ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঝরনা কলম : আজ বিলুপ্তপ্রায়

মোহাম্মদ ছয়েফ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৪-২০১৮ ইং ২৩:৪৬:৫১ | সংবাদটি ১৬৬ বার পঠিত

আজ কাল ঝরনা কলম খুব একটা চোখে পড়ে না। স্কুল-কলেজ, অফিস, আদালতে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। নানা প্রকার ‘বল পয়েন্ট পেন’ এর স্থান দখল করে নিয়েছে। বল পয়েন্ট পেন ব্যবহারের পর আর কাজে লাগে না। অর্থাৎ কালি শেষ হয়ে গেলে এটা ফেলে দিতে হয়। এগুলোর মধ্যে আবার ভেজাল আছে। যেগুলো ভালো বাজার পায় সেগুলোর মধ্যে ভেজার ঢুকে পড়ে। ফলে ব্যবহারকারীরা ভোগান্তির শিকার হন। হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য এগুলো সহায়ক নহে।
এক সময় এ দেশের প্রায় সর্বত্রই ঝরনা কলম (ঋড়ঁহঃধরহ চবহ) ব্যবহৃত হতো। হিরো, পারকার, উইনসন ইত্যাদি নামের ঝরনা কলম বাজারে সহজলভ্য ছিলো। সুপরা, ইউথ, হিরো ইত্যাদি তরল কালির দোয়াত পাওয়া যেতো। বর্তমানে উক্ত কলম ও কালির দোয়াত সহজলভ্য নহে। বাজারে এগুলো নেই বললেই চলে। ঝরনা কলমে তরল কালি ভরে ব্যবহার করা যায়। কালি নিঃশেষ হলে পূনরায় ভরার সুযোগ আছে। ফলে একটি কলমে বার বার কালি ঢুকিয়ে দীর্ঘ দিন ব্যবহার করা যায়। হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য ঝরনা কলমের জুড়ি নেই। নবীন শিক্ষার্থীরা ঝরনা কলমের দ্বারা হাতের লেখা সুন্দর করতে পারে। ঝরনা কলম দ্বারা লিখিত দলিল দস্তাবেজ দীর্ঘ দিন অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর কালি তরল বিধায় লেখার পর কাগজের গভীর পৌঁছে। ফলে লেখনীটি কাগজ থেকে মুছে ফেলার সুযোগ থাকে না। ‘বল পয়েন্ট পেন’ এর লেখা অফসেট পেপার, আর্ট, পেপার কিংবা অন্য কোনো শক্ত কাগজ থেকে ধারালো ব্লেইড দ্বারা সহজে মুছা যায়।
ঝরনা কলম মাঝে মাঝে হালকা গরম পানি দ্বারা ধৌত করে দীর্ঘ দিন ব্যবহার করা যায়। এতে খরচ কম হয়। ঝরনা কলম আজ বিলুপ্তির দ্বার প্রান্তে। আমরা কি পূণরায় এর ব্যবহার শুরু করতে পারি না?

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT