সম্পাদকীয়

পথশিশু দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৪-২০১৮ ইং ০১:৪৬:০৩ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত

দেশে জনসংখ্যার কতো অংশ শিশু, এ নিয়ে রয়েছে মত পার্থক্য। তবে সেভ দ্যা চিলড্রেনের তথ্য মতে জনগোষ্ঠীর ৩৯ দশমিক সাত শতাংশ শিশু। সে হিসেবে ১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি শিশু। এই শিশুদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে পথশিশু। আজ হচ্ছে বিশ্ব পথশিশু দিবস। পথশিশু অর্থাৎ ছিন্নমূল শিশুকিশোরদের পুনর্বাসন তথা তাদের জীবনমান উন্নত করার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষে দিবসটি পালিত হয়। জন্ম যাদের পথে, বেড়ে ওঠা পথে-এদের বলা হয় পথশিশু। এদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। শিক্ষা-দীক্ষা, খাদ্য, বাসস্থান বা চিকিৎসা কোনোটারই নিশ্চয়তা নেই এদের। সমাজের সকলের অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা এই পথশিশুদের টোকাই নামে অভিহিত করেছেন বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী। বিগত এরশাদ সরকারের আমলে এদেরকে ‘পথকলি’ বলেও ডাকা হয়। বিভিন্ন নামে ভূষিত এই পথ শিশুদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা সমাজ ও রাষ্ট্র।
পথশিশুদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, দেশে পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় চার কোটি। এরমধ্যে কমপক্ষে ৩২ লাখ পথশিশু। তাছাড়া, বাংলাদেশে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার খুবই কম। বিদ্যালয় বহির্ভূত ছয় বছর বয়সী শিশুদের প্রতি চারজনের একজন শিশু এখনও বিদ্যালয়ে যায় না। এদেরই একটা অংশ পথশিশু। দেশের ছোটবড় সব শহরেই রয়েছে পথশিশু। এদের আশ্রয় ফুটপাত, বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, মাজার, মন্দির, টার্মিনাল, রেলস্টেশনে। কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে পাওয়া তথ্য হচ্ছে, অর্থের অভাবে ৭৫ ভাগ পথশিশু চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না। অসুস্থ হলে তাদের ৫৪ ভাগের দেখাশোনার কেউ নেই। শহরাঞ্চলে বস্তির সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। সেই সঙ্গে বাড়ছে ছিন্নমূল পরিবারের সংখ্যা। তার মধ্যে বাড়ছে পথশিশুর সংখ্যাও।
পথশিশুরা পথেই থাকে; তাদের নেই অভিভাবক। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এই পথশিশুদের অনেকেই নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ে লিপ্ত হচ্ছে। জরিপের তথ্য হচ্ছে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরা মাদক চোরা-চালানের বাহক হিসেবে কাজ করে। চুরি, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত এই পথশিশুরা। আর মাদক, চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত পথশিশুরাই এক পর্যায়ে ভয়ঙ্কর অপরাধী সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়। তাছাড়া ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পথশিশুরা। এদের নোংরা অপরিচ্ছন্ন স্থানে ঘুমিয়ে রাত কাটাতে হয়। হোটেল রেস্তোরায় পঁচাবাসি খাবার যা ডাস্টবিনের নোংরা খাবারও এদের খেতে হয়। তাই এরা আক্রান্ত হয় নানা ধরনের রোগে। অনেক পথশিশু জড়িয়ে পড়ছে ভিক্ষা বৃত্তিতে।
পথশিশুদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় এই ধরনের উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে নেয়া হলেও তার তেমন কোনো সফলতা নেই। ইতোপূর্বে এরশাদ সরকারের আমলে পথশিশুদের লেখাপড়ার জন্য পথকলি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় বিভিন্ন শহরে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়গুলোর প্রতি সরকারের নজর নেই বললেই চলে। অভিভাবকহীন হয়ে বেড়ে ওঠা এই শিশুদের অভিভাবক হয়ে দাঁড়াতে হবে রাষ্ট্রকেই। এদের ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারি উদ্যোগে। বিভিন্ন শহরে যেসব শিশু সদন, অনাথ আশ্রম ইত্যাদি রয়েছে এগুলো যাতে পথশিশুদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়, সেই উদ্যোগ নিতে হবে। ইতোপূর্বে পথশিশুদের শেল্টার হোম-এ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় সরকার। অথচ রাজধানীতে এই শেল্টার হোম চালু হলেও জেলা পর্যায়ে এখনও চালু হয় নি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT