ইতিহাস ও ঐতিহ্য

মমতাজের টুকরো টুকরো লাশ

তাজুল মোহাম্মদ প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৪-২০১৮ ইং ২৩:৪৫:২৩ | সংবাদটি ৭১ বার পঠিত

বিধবা মায়ের সন্তান মমতাজ। পেশায় গাড়ি চালক। একেবারে নিরীহ একটি ছেলে। মা ব্যতিত জগতে ছিলো না তাঁর কেউ। সেই অসহায় মমতাজকেও পাকড়াও করে বিহারিরা। তারপর কেটে টুকরো টুকরো করে একটি ট্রাংকে ভর্তি করে রেখেছিলো।
মমতাজের জন্ম ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায়-এতোটুকুই জানা গেছে। গ্রামের নাম কি, কে ছিলেন জন্মদাতা এর কিছুই জানা যায় নি। ময়মনসিংহের যে বাড়িতে চাকুরি করতেন তাদের নিকট থেকে জানা গেছে- তাঁর জন্মের আগে বাবা-মা আরো কয়েকজন সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু বেঁচে ছিলো না কেউ-ই। অল্প দিনের মধ্যে মারা যেতো তারা। তাই মমতাজের জন্যে তারা ছিলেন খুবই উদ্বিগ্ন। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ঝাঁড়-ফুঁক কত কিছু যে করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। এই পীর, ঐ মাজার আরো কতো স্থানে দৌড়-ঝাঁপ। সে সময়ে কোথাও কোনো এক পীরের নিকট থেকে এনে একটি আংটি পরানো হয়েছিল তাঁর আঙ্গুঁলে। ট্রাংকে ভরে রাখা টুকরো টুকরো দেহাংশ পরীক্ষা করে করে মা দেখতে পান সেই আংটি। সনাক্ত করেন তাঁকে ছেলে হিসেবে। শুরু হয় বিধবা মায়ের বিলাপ। চোখের জল যেন নদী হয়ে বইতে থাকে নিরবধি। ঝরছে জল, ঝরতে থাকে অবিরত। ছেলের জন্য অশ্রুজলে বুক ভাসাতে ভাসাতে পাগল হয়ে যান তিনি। পাগল অবস্থায় বলতেন শুধু মমতাজ- মমতাজ। এই মমতাজ-মমতাজ করে করেই কাটতো তার দিন- কাটতো রাত। কেটে গেছে সপ্তাহ, মাস, বছর। বছরের পিঠে যুক্ত হয়েছে বছর। অতিবাহিত করেছেন ২১টি শীত বসন্ত। তারপরও ছেলের জন্য বিলাপ থামে নি একটি বারের তরেও। মমতাজ- মমতাজ চিৎকার করে করেই ত্যাগ করেন অন্তিম নিঃশ্বাস।
মুক্তিযুদ্ধের বছর তিনেক আগে মুক্তাগাছা থেকে তখনকার জেলা শহর ময়মনসিংহে আসেন মমতাজ। একেবারেই একটি টগবগে কিশোর। গাড়ি চালানোর বিদ্যেটা আয়ত্ব করতে সমর্থ হয়েছেন বই-পুস্তকের সঙ্গেঁ পরিচিতি না ঘটিয়েও। সে কারণে চাকুরি জুটাতে কষ্ট হয়নি তাঁর। শহরের একজন পরিচিত ব্যবসায়ীর গাড়ি চালক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যান সহজেই। ভদ্রলোকের নাম আব্দুল বারী ভূঁইয়া। ছোট নাম মতি বা মতি মিয়া। সেই মতির সঙ্গেঁ পারিবারিক ছোট টাইটেল যুক্ত করে লোকজন সম্বোধন করতো মতি-ভূঁইয়া বলে। নান্দাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের আঠার বাড়ি গ্রামের সন্তান। পিতা ছাবেদ আলী ভূঁইয়া মুসলিম লীগ করতেন সক্রিয়ভাবে। কিন্তু পুত্র মতি ভূঁইয়া মাড়ান নি কখনো রাজনীতির মাঠ। তিনি ছিলেন ব্যবসা নিয়ে কেবলই ব্যবসা। বার্মা ইষ্টার্ণের ডিলারশীপ নিয়ে শহরে একে একে প্রতিষ্ঠা করেন তিন-তিনটে পেট্রোল পাম্প। ছিল কীটনাশকেরও ডিলারশীপ। হয়তো আরো কোনো কোনো ব্যবসায়ে পুঁজি খাটিয়েছেন তিনি। বাসা নিয়েছেন শহরের থানাঘাট এলাকায়। কতোয়ালি থানার কাছে। ঘন-ঘন যাতায়াত ছিল নান্দাইলের আঠার বাড়ি। শহর-গ্রাম মিলিয়েই কাটতো দিন। ব্যবসার পেছনে উদয়াস্ত ছুটোছুটি করার জন্য গাড়ি ছিল অপরিহার্য। প্রয়োজন সার্বক্ষণিক গাড়ি চালক। কখনো আবার একাধিক গাড়ি, একাধিক চালক। তাই নিয়োগ দেন তরুণ মমতাজকে। মতি ভূঁইয়াকে নিয়ে নানা স্থানে ঘুরাঘুরির ফাঁকে ফাঁকে এটা-ওঠা কতো ফায়-ফরমায়েশ খাটতেন তিনি। তরুণ বয়স। হাসি-খুশি। দেহ-মনে চাঞ্চল্য। সব কাজ করতে অভ্যস্থ। নিয়োগকর্তার একান্ত অনুগত। কোনো কাজের অনুরোধ বা নির্দেশ দিতে যে সময় ব্যয় হতো-ঝাঁপিয়ে পড়তে ততোটুকু লাগতো না। বাসাতে-বাড়িতেও তাই। ছোট-বড় সবার কথাই শুনতেন। প্রত্যেকের মন রক্ষা করার প্রচেষ্টা ছিল মমতাজের। তাইতো পরিবারসুদ্ধ সবাই আদর করতো তাঁকে। কারণে-অকারণে ডাকতো কাছে। এ সব কথা বলেছেন ভুঁইয়া পরিবারের জীবিত সদস্যরা।
ট্রাক ভর্তি লাশ নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সন্তানরা প্রত্যক্ষ করার পর মতি ভুঁইয়া শহর ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাই শহরে নয়- বাস করেছেন তারা গ্রামে। শহর অপেক্ষা গ্রাম একটু নিরাপদ। অন্যদিকে ছুটোছুটি বেড়ে গিয়েছে মতি ভূঁইয়ার। শত ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে যেতেন গ্রামে- স্ত্রী আর সন্তানদের মাঝে। সার্বক্ষণিক সাথে থাকেন মমতাজ। তিনি জিপখানা চালিয়ে নিয়ে যান গ্রামে। আবার ফিরে আসেন শহরে। এভাবেই যাচ্ছে দিন, কাটছে রাত। ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হচ্ছিল মতি ভূঁইয়ার পরিবারের সঙ্গেঁ মমতাজের সম্পর্ক।
পেট্রোল পাম্পের মালিক মতি ভুঁইয়া। আর, পেট্রোল প্রয়োজন মিলিটারিদের। প্রয়োজন হয়েছে কখনো কখনো মুক্তি সেনাদের। মুক্তিযোদ্ধাদের দরকার হলে রাতের বেলা নিয়ে যেতো পেট্রোল। আর, মিলিটারিদের জন্যতো দিন রাতের প্রভেদ নেই কোনো। যখন ইচ্ছে আসতো। যতোটুকু প্রয়োজন পেট্রোল ভরে নিয়ে যেতো। মূল্য পরিশোধ করবে কি করবে না সেটি একেবারেই তাদের মর্জির ওপর নির্ভর করতো। ইচ্ছে হলে দশ-বিশ টাকা দিয়ে দিতো ইচ্ছে না হলে সোজা চলে যেতো। কখনো বলতো এক সাথে দিয়ে দিবে কোনো এক সময়। সেই কোনো এক সময় হয়তো আর কখনো হতো না। নিজে থেকে চাইতেন না টাকা-পয়সা। কারণ, মুক্তিযোদ্ধারা পেট্রোল নিয়ে যায় এমন কথা প্রকাশ হয়ে গেলে নির্ঘাত মৃত্যু। এ সব নিয়েই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাঁটে দিন। অবশ্যি, মিলিটারিদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য ছিলো না। ইহাই তখন পর্যন্ত আশার বিষয়। তবে, পেট্রোল পাম্প ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল মিলিটারি হেড কোয়ার্টার থেকে। ইহাতো পাকিস্তান এবং ইসলাম রক্ষার তরে। পবিত্র দায়িত্ব হিসেবেই করতে হবে। কি আর করা- নির্দেশ মতো খোলা থাকছে পাম্পগুলো দিন-রাত। এর জন্য নানা সমস্যাও হয়েছে। পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর নির্দেশনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যখনই তারা পেট্রোল চাইবে- তখনই দিতে হবে। পেট্রোল নেই- এমন কথা বলা যাবে না। তাদের জন্য মজুদ রাখতে হবে সার্বক্ষণিক। কিন্তু তা-তো সম্ভব হবে না সব সময়। আবার যুদ্ধের কারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আটকে যাচ্ছে তেলবাহী ট্যাংকার। পাম্পের তেল নিঃশেষিত হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় মিলিটারি আসলে মারধর করতো কর্মচারীদের। বুটের নিচে ফেলে পিষ্ট করতো তাদেরকে।
পাক বাহিনীর আচরণ তখন ক্ষ্যাপা কুকুর সদৃশ। কখন যে কি করে বসে? মতি ভুঁইয়াও অস্থির হয়ে পড়েন। রাতের বেলা মাঝে মাঝে অস্থিরভাবে পায়চারি করতেন ঘরময়। এসব জানা গেছে তার পরিবার সূত্র থেকে। ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিতে থাকেন পরিবার এবং অন্যান্য আশয়-বিষয়। সন্তানদের মধ্যে যারা তখনো শহরে ছিলেন তাদেরকেও পাঠিয়ে দেন গ্রামে। মমতাজই নিয়ে গেছে সে অবধি। এবারে মমতাজকেও ছুটি দিতে চান। পরের ছেলে সে। বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান। যদি কিছু হয়ে যায়! কি জবাব দেবেন তাঁর মাকে? কেমন করে সামনে দাঁড়াবেন সেই বিধবা মহিলার। কিন্তু মমতাজ যেতে চান না- তাকে ছেড়ে। বেশ ক’দিন ধরে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে অবশেষে রাজি করান তাঁকে। গ্রামে মায়ের কাছে যেতে শেষাবধি রাজি হলেন মমতাজ। গাড়ি বন্ধ করে, মালিকের কাছে চাবি তুলে দিয়ে রওয়ানা করেন মায়ের কাছে। ময়মনসিংহ হয়ে- মুক্তাগাছা উপজেলার কোনো একটি নিভৃত গ্রামে। যাচ্ছেন মায়ের কাছে। মায়ের ছেলে চলেছেন মায়ের কোলে। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপন পথে কোথাও-কোথাও যানবাহনে, কখনো আবার পায়ে হেঁটে, অতি সংগোপনে পৌঁছালেন গ্রামে।
যুদ্ধের উথাল-পাতাল দিন। গ্রামে থেকেও শহরের দিকে কান পেতে আছেন অভাগিনি মা। বহু দূরের শহর থেকে, কতো প্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে মায়ের কোলে এসেছেন ছেলে। মাতা-পুত্রের সেই মহামিলনের ক্ষণটুকু স্বচক্ষে না দেখলে বুঝানো কঠিন। মা নিজেও জানেন না কতক্ষণ ছেলেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন বুকে। আদরে আদরে সিক্ত করেন তাকে। মা আর ছেলে, ছেলে আর মা। দু’জনে মিলে বাস করছেন একত্রে। মায়ের কাছেতো সেটি স্বর্গসুখ। কতোদিন ছিলেন একত্রে? না, খুব বেশি দিন নয়- একেবারেই স্বল্প সময়। তারপর উধাও হয়ে যান মমতাজ। বাড়ি থেকে বের হবার কালে বোধ করি বলে যান নি মাকে। তা না হলে দু’চার দিনের মাথায়ই মা আবার রাস্তায় নামবেন কেন? শ্বাপদসংকুল পথ অতিক্রম করে করে ময়মনসিংহ জেলারই নান্দাইল উপজেলায় পৌঁছালেন তিনি। খোঁজে খোঁজে বের করতে সমর্থ হলেন আঠার বাড়ি গ্রাম। আর, গ্রামের মানুষতো সবাই চেনেন ভূঁইয়া বাড়ি। সেটিই এই দূরদেশিনী মায়ের লক্ষ্য। মতি ভূঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে জানলেন, মমতাজ আসেন নি শেখানে। তা হলে কোথায় তার ছেলে, তার কলিজার টুকরো নাড়ি ছেড়া ধন? পাগলিনীর ন্যায় ছুটে চলেন এখানে সেখানে। মতি ভূঁইয়ার পরিবারও বুঝলেন মমতাজ চলে এসেছেন বাড়ি থেকে। তা হলে কি ময়মনসিংহ শহরে? খোঁজে দেখতে হবে সেখানে। গেলেন তিনি শহরে। না, বাসায়তো নেই। কোথায় তা হলে? মুক্তিযুদ্ধে চলে গেছেন কি? সম্ভাব্য কতো কিছু নিয়েই ভাবছেন তারা।
মতি ভূ্ইঁয়ার পরিবারকে বাড়ি পৌঁছে দেবার পর তার স্ত্রী নিলুফার মিলু মমতাজকে বিদায় জানান। কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়েছিলেন হাতে। এ সময় তাঁকে বলেন- ‘তিন মাসের বেতন দেয়া হলো। এ টাকা নিয়ে চলে যাও মুক্তাগাছা। গ্রামে থাকো গা ঢাকা দিয়ে। অবস্থার উন্নতি হলে আমরা তোমাকে সংবাদ পাঠাবো। এর আগে পর্যন্ত গ্রামেই বাস করো। কিন্তু গ্রামে থাকেন নি মমতাজ। চলে আসলেন ময়মনসিংহ। সেখানে মতি ভূঁইয়ার গদি ঘরের কাছে আশ্রয় নেন। বেশ ক’টি ঘর ছিল। ভাড়াটিয়াও আছে। তাদের সঙ্গে বসবাস করতে থাকেন মমতাজ। কখন ওঠেন ওখানে, ছিলেন, কতোদিন-সে সব কে জানাবে? ওখানকার বাসিন্দারা কারা ছিলেন, কে কোথায় আছেন এসবের কোনো হদিস পাওয়া যায় নি। ফলে, এ সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নি কেউ-ই। এমনকি কতো তারিখে মমতাজ খুন হলেন, কিভাবে- কেমন করে ঘটনাটি ঘটে এ সবের কিছুই জানা যায় নি।
ভাড়াটিয়ারা ছিল বিহারী। ওরা সবাই চলে যায় এক সময়। লোক ডাকা হলো-পুরো বাড়ি পরিষ্কার করার জন্য। কিন্তু ভেতর থেকে ভীষণ দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে। কোথা থেকে, কিসের গন্ধ? কিছুই বুঝতে পারছিল না কেউ। শুরু হলো দুর্গন্ধের উৎস খোঁজা। দেখা গেলো একটি বড়-সড়ো ট্রাংকের ভেতর থেকে বেরুচ্ছে উৎকট মাংস পঁচা গন্ধ। সেটি খোলা মাত্রই সকলের চোখ ছানাবড়া। এ যে, মানুষের খন্ডিত বিখন্ডিত দেহ। পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একটু নাড়া-চাড়ার পরতো গোটা পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে গন্ধ। নাক বন্ধ করেও টেকা ভার। তা হলে কার এই দেহ। কাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করে রাখা হয়েছে ট্রাংকে ভরে? এই পঁচা-গলা খন্ড খন্ড দেহ থেকে পরিচয় বের করা খুবই কঠিন। মুখ দেখে সনাক্ত করা আর সম্ভব নয়। কোনো অঙ্গঁ-প্রত্যঙ্গঁই স্বাভাবিক ছিলো না। জামা-কাপড় থেকে মতি ভূঁইয়ারা স্থির সিদ্ধান্ত নিলেন এটি মমতাজের মৃতদেহ। এর মধ্যে আসলেন তাঁর মা। গায়ের কাপড় দেখেই ধরে নেন তার সন্তান। তারপরতো নাকে আর গন্ধও লাগেনা মায়ের। নিজ হাতে টুকরো টুকরো মাংস সরিয়ে খোঁজতে থাকেন কি একটা। অবশেষে পেয়েও যান হাতের আঙ্গুঁল। যে আঙ্গুঁলে তখনো রয়েছে সেই আংটি। আংটি দেখেই মুর্ছা গেলেন মা। এর পরতো ডাকতে হলো চিকিৎসক। চিকিৎসাও হয়েছে সেখানে। জ্ঞানও ফিরে আসে সে সময়। ছেলেকেও কবরস্থ করা হলো ময়মনসিংহে-ই। কিন্তু মায়ের মুখে সার্বক্ষণিক মমতাজ-মমতাজ উচ্চারিত হতে থাকে। এভাবে ছেলের নাম উচ্চারণ করতে করতে পাগল হয়ে যান মা।
ময়মনসিংহ শহরের পাবলিক গোরস্থান। সেখানে কবর দেয়া যায় যে কারো লাশ। তবে, স্থায়ী দেয়াল দেয়া যায় না করবে। কোনো নামফলকও লাগানো যায় না। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই কবরের চিহ্নটি মুছে গিয়েছে। একই স্থানে হয়তো সমাহিত হয়েছেন আরো অনেকে। কিন্তু মন থেকে সে নাম মুছতে পারে- সাধ্য আছে কার? মমতাজের নাম জপ করতে করতেই পাগল হয়ে যান তিনি। পাগল অবস্থায়ই বেঁচেছিলেন ২১ বছর। আর, ১৯৯২ সালে পাগলিনী মা মমতাজ-মমতাজ বলতে বলতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT