সম্পাদকীয় যারা কাজ করতে চায় না, তারাই উদ্দেশ্যকে ফলাও করে তোলে; যথার্থ কাজ করতে গেলেই লক্ষ্যকে সীমাবদ্ধ করতে হয়। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাড়ছে ক্যান্সার রোগী

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৪-২০১৮ ইং ০১:৪৯:০৮ | সংবাদটি ৩৬ বার পঠিত

বাড়ছে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছেন, যারা জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে মারা যাচ্ছেন প্রায় দেড় লাখ। যাদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বছরে ৫০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়। আড়ালে থেকে যায় আরও প্রায় আড়াই লাখ রোগী। জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট পরিচালিত গবেষণায় জানা গেছে-পুরুষদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার রোগী সবচেয়ে বেশি। আর নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্তন ক্যান্সারের রোগী। এছাড়া, পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যান্সার, পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সারের রোগী তুলনামূলকভাবে বেশি। আবার নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের পরই সবচেয়ে বেশি জরায়ুর ক্যান্সার ও গলব্লাডারের ক্যান্সার। বিশেষজ্ঞগণ ক্যান্সারে জন্য মূলত তামাক, দূষণ, অনিরাপদ খাদ্যাভ্যাস ও জীবন ধারাকেই দায়ী করছেন। খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়।
নানা চড়াই-উৎরাই, উত্থান-পতন আর বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় মানুষের জীবনধারা। অসুখ-বিসুখ হচ্ছে তেমনি একটি বিপত্তি। যা জীবনচলার গতি অনেক সময় আটকে দেয় মাঝপথে। কখনও জীবনের গল্প শুরু না হতেই জীবনকে স্তব্ধ করে দেয় কোন ঘাতক ব্যাধি। ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি হিসেবেই পরিচিত। অতীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের আগে মানুষ ক্যান্সার সম্বন্ধে অবগতই ছিলো না, চিকিৎসা তো দূরের কথা। গবেষণার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষ জানতে পারে ক্যান্সার সম্বন্ধে। ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে কিছু কিছু কারণ উদঘাটন করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে মানবদেহ তৈরী যেসব কোষ দিয়ে সেগুলো প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে, আবার নতুন নতুন কোষ জন্ম হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অস্বাভাবিক কোষ জন্ম হতে পারে। যদিও এই অস্বাভাবিক কোষ ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে মানবদেহে। যদি কোন কারণে সেই কোষ ধ্বংস না হয় তবে তা থেকে নতুন ধারার কোষের জন্ম হয়। যাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। আর এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ থেকেই জন্ম হয় ক্যান্সারের।
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনাচারে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যায়। দৈনন্দিন চলাফেরা, আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধুমপান ও তামাকের ব্যবহার, বিয়ে ও বাচ্চা নেয়ার সঠিক সময়, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো, শিল্প কারখানা ও পরিবেশগত কিছু কারণ, অন্যান্য কিছু রোগ, ভাইরাস জীবাণু-এগুলোর সঙ্গে অনেক ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে। আবার কিছু কিছু ক্যান্সার আছে, যেগুলো বংশগত ও জন্মগত কারণে হতে থাকে। উল্লিখিত বিষয়ে সতর্ক থাকলে এক তৃতীয়াংশ ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা যায় বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। আর বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ক্যান্সার সরাসরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; তবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেও প্রতিকার করা সম্ভব। এর জন্য জরুরী হচ্ছে সচেতনতা। ব্যক্তি পর্যায়ে তো অবশ্যই, সামাজিকভাবেও যাতে সচেতনতা গড়ে ওঠে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে দরকার সরকারীভাবে ব্যাপক প্রচারণা।
কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যেহেতু ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল, তাই ক্যান্সার যাতে না হয় সেদিকেই নজর দিতে হবে বেশি। দেশের বেশীর ভাগ রোগীর পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। তাদের পরিণতি বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গোনা। আর সম্পদশালীরা দেশে বা বিদেশে গিয়েও উন্নত চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাছাড়া, আমাদের দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসাও খুব একটা উন্নত হয়নি। সেই সঙ্গে আছে চিকিৎসায় ত্রুটির অভিযোগ। দেশে ক্যান্সারের উন্নত ও স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। সর্বোপরি সর্বাত্মক সচেতনতা সৃষ্টি করে সকলের মধ্যে ক্যান্সারকে মোকাবেলা করার মানসিক ও শারীরিক শক্তি জাগিয়ে তুলতে হবে। আর এই দায়িত্ব সরকারের যেমন, তেমনি সচেতন মহলেরও।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT