উপ সম্পাদকীয়

পরিবেশ দূষণ

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৪-২০১৮ ইং ০১:৪৭:৩৬ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত

আনন্দোজ্জল সুস্থ সবল হয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে চায়। যদি কোনো কারণে সেই স্বাস্থ্যরক্ষায় পরিবেশ প্রধান বাঁধা হয়ে ওঠে এবং পরিবেশে যদি কোন অর্থে অনভিপ্রেত অনুপ্রবেশ ঘটে এবং মানুষের জীবন রক্ষার অযোগ্য হয়ে ওঠে তখন সেই পরিবেশ দূষণ হয়।
সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার অন্তরায় হলো পরিবেশ দূষণ। নানা কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানি, বায়ু ও মাটির ওপরে প্রচন্ড চাপ পড়ছে। এতে পরিবেশও দূষণ হচ্ছে। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য কল-কারখানা। রাস্তায় চলছে অগণিত অসংখ্য যানবাহন। এসবের ধোঁয়া পরিবেশকে দূষিত করছে।
গ্রামাঞ্চলে পুকুর নর্দমায় কচুরীপানা পঁচে এবং মানুষ রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলে দিয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অস্বাস্থ্যকর পায়খানা এবং পানি ব্যবহার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। তাছাড়া রাসায়নিক কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণেও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মানুষের জীবনে পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। পরিবেশই মানুষকে লালন করে। সুন্দর ও নির্মল পরিবেশ সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য। সে পরিবেশ যদি দূষিত হয়ে পড়ে তাহলে আমাদের সবার জীবন ধ্বংসের মুখোমুখি হয়।
সুজলা সুফলা কৃষি ভিত্তিক জীবনে মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রেমী। কিন্তু সীমিত ভূখন্ড এবং দুর্যোগ প্রবণ এদেশের প্রকৃতি পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। পরিবেশের অন্যতম উপাদান মাটি। উদ্ভিদ জগৎ আমাদেরকে প্রত্যক্ষ ভাবে এবং প্রাণী জগৎকে পরোক্ষভাবে রক্ষা করে। কিন্তু অত্যধিক ফলন রাসায়নিক সার প্রয়োগে এবং বর্জ্য পদার্থের কারণে মাটির স্বাভাবিকত্ব নষ্ট হচ্ছে। এতে মাটিও হারিয়ে ফেলছে স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা।
জীবন ধারনের জন্য পানি এবং পরিশুদ্ধ বায়ু অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু বায়ু দূষণে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রচন্ডভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মানব শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা রকম প্রতিক্রিয়া। একইভাবে পারমানবিক তেজস্ক্রিয়তা ধীরে ধীরে আনছে মৃত্যুর বার্তা।
পানির ওপর নাম জীবন। অথচ বাযুর মতো পানিও দিন দিন মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বিভিন্ন কল-কারখানায় ব্যবহৃত দূষিত নোংরা পানি এসে পড়ছে নদীর বুকে। পানি হারিয়ে ফেলছে তার পান যোগ্যতাকে। ফলে সে উৎপাদন করতে পারছে না আগের মতো জলজ প্রাণীদের। বর্তমান সভ্যতার কাছে পানি এবং পরিবেশ দূষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান খুবই প্রয়োজন।
পরিবেশ রক্ষায় যদি পরিবেশ অধিদপ্তর যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চালায় তাহলে আমরা পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকতে পারবো। তাছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ কেবল সরকার বা ব্যক্তি বিশেষের না। এ দায়িত্ব সকলের এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের। সর্বোপরি পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে যা গ্রহণ বা প্রয়োজন তার সবই করতে হবে আমাদেরকে।
পরিবেশ দূষণ মানব সভ্যতার জন্য ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসছে। তাই বলে হাত-পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। এর প্রতিকার আমাদের জনগোষ্ঠীর করতে হবে। সরকারিভাবে হউক বা বেসরকারিভাবেই হউক সর্বত্র সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমস্ত শক্তি দিয়ে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। তাহলে আমরা পেতে পারি দূষণমুক্ত পরিবেশ।
লেখক : গল্পকার

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শান্তি সুখের সন্ধানে
  • কী চাই, কী চাই না
  • প্রসঙ্গ : প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি বিরোধী অঙ্গীকার
  • সাংবাদিক কামরুজ্জামান চৌধুরী
  • প্রাইভেট টিউশন বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি
  • ফসল রক্ষা বাধ ও নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা
  • সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
  • রেল ভ্রমণ কবে স্বস্তিদায়ক হবে
  • অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান
  • পৌষ সংক্রান্তি
  • আল্লামা ফুলতলীর রাজনৈতিক দর্শন
  • নতুন বছরের অর্থনীতি
  • এই কথাটি মনে রেখো
  • হকারমুক্ত ফুটপাত চাই
  • পড়িলে বই আলোকিত হই
  • গ্রামীণ নাগরিক সুবিধা প্রসঙ্গ
  • বিশ্বব্যবস্থা ক্রান্তিকাল ও নিরাপদ পৃথিবীর প্রত্যাশা
  • তুরস্ক-রাশিয়া সম্পর্ক ও পশ্চিমাবিশ্ব
  • শিক্ষার মৌলিক পরিবেশ
  • দেশপ্রেমিক ধর্মগুরু স্বামী বিবেকানন্দ
  • Developed by: Sparkle IT