ধর্ম ও জীবন

নিয়ামত যখন বাড়িয়ে দেয়া হয়

মুহাম্মদ ইমদাদুল হক ফয়েজী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৪-২০১৮ ইং ০১:৫৭:০২ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত

কুরআন কারীমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি’। (সূরা : ইসরা, আয়াত : ৭০)
অনত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে’। (সূরা : ত্বীন, আয়াত : ৪)
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাকি সৃষ্টকুল মানুষের সেবা, উপকারার্থে সৃষ্টি করেছেন। চাই মানুষ আল্লাহর অনুগত হোক বা অবাধ্য। অবশ্য আল্লাহর কাছে তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য পরকালীন জীবনে যা রয়েছে তা অনেক শ্রেষ্ঠ। কুরআন পাকে ইরশাদ হচ্ছে, ‘মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালোবাসা- ‘নারী, সন্তানাদি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদিপশু ও শস্যক্ষেত। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগ সামগ্রী। আর আল্লাহ, তার নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।’ (সূরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪)
করুণাময় প্রভুর দয়া, অনুগ্রহ যদি শুধুমাত্র তার অনুগত বান্দাদের মধ্যে সীমিত থাকতো, তবে আজ অনিন্দ্য সুন্দর এ বসুন্ধরা কেবলমাত্র তার অনুগত বান্দাদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকতো। মুসলিম-অমুসলিম, মুত্তাকি-পাপী সবার পার্থিব জীবনে আল্লাহর দয়া অনুগ্রহ উন্মুক্ত, অফুরান। আর এ জন্যেই তিনি রাহমান।
আমাদের সৃষ্টির অস্তিত্ব থেকে নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত, ক্ষণ-অনুক্ষণ আমরা আপাদমস্তক আল্লাহর নিয়ামাতরাজির মধ্যে ডুবে আছি। আসলে এসব নিয়ামাত আমাদের কষ্টার্জিত নয়; না চাইতেই পেয়ে গেছি, তাই আমাদের বিবেক, হৃদয়ে টনক নড়ে না। আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবি না। অথচ আমরা যদি আল্লাহ তা’আলার প্রদত্ত একটা নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনার্থে গোটা জীবন সেজদায় পড়ে থাকি তবুও তা যথেষ্ট হবে না। আমাদের একটু চিন্তা, আমাদের জীবনে আল্লাহর আরোও অনেক অনেক অনুগ্রহ প্রাপ্তির দ্বার উন্মোচন করে দিতে পারে। আল্লাহ তা’আলা বলেন- তোমরা আমার নিয়ামতরাজির কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো, আমি অবশ্যই অবশ্যই তোমাদের জন্য নিয়ামাত বাড়িয়ে দেবো।’ (সূরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)
আল্লাহর এ নির্দেশ আমাদের শিক্ষা দেয় ছোট-বড় প্রতিটি নেয়ামত এর জন্য আল্লাহর দরবারে সন্তুষ্টচিত্তে শোকরিয়া আদায় করা। মহান প্রভু যেসব নিয়ামত দিয়ে আমাদেরকে সৌভাগ্যবান করেছেন, এর সবগুলোকেই আমরা শুকরিয়া জ্ঞাপনের মাধ্যমে সিক্ত করা। উদাহরণস্বরূপ সুস্থতার জন্য প্রথমত আন্তরিকতার সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং সময়কে অযথা নষ্ট না করে আল্লাহর ইবাদাতে ব্যয় করা। ধনাঢ্যতার জন্য তদ্রুপ সর্বাগ্রে আন্তরিকতার সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং সামর্থ্যানুযায়ী ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করা। এরূপ সকল ক্ষেত্রেই। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চাহিদাও তাই। অর্থাৎ প্রতিটি নিয়ামতকে তার চাহিদা ও দাবি অনুযায়ী প্রয়োগ ও মূল্যায়ন করা। আবার এ কথার অর্থ এই নয় যে- অসুস্থতা, দারিদ্র্যতা বা অন্য কোনো কষ্টকর অবস্থার সম্মুখীন হলে শোকরিয়া আদায় করতে হবে না। না, বরং ইসলামের শিক্ষা হলো সুখ-দুঃখ, স্বচ্ছলতা-দারিদ্র্যতা, সুস্থতা-অসুস্থতা তথা সর্বাবস্থায় শোকরগুজার থাকা। এ বিষয়ে হযরত নবীজি (সা.) এর আদর্শ হলো- ‘আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল’ তথা সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। অর্থাৎ সুখে-দুঃখে জীবনের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। এর দ্বারা উপকারও আমাদের। আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, পাশাপাশি নিয়ামত বাড়িয়ে দেবেন। এর বিপরীতে রয়েছে কঠোর হুশিয়ারি। আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেন- ‘যদি তোমরা আমার নিয়ামতরাজির অস্বীকার করো, তবে জেনে রাখো নিশ্চয় আমার শাস্তির বিধান অবশ্যই কঠিন’। (সূরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)
আল্লাহ তা’আলা সর্বাবস্থায় আমাদেরকে তার শোকরগোজার বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রাখুন। আমীন ॥

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT