক বছরে দেশে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ১৩ লাখের মতো। সে সময় বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে দশ লাখ। বেকারত্বের হার নিয়ে একটা জটিল পরিসংখ্যান পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়। পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং আইএলও এক এক সময় এক এক তথ্য প্রকাশ করে। একটার সঙ্গে অন্যটির বিস্তর গরমিল। আইএলও ২০১৫ সালে আশংকা প্রকাশ করেছিলো অচিরেই দেশে বেকারের সংখ্যা ছয় কোটিতে পৌঁছুবে। সেই আশংকা অনুযায়ী জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই থাকবে বেকার। পরিসংখ্যান নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও এটাই সত্যি যে, দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই দেশে প্রতি বছর ১৮ লাখ মানুষ নতুন করে শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই বেকার বা আংশিক বেকার থেকে যাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। তবে বেকারত্ব কমবেশি সব দেশেই আছে। আইএলও’র মতে, সারা বিশ্বে এখন বেকারের সংখ্যা কমপক্ষে ২০ কোটি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো সহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যেমন বেকারত্ব আছে, তেমনি আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই। তবে সার্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের বেকারত্বের হার অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভয়াবহ।
বেকারত্ব হচ্ছে কাজের অভাবে অনিচ্ছাকৃত কর্মহীনতা। এই বেকারত্ব বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে- সার্বিক বিনিয়োগ হ্রাস, উৎপাদনমুখী শিল্পায়নে উদ্যোক্তার অনাগ্রহ, শ্রমিকের অদক্ষতা, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব, কারিগরি শিক্ষার অভাব, কৃষি, মৎস্য, পশু পালন ও পোল্ট্রির মতো লাভজনক খাতে শিক্ষিতদের প্রবেশে অনীহা ইত্যাদি। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারি খাত মাত্র পাঁচ শতাংশ অবদান রাখছে। বাকি ৯৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই হচ্ছে বেসরকারী খাতের মাধ্যমে। কিন্তু বেসরকারী খাতও সাম্প্রতিককালে ঝিমিয়ে পড়েছে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্ব নিরসনে দেশে এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা সৃষ্টি করা দরকার, যাতে উৎপাদনশীল খাতে ক্ষুদ্র, মাঝারী ও বৃহৎ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। শিল্প কারখানা বৃদ্ধির ফলে কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। সরকারী খাতে শূন্যপদগুলো পূরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষার ক্ষেত্রে কর্মমুখী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT