শিশু মেলা

যুব গেমসে

ফাতিহা আইনুন দিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৪-২০১৮ ইং ০১:৪৫:১৩ | সংবাদটি ৯৪ বার পঠিত

দিনটি ছিল ১০ই মার্চ। শনিবার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন যুব গেমস ২০১৮। আমি সিলেট বিভাগের একজন দাবাড়– হিসেবে এ অনুষ্ঠানে যোগদান করলাম। খুব মজার অভিজ্ঞতা হলো আমার। আর সেই মজার অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করবো।
সেই অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমি ও আমার বাবা, মা ৮ মার্চ রাতের ট্রেনে রওনা হই। জিআরপি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আঙ্কেল আমাকে একটি এসি কামরার ব্যবস্থা করে দেন। ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। কিছুদূর যাওয়ার পর আমরা রাতের খাবার সেরে নিলাম। মা আমাদের জন্য চিকেন বিরিয়ানি রান্না করে নিয়েছিলেন। খাওয়া শেষ করে আমরা শুয়ে পড়লাম। ঘড়িতে তখন রাত ১২টা। মা ঘুমিয়ে পড়লেন। বাবাও নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু আমার আর ঘুম আসছে না কিছুতেই। শুয়ে শুয়ে ভাবছি সকাল হতেই আমার চাচাতো বোন রাইনার সঙ্গে দেখা হবে। ওরা থাকেন মীরপুরে। তার সাথে খেলা করব। চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যাব। অনেক পশুপাখি ইত্যাদি দেখবো। রাত ২টা বাজে। মা প্রচন্ড জোড়ে ধমক দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন। ঘুম ভাঙল টঙ্গি স্টেশনের কাছে এসে। টিটি কেবিনের দরজা নক করে বলছেন, ট্রেন টঙ্গি স্টেশনে ঢুকছে। যারা এয়ারপোর্ট নামবেন রেডি হন। আমি মোটা গেঞ্জি গায়ে দিয়ে নিলাম। কারণ ভোরবেলা শীত লাগবে বলে। অবশেষে ট্রেন এয়ারপোর্ট স্টেশন পৌঁছালে আমরা নেমে গেলাম। তখন মসজিদে ফজরের আজান দিচ্ছিল। বাবা বললেন ভোরের আলো না ফুটলে বের হওয়া যাবে না। কারণ ঢাকা শহরে ভোরবেলা ছিনতাই হয়। আমরা কিছুক্ষণ স্টেশনে অপেক্ষা করলাম। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই আমরা রওনা হলাম মিরপুর কমার্স কলেজের পিছনের গলিতে যে ১৬ তলা ভবনে। ভবনের নাম উদয়ন রক্তকরবি। লিফটের ৪নং টিপে ঢুকে পড়লাম। ব্যাস পৌঁছে গেলাম ৫ম তলায়। তারপর শুরু হলো রাইনার সাথে খেলা। ওর সাইকেল, মোটরকার চড়ে সারা বাড়ি হৈ চৈ করে বেড়ালাম। অবশেষে নাস্তা করে গোসল সেরে রওয়ানা হলাম চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে। ওখান থেকে ১৬ মিনিটের পথ। পৌঁছে গেলাম চিড়িয়াখানায়। প্রথমেই বানরের খাঁচা। তারপর বাঘ, সিংহ, গন্ডার, অজগর, ময়ূর, বক, কুমির, জিরাফ, জেব্রা, গাধা, জলহস্তি, হাতি ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে দেখলাম। দুপুর দেড়টায় চিড়িয়াখানা ত্যাগ করলাম। চাচার বাসায় দুপুরের খাবার সেরে রওয়ানা হলাম মতিঝিলের উদ্দেশ্যে। ফেডারেশনে রিপোর্টিং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে। ফেডারেশন থেকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হলো হোটেল মতিঝিলে। রুম নং ৩১৩। রাতের খাবার শেষ করে আমরা সিলেট ডিভিশনের ৪ জন দাবাড়– হাজির হলাম আমাদের টিম ম্যানেজারের রুমে। উনি আমাদের ব্রিফিং করলেন। এ দিন যা যা করতে হবে এবং অলিম্পিক এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রদান করা জার্সি দিলেন। সাথে সিলেট ডিভিশনের দুটো জার্সিও দিলেন। পরের দিন (১০ মার্চ) টুর্নামেন্ট শুরু হলো সকাল ১০ টায়। এক রাউন্ড খেলা হলো। আমি এক পয়েন্ট অর্জন করলাম। টিম ম্যানেজার আমাদের বললেন, দুপুরের খাবার সেরে সাড়ে ৩ টার মধ্যে আমাদেরকে স্টেডিয়াম গেইটে পৌঁছাতে হবে। সেখানে ৩ দফা চেক হলো। একজন লোক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার নাম কী, আমি কী খেলতে এসেছি, আমি কোথা থেকে এসেছি। এক পুলিশ আন্টিও আমাকে একইরকম প্রশ্ন করলেন। ৩ দফা চেক এর পর আমাকে ভিতরে যেতে দেওয়া হলো। লাইন ধরে আমরা কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলাম। আবার কিছুসময় বসেও থাকলাম। তারপর মেয়েদেরকে সামনে দেওয়া হলো। একজন আপু সামনে জায়গা ধরতে গিয়ে ধুম করে পড়ে গেলেন। তারপর আমাদের ব্যাচ দেওয়া হলো। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হলো অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুব অলিম্পিক উদ্বোধন করার পর আমাদের ওয়াক হলো। প্রথমে ঢাকা বিভাগের ওয়াক হলো। তারপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহের ওয়াক হলো। সর্বশেষে সিলেটের ওয়াক হলো। সকল বিভাগের ওয়াক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখলেন। তারপর আমাদের গ্যালারিতে বসতে দেওয়া হলো। তারপর শুরু হলো আসল অনুষ্ঠান। অভিনয় হলো, নাচ হলো, সাবিনা ইয়াসমিন গান করলেন। লেজার শো হলো। অনুষ্ঠান শেষে আমরা রুমে ফিরলাম। ১১ মার্চ ও ১২ মার্চ মিলে চার রাউন্ড খেলা হলো। আমার অর্জন ১/২ পয়েন্ট। ১৩ মার্চ সাত রাউন্ড খেলা হলো। টিম লিডার হিসেবে আমি চার পয়েন্ট পেলাম। ১৩ মার্চ রাতের ট্রেনে করে সিলেট ফিরে এলাম।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT